ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে বিদেশি নম্বরে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ৭

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে বিদেশি নম্বরে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ৭
×

ছবি: সমকাল

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:০৮ | আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:০০

চট্টগ্রামে বিদেশি নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি পৃথক চাঁদাবাজ চক্র গড়ে তুলেছিলেন। তারা বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে বড় সাজ্জাদ, রায়হানসহ পরিচিত সন্ত্রাসীদের পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করতেন।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। এমনকি পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা পাওয়া যাবে না বলে ভয় দেখানো হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার দিবাগত রাত ২টা থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা হাটহাজারী, নগরের বায়েজিদ বোস্তামী ও খুলশী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয় বলে জানায় জেলা পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০), আহমদুল্লাহ প্রকাশ মাসুম মেম্বর (৪০), আহমদ রেজা শাকিল (২৫), মো. মানিক (৪০) ও নুরুল আলম (৪০)।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার এক চিকিৎসককে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একইভাবে বড়দিঘীর পাড় এলাকার এক ব্যবসায়ীকেও বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।

এসব ঘটনার পর জেলা পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে বলে জানান পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ফোনকল ও যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি গোপন সূত্রে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। আগে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমন ও কালা মোবারককে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে বিদেশি নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করতেন। তারা যাদের টার্গেট করতেন, তাদের সম্পর্কে আগে তথ্য সংগ্রহ করতেন। এরপর ডেভিড ইমন, কালা মোবারক, বড় সাজ্জাদ ও রায়হানের মতো পরিচিত সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে তাদের ভয় দেখানো হতো।

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিজেদের পৃথক চাঁদাবাজ চক্র গড়ে তুলেছিলেন। অভিযানে চারটি মুঠোফোন ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ডাকাতির প্রস্তুতি, অপহরণ ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন

×