ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সরঞ্জামাদির অভাবে দাঁতের চিকিৎসা পাচ্ছে না রোগী

সরঞ্জামাদির অভাবে দাঁতের চিকিৎসা পাচ্ছে না রোগী
×

ছবি- সংগৃহীত

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০২:৪২

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দাঁতের দুজন চিকিৎসক থাকলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে মিলছে না পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা। দাঁতের জটিল রোগের চিকিৎসা তো দূরের কথা, অনেক সময় প্রাথমিক চিকিৎসা দিতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে চিকিৎসকদের। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলায় হতাশ রোগীরা। সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও চেম্বারে ছুটছেন তারা।

সরেজমিন দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দাঁত বিভাগে দুজন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। তবে ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্ট (দাঁত) পদটি শূন্য রয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট ও বেশ কিছু যন্ত্রপাতি বিকল থাকায় চিকিৎসকদের দক্ষতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দাঁত চিকিৎসাকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে অচল। দাঁতের এক্সরে (আইওপিএ) মেশিন, স্কেলিং মেশিন, রুট ক্যানেল চিকিৎসার সরঞ্জাম, সাকার মেশিন ও আধুনিক ডেন্টাল চেয়ারসহ প্রয়োজনীয় নানা যন্ত্রপাতি নেই। ফলে স্থায়ী ফিলিং, স্কেলিং, রুট ক্যানেল, দাঁতের জটিল সংক্রমণসহ বিভিন্ন চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা পৌর এলাকার বাসিন্দা জসিম শিকদার বলেন, ‘দাঁতের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলাম। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারিনি। ডেন্টাল চেয়ারে সমস্যা থাকায় শেষ পর্যন্ত বেসরকারি চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দাঁতের চিকিৎসার জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা জরুরি। জায়গাটির পরিবেশও সন্তোষজনক নয়।’

মাধবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে দাঁতের বিভাগটি দ্রুত আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। বিকল যন্ত্রপাতি মেরামতের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালুর দাবি জানান তিনি।

দন্ত বিভাগের সহকারী ডেন্টাল সার্জন নিবেদিতা রায় বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিতেও সমস্যায় পড়ছি। ডেন্টাল চেয়ারসহ অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট। বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইমরুল হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এখানে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। তবে জটিল চিকিৎসা এখন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ডেন্টাল এক্সরে, সাকার মেশিনসহ আরও উন্নত যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। যন্ত্রপাতি মেরামত ও একজন টেকনিশিয়ানের জন্য আবেদন করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন

×