চিরকুট লিখে ১৫ দিন ধরে নিখোঁজ স্কুলছাত্র
আরিফুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:১৪
‘আমার জন্য সবাই দোয়া করবে, যেন আমি যেখানে থাকি ভালো থাকি। আর কেউ আমাকে খোঁজার চেষ্টা করবে না।’ এমন কথা লিখে গেছে মানিকগঞ্জের নবম শ্রেণির স্কুলছাত্র মো. আরিফুল ইসলাম। বিদ্যালয়ে নিবন্ধন ফরম জমা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর গত ১৫ দিন ধরে তাঁর কোনো সন্ধান নেই। ছেলের খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।
আরিফুল মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের গোপালপুর ভাদুটিয়া গ্রামের মো. সামসুল ইসলামের ছেলে। ছেলের সন্ধান চেয়ে সদর থানায় জিডি করেছেন সামসুল ইসলাম।
জিডি এবং পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট বিকেলে নিবন্ধন ফরম জমা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় আরিফুল। এরপর সে আর ফেরেনি। বের হওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে একটি অ্যান্ড্রয়েড ও একটি বাটন ফোন ছিল। তবে দুই ফোনের সিম সে খুলে রেখে যায়।
চিঠিতে পরিবারের উদ্দেশে আরিফুল লিখেছে, ‘আমার জন্য দোয়া করবে, যেন আমি যেখানে থাকি ভালো থাকি। আর কেউ আমাকে খোঁজার চেষ্টা করবে না। আর আমাকে খুঁজেও কোনো লাভ হবে না। কারণ, আমি যেখানে আছি সে জায়গা সম্পর্কে কারোর কোনো ধারণাই নাই। আর আমার জিনিসপত্রের একটু যত্ন নিও। কেউ যদি ব্যবহার করতে চায় করুক। কাউকে না বলবা না। আর মা আমার ঘরটা অন্তত পরিষ্কার রাখবে। আমি চেষ্টা করেছিলাম আমার মায়ের ভালো ছেলে হয়ে থাকতে। কিন্তু পারিনি। হয়তবা এটা আমার ব্যর্থতা।’
এসব বিষয়ে আরিফুলের বাবা সামসুল ইসলাম বলেন, আরিফুলের আচরণ ও পড়াশোনা নিয়ে কোনো অস্বাভাবিকতা নজরে আসেনি। তবে সে কেন বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি, সে বিষয়ে ধারণা নেই। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সে সিম দুটি খুলে রেখে যাওয়ার পাশাপাশি তাঁর রেখে যাওয়া চিঠির বক্তব্যও আমাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আমার ছেলে কোথায় আছে, কার সঙ্গে আছে কিছুই জানি না। অনেক জায়গায় খুঁজেছি। এখন পুলিশ যদি দ্রুত তাঁকে খুঁজে বের করতে পারে, সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম বলেন, ওই ছাত্রের নিখোঁজের বিষয়টি তারা জেনেছেন। ছেলেটি খুবই মেধাবী। নিখোঁজের বিষয়ে তারাও মর্মাহত।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, পরিবারে ছেলেটির সৎমা রয়েছেন। পারিবারিক নিগৃহ বা বঞ্চনার কারণে কিশোরটি বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে পারে। আত্মীয়-স্বজন এবং পরিচিতজনদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে তাঁর অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আরিফুলের বাবা সামসুল ইসলাম ছেলের সন্ধান চেয়ে গত মঙ্গলবার একটি জিডি করেছেন।