ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণিল ইতিহাস উৎসব

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণিল ইতিহাস উৎসব
×

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার ঐতিহ্য উৎসবে শিক্ষার্থী ও অতিথিরা সমকাল

 বেরোবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩১

| প্রিন্ট সংস্করণ

সমৃদ্ধ অতীতকে চেনা এবং ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সুমহান ধারাকে নতুন প্রজন্মের কাছে জীবন্তভাবে তুলে ধরতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) দিনব্যাপী ‘ঐতিহ্য উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে উদযাপনের এ আয়োজনে ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার তৃতীয় তলায় ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ফিতা কেটে আয়োজনের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।

এবারের উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য ছিল–‘অতীতকে দেখা, ইতিহাসকে যাপন করা এবং সংস্কৃতিকে আস্বাদন করা’। আনন্দোৎসবের মূল থিম হিসেবে বিশ্ব সভ্যতার দীর্ঘ ও রোমাঞ্চকর ইতিহাসকে ফুটিয়ে তোলা হয়। উৎসব প্রাঙ্গণে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার রহস্যময় উপাদান, যেমন–রানী নেফারতিতির প্রতিকৃতি ও তুতেনখামেনের মমির ডামি প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে। অন্যদিকে এর পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য, মধ্যযুগীয় মসজিদ, প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজের নমুনা ও ঐতিহ্যবাহী লোকজ জীবনের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। এতে পুরো আয়োজনস্থলটি যেন ইতিহাস ও দেশীয় সংস্কৃতির এক জীবন্ত জাদুঘরে রূপ নেয়।

উৎসবের অন্যতম দৃশ্যমান আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের বাহারি ও প্রথাগত পোশাকের মেলবন্ধন। ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রাচীন প্রথাসিদ্ধ ও দেশীয় বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে উৎসবে অংশ নেন।
ঘুরতে আসা সাধারণ শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ক্লাসরুমের বইয়ের পাতার ইতিহাসকে এভাবে চোখের সামনে বাস্তব রূপ পেতে দেখা সত্যি অসাধারণ অনুভূতি। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের ইতিহাস জানার আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দেবে।

ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সারজিদা আক্তার বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রত্নতত্ত্বের প্রকৃত গুরুত্ব সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা। ইতিহাস কেবল বইয়ের পাতায় বন্দি কোনো বস্তু নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় পরিচিতির মূল শিকড়।’
উৎসবের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক ও বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সোহাগ আলী জানান, শিক্ষার্থীরা যেন পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব সম্পর্কে সরাসরি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে, সেই লক্ষ্যে এ উৎসবের সূচনা। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের শিক্ষণীয় আনন্দোৎবের আয়োজনের ইচ্ছা রয়েছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী আয়োজকদের প্রশংসা করে বলেন, ‘ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ভুলে কোনো জাতি কখনও বৈশ্বিক দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। আমাদের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বিশ্ব সভ্যতার বিকাশ ও দেশীয় সংস্কৃতিকে একই মঞ্চে অত্যন্ত সৃজনশীলভাবে উপস্থাপন করেছে। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি তাদের নিজ নিজ শিকড়কে চিনতে গভীরভাবে সহায়তা করবে।’

আরও পড়ুন

×