ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খামারি আলাল মিয়া এখন মাটি কেটে সংসার চালান

খামারি আলাল মিয়া এখন মাটি কেটে সংসার চালান
×

মাটির বোঝা মাথায় নিয়ে যাচ্ছেন আলাল মিয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ শহরের স্টেশন রোড এলাকায় সমকাল

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫১ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৪০

| প্রিন্ট সংস্করণ

বছর খানেক আগেও মুরগির খামার ছিল আলাল মিয়ার। দিনে ডিম বিক্রি করে তাঁর আয় হতো প্রায় তিন হাজার টাকা। বার্ড ফ্লুর ধাক্কায় সেই খামারের ১০০ লেয়ার মুরগি মারা যায় রাতারাতি। ক্ষতি কমাতে বাকি ২০০ মুরগি বিক্রি করে দেন। বিপুল টাকা লোকসান গুনে খামার বন্ধ করে দিতে হয় কিশোরগঞ্জ সদরের এই ব্যক্তির। এখন ঋণের চাপে বাধ্য হয়ে মাটি কাটা শ্রমিকের কাজ করছেন আলাল।

গতকাল বৃহস্পতিবার শহরের স্টেশন রোডের একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে পাওয়া যায় আলাল মিয়াকে। তিনি সদর উপজেলার বৌলাই ইউনিয়নের আজিমের বাজার এলাকার বাসিন্দা। স্ত্রী আর দুই সন্তানের দৈনন্দিন খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। এর সঙ্গে রয়েছে ঋণ শোধের চাপ।

আলাল মিয়া বলেন, মাটি কেটে দৈনিক ৭০০ টাকা পাওয়া যায়। তাও সব সময় কাজ থাকে না। বর্তমানে বাজারে সবকিছুর দাম বেশি। সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য আয় দিয়ে সংসারের সব চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না।

বাড়ির পাশে আলালের ৩০০ লেয়ার মুরগির খামার ছিল। দিনে অন্তত ২৯০টি মুরগি ডিম দিত জানিয়ে তিনি বলেন, ১০ টাকা পিস ডিম বিক্রি করে দৈনিক আসত দুই হাজার ৯০০ টাকা। খামার থেকে মোটামুটি ভালো লাভ আসত। এক বছর আগে বার্ড ফ্লু হয়ে ১০০ মুরগি মরে গেল। ক্ষতি কমাতে বাকি ২০০ মুরগি বিক্রি করে দেন। এতে এক লাখ টাকা লোকসান হয়। সেই সঙ্গে ফিডের দোকানে বাকিসহ বিভিন্ন জায়গায় কিছু ঋণ ছিল। খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি আশা নামে এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কিছু পাওনা পরিশোধ করেছেন। এখন মাথায় তাঁর সেই ঋণ ও সংসারের ডাবল বোঝা।

আলালের দুই ছেলে। বড় ছেলের বয়স পাঁচ। ছোট ছেলের দুই। বড় ছেলেকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন, সেখানেও খরচ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, সংসারের চাকা ঘোরাতে খুব বেগ পেতে হচ্ছে। এখন বাধ্য হয়ে মাটি কাটার কাজ করেন। অথচ তাঁর মুরগির খামার করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। পুঁজির অভাবে নতুন করে কোনো উদ্যোগ নিতে পারছেন না। 

আরও পড়ুন

×