ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নওগাঁর আত্রাই

খুঁটি রেখেই চলছে সড়ক পাকাকরণ, দুর্ঘটনার শঙ্কা

খুঁটি রেখেই চলছে সড়ক পাকাকরণ, দুর্ঘটনার শঙ্কা
×

আত্রাই উপজেলার ব্যস্ততম ভবানীপুর বাজারে মূল প্রবেশ পথের সামনের সড়কের মাঝখানে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই চলছে পাকা ঢালাইয়ের কাজ। ছবিটি সম্প্রতি তোলা-সমকাল

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:৫৬

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ব্যস্ততম ও ঐতিহ্যবাহী ভবানীপুর বাজারে সড়কের একদম মাঝখানে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই চলছে পাকা ঢালাইয়ের কাজ। খুঁটিটি অপসারণের জন্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে একাধিকবার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে লিখিত আবেদন ও ধরনা দিয়েও মেলেনি কোনো প্রতিকার। ফলে চরম জনভোগান্তি আর যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভবানীপুর হাটবাজার ইজারাদারের অন্যতম অংশীদার রফিকুল ইসলাম চঞ্চল জানান, সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার এ বাজারে বড় হাট বসে। হাটে ধান, চাল, ভুট্টা, গম, সরিষাসহ বিপুল পরিমাণ নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং কৃষিপণ্য কেনাবেচা হয়। প্রতিদিনের লোকসমাগমের পাশাপাশি হাটের দিনে হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত থাকে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই হাটের মূল প্রবেশদ্বার এবং ভেতরের প্রধান সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখে ঠিকাদার ঢালাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। খুঁটিটি না সরিয়ে কাজ শেষ করা হলে হাটের কেনাবেচা ও যান চলাচল চিরতরে ব্যাহত হবে।

স্থানীয় ভ্যানচালক জামাল উদ্দীন আক্ষেপ করে বলেন, ‘এই সড়কের পাশেই শস্যের আড়তগুলো অবস্থিত। চাল-গম নিয়ে ভ্যান ঘোরানোই যায় না। ভেবেছিলাম, সড়ক পাকা হওয়ার সময় খুঁটিটি সরানো হবে। কিন্তু এখন দেখছি হাটের সেই গলার কাঁটা রেখেই ঢালাই দেওয়া হচ্ছে।’

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মেহেদি হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ইজারার মাধ্যমে প্রতিবছর সরকার এই হাট থেকে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করে। অথচ সাধারণ মানুষের সামান্য এই ভোগান্তি নিরসনে বিদ্যুতের একটি খুঁটি অপসারণের কোনো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।’

বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আরিফুজ্জামান লেবু জানান, সড়কের মাঝখান থেকে খুঁটি সরাতে দুই মাস আগে আত্রাই পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে লিখিত আবেদন করেছেন। একাধিকবার সরেজমিন গিয়ে তাগাদাও দিয়েছেন। পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে দুবার প্রতিনিধি পাঠিয়ে তদন্ত করা হলেও আজ পর্যন্ত খুঁটি সরানোর কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয় আহসানগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের হাট উন্নয়ন তহবিলের অংশ হিসেবে বাজারের অভ্যন্তরীণ এই সড়কটি ঢালাই করা হচ্ছে। আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে কয়েকবার বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এখনও কোনো সুরাহা মেলেনি।’

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘উন্নয়নকাজে এই ধরনের সমন্বয়হীনতা মেনে নেওয়া যায় না। সড়কের মাঝখানে খুঁটি রেখে ঢালাই দিলে জনভোগান্তি কমবে না বরং বাড়বে। দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁটি স্থানান্তরে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রশাসনিক তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।’

যোগাযোগ করা হলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আত্রাই শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জসিম উদ্দীন জানান, ‘খুঁটি অপসারণের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা এলাকাটি পরিদর্শন করেছি। আশা করছি, খুব দ্রুতই খুঁটিটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাস্তার সমস্যাটির স্থায়ী সুরাহা করা সম্ভব হবে।’

আরও পড়ুন

×