ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেয়ের জন্য বাঁচতে চান সজিব মিয়া

মেয়ের জন্য বাঁচতে চান সজিব মিয়া
×

মেয়ের সঙ্গে সজিব মিয়া

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:০৫

‘ছোট্ট মেয়েটার জন্য আমি বাঁচতে চাই। ওর মুখের দিকে তাকালে মনে হয়, আমার বেঁচে থাকা দরকার।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার সবুজপাড়ার বাসিন্দা সজিব মিয়া (২৮)। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে তিনি ক্রনিক কিডনি ডিজিজে ভুগছেন। বর্তমানে তাঁর দুই কিডনির কার্যক্ষমতা অনেক কমে গেছে। চিকিৎসকরা কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ চিকিৎসায় সর্বস্বান্ত পরিবারটির পক্ষে খরচ জোগাড় করা এখন অসম্ভব। তাই সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি সহায়তার অনুরোধ করেছেন।

২০১৭ সালে চিলমারী সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সময় প্রথম অসুস্থ হয়ে পড়েন সজিব। পরে কিডনির গুরুতর সমস্যা ধরা পড়ে। তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসার পথচলা। দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের সামর্থ্যের শেষটুকু দিয়ে ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালেও দুই দফা চিকিৎসা নেন। তবে চিকিৎসা চললেও ধীরে ধীরে কমতে থাকে তাঁর কিডনির কার্যক্ষমতা।

চিকিৎসক জানিয়েছেন, সজিবের বাঁ কিডনি ১১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ডান কিডনি ১৭ দশমিক ১ শতাংশ কাজ করছে। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত ডোনার পাওয়া গেলে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা এবং ডোনার না পাওয়া গেলে প্রায় ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

গাজীপুর ও ঢাকার তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন সজিব। তাঁর আয়েই সংসার চলত। সজিবের স্ত্রী গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজে মাস্টার্সে পড়াশোনা করছিলেন। স্বামীর অসুস্থতার কারণে বর্তমানে তাঁকেও পড়াশোনা ছেড়ে বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনটি গরু ও গাছপালা বিক্রি করা হয়েছে। বন্ধক দেওয়া রয়েছে প্রায় ৬ শতক জমি। বিভিন্ন এনজিও, ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে একবার ৫০ হাজার টাকা সহায়তা পেয়েছেন।

সজিব বলেন, ‘অসুস্থ হওয়ার পর পরিবারের যা কিছু ছিল, সবই চিকিৎসা করতে গিয়ে শেষ হয়ে গেছে। এখন আমার কোনো আয় নেই। চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছি না। তাই সমাজের বিত্তবান মানুষ, মানবিক সংগঠন ও দানশীল প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তার অনুরোধ করছি।’

সজিবকে সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা– ০১৬১৪-৭০০৪৫২ (সজিব মিয়ার ব্যক্তিগত রকেট নম্বর) এবং ০১৯৯৮-৪৫০৪৭০ (সজিবের স্ত্রীর ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর)।

আরও পড়ুন

×