ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাতিয়ার সেই বিদ্যালয়ে আবারও ঝাঁজালো গন্ধ, অসুস্থ ২০ শিক্ষার্থী

হাতিয়ার সেই বিদ্যালয়ে আবারও ঝাঁজালো গন্ধ, অসুস্থ ২০ শিক্ষার্থী
×

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীরা। ছবি-সমকাল

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:২২

নোয়াখালীর হাতিয়ায় শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ ঝাঁজালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ফের ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অসুস্থদের মধ্যে একজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নোয়াখালী জেলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। একই ঘটনায় এক অভিভাবক ও হাসপাতালের এক স্টাফও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

সোমবার দুপুরে উপজেলার তমরদ্দি জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ে ঝাঁজালো গন্ধে ২৭ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছিল।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর নবম শ্রেণির দুই ছাত্রী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর অন্য শ্রেণিকক্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। দুপুর ২টা পর্যন্ত ২০ শিক্ষার্থীকে সেখানে ভর্তি করা হয়।

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী মেডিকেল অফিসার বিমান চন্দ্র বলেন, দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালে ২০ শিক্ষার্থীকে আনা হয়েছে। তাদের সবাইকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে আসা একজন অভিভাবক ও হাসপাতালের একজন স্টাফও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন বলেন, প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে আরও কয়েকজন অসুস্থ হলে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বা অজ্ঞান হয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল ইসলাম নিলয় বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অবস্থা সংকটাপন্ন কি না, তা ১২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর বলা যাবে। অনেকের এখনও পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি। তাদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। রোগীর অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে শ্রেণিকক্ষে ঝাঁজালো গন্ধ থাকার বিষয়টি জানা গেছে। এর সঙ্গে পরিবেশগত বা মানসিক কোনো বিষয় থাকতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর বিদ্যালয় এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা ও আড্ডা বেড়ে যায়। এ সময় বিদ্যালয়ের আশপাশে মাদকসেবনসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের ঘটনাও ঘটে। এতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয় এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও টহল জোরদার করা হলে এ ধরনের ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন। এ সময় হাসপাতালে স্বজন ও সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ওসি কবির হোসেন বলেন, সংবাদ পাওয়ার পর তিনি হাসপাতালে এসেছেন। বিষয়টি বারবার কেন ঘটছে, তা চিকিৎসাবিষয়ক তদন্তের পাশাপাশি এখানে ফৌজদারি কোনো অপরাধ আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।

তবে শ্রেণিকক্ষে কী ধরনের ঝাঁজালো গন্ধ ছড়িয়েছিল এবং এর উৎস কী, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই বিদ্যালয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

আরও পড়ুন

×