ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাগ দিল সমকাল সুহৃদ

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাগ দিল সমকাল সুহৃদ
×

ছবি: সমকাল

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৩৩ | আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:১৪

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী শিলা আক্তার কয়েক মাস ধরে বাবার কাছে একটি স্কুল ব্যাগ চেয়ে আসছিল। কিন্তু সংসারের অভাবের কারণে দরিদ্র বাবার পক্ষে তা কিনে দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আতিকা জান্নাতের পুরোনো ব্যাগটি ছিঁড়ে যাওয়ার পর নতুন ব্যাগ কিনে দিতে পারেনি পরিবার। একই কারণে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী খাদিজারও জোটেনি একটি স্কুল ব্যাগ।

এমন পরিস্থিতিতে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের চকরথিনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে স্কুল ব্যাগ তুলে দিয়েছে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ বগুড়া জেলা। ‘অনার বাংলাদেশ’ নামে একটি মোবাইল কোম্পানির আর্থিক সহায়তায় মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে এসব ব্যাগ বিতরণ করা হয়। ব্যাগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দের ঝিলিক।

যমুনা নদীবিধৌত বিদ্যালয়টির ভবন গত ১৭ মে নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে হাটশেরপুর বাঁধের ওপর খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান। বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। ব্যাগ না থাকায় তারা বৃষ্টি-রোদ উপেক্ষা করে নদী পার হয়ে বই হাতে স্কুলে যাতায়াত করে। এতে মাঝেমধ্যে বই ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। নতুন বই সব সময় না পাওয়ায় ছেঁড়া বই দিয়েই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয় তাদের।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শিলা আক্তার বলে, বাবাকে কিছুদিন ধরে একটি ব্যাগ কিনে দিতে বলছিলাম। কিন্তু বাবা দেবেন বলেও দিতে পারছিলেন না। এখন ব্যাগ পেয়ে আমার অনেক ভালো লাগছে। বাড়িতে গিয়ে নতুন ব্যাগ বাবাকে দেখিয়ে চমকে দেব।

অন্য শিক্ষার্থীরাও নতুন ব্যাগ পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে। ব্যাগের পাশাপাশি তাদের মধ্যে কিছু খাবারও বিতরণ করা হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জিন্নাহ আলম জানান, ১৯১৯ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি এলাকার চরের শিশুদের জন্য শিক্ষার একমাত্র বাতিঘর। তবে নদীভাঙনের কারণে বিদ্যালয়টি এ পর্যন্ত ছয়বার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একবার ভাঙে, আবার গড়ে—এভাবেই চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৩। পরীক্ষায় তারা ভালো ফলাফলও করে। তবে দরিদ্র পরিবারের এসব শিক্ষার্থীর সবার জন্য জামা ও স্কুল ব্যাগ কিনে দেওয়ার সামর্থ্য নেই পরিবারের।

বগুড়া শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের বিদ্যালয়টিতে স্কুল ব্যাগ নিয়ে নদী পার হয়ে যান সুহৃদ সমাবেশের সদস্যরা। পরে তারা শিক্ষার্থীদের হাতে ব্যাগ তুলে দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুহৃদ সমাবেশ বগুড়া জেলার উপদেষ্টা ও সমকাল উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি লিমন বাসার, সমকালের বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত ব্যুরো প্রধান এস এম কাওসার, সুহৃদ সমাবেশ বগুড়ার সভাপতি আবু মোত্তালেব মানিক, সহসভাপতি শেখর রায়, সাধারণ সম্পাদক আসলাম হোসাইন, সমকাল বগুড়ার রিপোর্টার শাহনেওয়াজ ইসলাম শাওন, সুহৃদ মিজু আহম্মেদ, রফিকুল ইসলাম, তামিম, আব্দুর রউফ প্রমুখ। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন আমিনুল ইসলাম, আলমগীর কবির, বিজলী আক্তার, তানজিয়া সুলতানা ও নুর আলম।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, নদীভাঙনের কবলে পড়ে বিদ্যালয়টির পাঠদান বর্তমানে বাঁধের ওপর চলছে। বিদ্যালয়ের জন্য কিছুটা দূরে একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×