ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

করিম হত্যার পরিকল্পনা করা হয় রাউজানে: পুলিশ

করিম হত্যার পরিকল্পনা করা হয় রাউজানে: পুলিশ
×

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:২৪

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় আলোচিত মোহাম্মদ করিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান। তাঁর ভাষ্য, মোটরসাইকেল চুরিতে জড়িত থাকার সন্দেহে মোহাম্মদ করিমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় রাউজানে। পরে তাঁকে কৌশলে ডেকে নেওয়া হয় সাতকানিয়ার কেরানিহাট বাজার এলাকায়। সেখানে গত ৩ সেপ্টেম্বর গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। 

জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন– রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের মো. সেলিম (৫০), সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭), মো. জাবেদ (২৮) ও মো. আলামিন (২৯)। তাদের কাছ থেকে দেশি তৈরি একটি লোহার এলজি, একটি এয়ারগান, ১২ বোরের দুই রাউন্ড সিসা কার্তুজ, একটি চাপাতি ও একটি লোহার গ্রিল কাটার যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিহত মোহাম্মদ করিম রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি থাকতেন নগরীর আমান বাজার এলাকায়। তাঁর বিরুদ্ধে চুরি, মাদক, ডাকাতি, ছিনতাইসহ ১০টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের মামলার অন্যতম আসামি মো. পারভেজ এখনও পলাতক। তাঁর বিরুদ্ধে রাউজানসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, নারী ও শিশু নির্যাতন, বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আলাদা মামলা করা হয়েছে।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাতে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে পারভেজ নামে এক ব্যক্তির মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি যায়। এজন্য করিমকে সন্দেহ করেন পারভেজ। মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার জন্য করিমকে চাপ দেওয়া হলেও তিনি দাবি করেন, এই চুরিতে তিনি জড়িত নন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পারভেজ তাঁকে (করিম) হত্যার পরিকল্পনা করেন। ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পারভেজ তাঁর সোর্সের মাধ্যমে করিমকে কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া পারভেজসহ অন্যরা তাঁকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে গুলি করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে করিমকে হত্যা করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. রাসেল বলেন, প্রথমে নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর ও মো. জাবেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর খামার থেকে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। পরে হাটহাজারী থানাধীন দক্ষিণ মাদার্শা থেকে মো. সেলিম ও মো. আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন

×