ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘খোদা আমাদের খাবার দাও’—বৃদ্ধ দম্পতির আকুতি, পাশে প্রশাসন

‘খোদা আমাদের খাবার দাও’—বৃদ্ধ দম্পতির আকুতি, পাশে প্রশাসন
×

ছবি: সমকাল

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৪৩

‘খোদা আমাদের খাবার দাও’—অনাহারে থাকা বৃদ্ধ সবুজ শেখের এমন আকুতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শেরপুর সদর উপজেলার খনুয়া চরপাড়ার ৮৬ বছরের এই বৃদ্ধ ও তাঁর স্ত্রী নূরজাহানের (৭৮) পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের দুই মাসের খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি মাসে খাবারের দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুরে বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে গিয়ে তাঁদের খোঁজখবর নেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এ সময় তিনি ফল ও বিভিন্ন ধরনের খাবারসামগ্রী তাঁদের হাতে তুলে দেন। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য শহরের আবেদীন হাসপাতালে নূরজাহানের ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিকসহ কর্মকর্তারা ছিলেন।

এর আগে রোববার রাতে বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে যান জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সদর বিএনপির আহ্বায়ক মো. হযরত আলী। তিনি তাঁদের রান্না করা খাবার খাওয়ান এবং আর্থিক সহায়তা দেন। ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। জেলা যুবদলের পক্ষ থেকেও আতাউর রহমান আতাসহ নেতারা চাল, ডালসহ খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭০ বছর আগে বিয়ে হয় সবুজ শেখ ও নূরজাহানের। তাঁদের ছয় সন্তান। তিন মেয়ের বিয়ে হয়েছে। তিন ছেলের মধ্যে দু’জন দিনমজুর। আরেক ছেলে করোনাকালে নিখোঁজ হন। দিনমজুর ছেলে নূর ইসলাম সাধ্যমতো বাবা-মাকে সহায়তা করতেন। সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী দুরারোগ্য ব্যাধিতে মারা যাওয়ায় তিনিও আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

প্রায় পাঁচ বছর আগে পড়ে গিয়ে নূরজাহানের কোমরের হাড় ভেঙে যায়। এরপর থেকেই তিনি শয্যাশায়ী। নিজের বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও আর্থিক অনটনের মধ্যেও স্ত্রীকে একাই দেখাশোনা করে আসছেন সবুজ শেখ। মাঝেমধ্যে কাজের সন্ধানে খনুয়া বাজারে গেলেও বয়স ও শারীরিক অক্ষমতার কারণে কেউ তাঁকে কাজে নিতেন না।

এ অবস্থায় উপার্জনের কোনো পথ না থাকায় কয়েক বেলা তাঁদের বাড়িতে চুলায় আগুন জ্বলেনি। ওষুধ কেনা বা চিকিৎসা করানোর সামর্থ্যও ছিল না। গত ৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় এক তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর সবুজ শেখের কোলে শয্যাশায়ী স্ত্রীর একটি ছবি তুলে তাঁদের অসহায়ত্বের কথা ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে আসে। পরে সদর ইউএনওকে ওই বাড়িতে পাঠান তিনি।

ইউএনও আসমা বিনতে রফিক বলেন, অসহায় দম্পতির হাতে দুই মাসের খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি মাসে তাঁদের খাবারের দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাঈম হাসান বলেন, অসহায় মানুষটির ‘আল্লাহ আমাকে খাবার দেন’—এই আকুতি হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। তাঁদের পাশে দাঁড়াতে সদর বিএনপির আহ্বায়ক হযরত আলী ওই পরিবারের বাজার-খরচসহ যাবতীয় ব্যয় বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন। রাজনীতি শুধু মিছিল-মিটিং নয়, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোও প্রকৃত জনসেবা।

মো. হযরত আলী বলেন, বৃদ্ধ দম্পতির অসহায়ত্বের খবর পেয়ে তিনি রান্না করা খাবার ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে তাঁদের বাড়িতে যান। ভবিষ্যতেও ওই দম্পতিকে সর্বাত্মক সহায়তা করবেন।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বয়োবৃদ্ধ দম্পতির অসহায়ত্বের বিষয়টি জানতে পেরে জেলা প্রশাসন তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা দু’জনই বয়স্ক ভাতা পান। তবে তাঁদের দারিদ্র্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন

×