আত্মীয়তার বিশ্বাসকে আসামি অপরাধের হাতিয়ার বানিয়েছে
ধর্ষণের পর খুনের ঘটনায় যাবজ্জীবন
প্রতীকী ছবি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৫ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে কলি আক্তার নামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর খুন করে লাশ গুমের মামলায় এক আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২-এর জজ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ রায় দেন। সাজা ঘোষণার পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নজরুল ইসলাম ওরফে মিঠু হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মির্জাপুর নোয়াপাড়া মোল্লাবাড়ি ওরফে মুছা মিয়ার বাড়ির বাসিন্দা। তিনি নিহত কলি আক্তারের নিকটাত্মীয়।
রায় ঘোষণাকালে বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘ময়নাতদন্তে গলায় ফাঁসের দাগ এবং গলার ভেতরে জমাট রক্ত পাওয়া গেছে। এতে প্রমাণ হয়, জীবিত অবস্থায় তার গলায় ফাঁস দেওয়া হয়েছিল। ভিকটিমের নিজের ওড়না দিয়ে তাকে ফাঁস দেওয়া হয়। অপরাধটি অত্যন্ত গুরুতর। একটি ১৭ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করে তারই ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং লাশ বাথরুমের ট্যাঙ্কে লুকিয়ে রাখা হয়। আসামি ভিকটিমের আত্মীয় ছিল, আর সেই আত্মীয়তার বিশ্বাসকেই সে অপরাধের হাতিয়ার বানিয়েছে।’
পিপি মারুফুল হক চৌধুরী মারুফ বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯(২) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ডের টাকা আদায় হলে তা ভিকটিমের বাবা ছোট্ট মিয়া ওরফে চুট্টু মিয়াকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় কলি আক্তার তার খালার বাড়ি থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়ে আর বাড়ি পৌঁছায়নি। পরিবারের লোকজন তিন দিন খুঁজেও তাকে পায়নি। ১৭ অক্টোবর উপজেলার দানু মিয়া ব্রিকফিল্ডের পূর্ব পাশে পুকুর পাড়ে একটি পরিত্যক্ত বাথরুমের ট্যাঙ্কের ভেতর থেকে কলির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ২২ সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য শেষে এ রায় দেন বিচারক।