শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, এলাকায় ক্ষোভ
ধামইরহাট (নওগাঁ) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁর ধামইরহাটে ৫ বছরের এক শিশুকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার রূপনারায়ণপুর (শল্পী খাটা পাড়া) গ্রামের আব্দুস ছোবহানের পাঁচ বছরের ছেলে মাশরাফি বাড়ির উঠানে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলছিল। খেলাধুলার এক পর্যায়ে শিশুদের মধ্যে সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবেশী সাইদুল ইসলামের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম শিশুটির মা তহুরা বেগমের কোল থেকে মাশরাফিকে জোর করে ছিনিয়ে নেন। এরপর টেনে-হিঁচড়ে নিজের উঠানে নিয়ে যান এবং বেধড়ক মারধর করেন।
অভিযোগ উঠেছে, মঞ্জুয়ারার নির্দেশে তাঁর ছেলে মিনহাজ (২০) কোদাল হাতে নিয়ে শিশুটিকে মেরে পুঁতে ফেলার হুমকি দেন। এ সময় মঞ্জুয়ারার স্বামী সাইদুল ইসলাম নির্যাতন না থামিয়ে উল্টো স্ত্রী-ছেলেকে উস্কানি দেন এবং নির্যাতনে সহায়তা করেন। শিশু মাশরাফির কান্না ও চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়।
নির্যাতনের শিকার মাশরাফিকে উদ্ধার করে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটি মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রাতে ঘুম থেকে বারবার আঁতকে উঠছে ও চিৎকার করছে।
ধামইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহফুজ জানান, ‘শিশুটিকে শরীরে মারধরের চিহ্নসহ অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর শারীরিকভাব কিছুটা সুস্থ হলেও সে আতঙ্কতি। এ ঘটনার রেশ কাটতে কিছুদিন সময় লাগবে।’
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সাইদুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা গা-ঢাকা দেওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। থানার ওসি মিন্টু রহমান জানান, ‘শিশু নির্যাতনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে অপরাধী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
- বিষয় :
- শিশু নির্যাতন