ট্রেনের চেইন টানায় রাবি শিক্ষার্থীকে হেনস্তা
ছবি-সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১৩ | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৪০
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) স্টেশনে ট্রেন থামাতে চেইন টানাকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ভ্রমণকালীন টিকিট পরীক্ষকের (টিটিই) বিরুদ্ধে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে শিক্ষার্থীকে কোনো হেনস্তা করা হয়নি, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ন্যূনতম জরিমানা করে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাত ১১টায় সাগরদাঁড়ী এক্সপ্রেস ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মৃণ্ময় চক্রবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে সাগরদাঁড়ী ও তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন বাজারে রাতে থামছে বলে জানতে পারি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমিসহ কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশনে ট্রেনের চেইন টানি। চেইন টানার পর রেলওয়ের কর্মীরা আমাকে ধরে ফেলেন। আমি ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাই এবং রেলের নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা বা শাস্তি মেনে নেওয়ার কথা বলি। এর আগে আমাকে নিয়ে কটূক্তি, গালাগা, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চেইন টানা আমাদের ভুল হয়েছে, আমরা বারবার ক্ষমা চেয়েছি। রেলের আইনে যে শাস্তি আছে, সেটি মেনে নিতে আমরা প্রস্তুত ছিলাম। সেই ভুলের কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, অপমান বা হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
মৃণ্ময় বলেন, রাবি স্টেশনে কয়েকটি ট্রেন থামানোর দাবি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের। বিষয়টি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে রেলে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে রেলওয়ের মহাপরিচালক (পশ্চিম) ফরিদ আহমেদ বলেন, নিয়ম ভঙ্গ করায় শিক্ষার্থীকে কোনো হেনস্তা নয় বরং আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে কেবল ন্যূনতম জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু ছেলেটি একজন ছাত্র, তাই তার ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে জেল বা কঠোর শাস্তি না দিয়ে কেবল শৃঙ্খলা বজায় রাখার খাতিরে এই লঘু জরিমানা করা হয়। পূজার আগে ট্রেনের নতুন স্টপেজ চালু হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি সত্যিই হেনস্তার শিকার হয়ে থাকে, তবে উপযুক্ত প্রমাণসহ দরকার পড়লে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে তা জানানো হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে আমরা অবশ্যই রেল কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করব তারা যেন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়।
এর আগে গত ২১ জুলাই ট্রেনে রসিদ ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রায় ১০ ঘণ্টা রেলপথ অবরোধ করে রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা চার দফা দাবি জানান।
দাবিগুলো হলো–অভিযুক্ত টিটিইকে সশরীরে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত করা, ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাঁকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্থায়ী বহিষ্কার করা, যাত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে সব দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাগরদাঁড়ী এক্সপ্রেস ও তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে বলে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।