বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ
খুলনায় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা
আজমুল হোসেন
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১০
| প্রিন্ট সংস্করণ
খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মেস ম্যানেজার মেহেদীসহ অভিযুক্তরা এখনও পলাতক। পুলিশ বলছে, তারা ‘ভালো’ খবর দিতে পারবে।
আজমুল হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে নগরীর সোনাডাঙ্গা মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও কেসিসি প্রশাসকের আশ্বাসে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে তারা অবরোধ স্থগিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার সকালে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সোনাডাঙ্গা থানার পাশে ক্যাম্পাসের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা সোনাডাঙ্গা মোড় অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। শিক্ষার্থীরা রাস্তার মাঝখানে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে শিক্ষকরাও একাত্মতা প্রকাশ করেন। অবরোধের কারণে গল্লামারী-সোনাডাঙ্গা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটে যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুপুর ১টায় খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।
আলোচনা শেষে শাহনেওয়াজ খালেদ বলেন, ‘আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের একাধিক অভিযান চলছে এবং দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া আগামী এক মাসের মধ্যে আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। পুলিশের আশ্বাসের পর দুপুর দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
গত শুক্রবার রাতে চুরির অপবাদ দিয়ে আজমুলকে পেটানো হয়। এক পর্যায়ে আজমুল চারতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি ছাদ থেকে লাফ দিয়েছেন, নাকি মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে– তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা গ্রামের বাড়িতে আজমুলকে দাফন করা হয়।
আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দীন বলেন, ২০২৪ সালে এইচএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কোচিং করতে ঢাকায় যায় আজমুল। সেখান থেকে খুলনায় আসে। এ সময় মেহেদীর সঙ্গে ওর (আজমুল) পরিচয় হয়। ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পাওয়ায় মেহেদী তাকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রলোভন দেয় এবং এক লাখ ২০ হাজার টাকার চুক্তি হয়। কেউ এটি জানলে আজমুলকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
কুতুব উদ্দীন আরও বলেন, ‘হঠাৎ শুনতে পাই, আমার ছেলে চান্স পায়নি। সে স্বীকার করে এবং বলে, বিদেশ চলে যাবে। শেষ পর্যন্ত সে নর্থ ওয়ের্স্টান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। এ বিষয়টা মেহেদী জানতে পারে। আজমুল গত বৃহস্পতিবার বাড়িতে গিয়েছিল। ওই দিন ১২টার দিকে তাকে ফোন করে ৫৮ হাজার টাকা চায় মেহেদী। ওই টাকা পাঠিয়ে দ্রুত খুলনায় চলে আসতে বলে মেহেদী।’
নগরীর হরিণটানা থানার ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, ‘মেহেদীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সে গ্রেপ্তার হলেই মূল ঘটনা জানা যাবে।’
- বিষয় :
- মৃত্যু