চুয়েটে শাটডাউন অব্যাহত, উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে চলছে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি
সংগৃহীত গণস্বাক্ষর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। ছবি: সমকাল
চুয়েট সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:২৯
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পদে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন তারা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে দিয়ে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন আন্দোলনকারীরা।
বুধবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু হয়। এতে শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে দেখা যায়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয়পত্রের নম্বর ও স্বাক্ষর দেন। সংগৃহীত গণস্বাক্ষর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহান হাসনাত আদিব বলেন, ‘গত ২১ সেপ্টেম্বর বিনা নোটিশে অধ্যাপক আবু সাদাত সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ওই রাতেই আমরা বিক্ষোভ মিছিল করি। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর চুয়েটে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করি। আজ আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করছি। এই স্বাক্ষর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।’
এদিকে বুধবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকেও গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ শেষে তারা উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
এর ধারাবাহিকতায় ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার দ্বিতীয় দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ রেখে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
- বিষয় :
- চুয়েট
- শাটডাউন কর্মসূচি