রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে স্বাস্থ্যব্যবস্থায়
বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২২
| প্রিন্ট সংস্করণ
চিকিৎসাসেবায় রোগীর নিরাপত্তা কোনো ব্যক্তি বা চিকিৎসকের সতর্কতার ওপর নির্ভর করবে না; পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার মধ্যে তা নিশ্চিত করতে হবে। রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে হাসপাতাল, ওষুধ সেবন ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা রোগীর চিকিৎসাযাত্রার প্রতিটি ধাপ নিরাপদ করতে হবে।
বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এ বছরে দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘অসংক্রামক রোগের নিরাপদ চিকিৎসা’। ব্র্যাক, ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ (ইউএইচসি) ফোরাম ও কোয়ালিটি কেয়ার নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য তুলে ধরে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিশ্বে চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে প্রতি ১০ জনে অন্তত একজন ক্ষতির শিকার হয়। এর প্রায় অর্ধেক প্রতিরোধযোগ্য। তবে বাংলাদেশে চিকিৎসাসেবায় রোগীর ক্ষতির চিত্র নিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ অসংক্রামক রোগে (এনসিডি)
আক্রান্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হয়। তাদের একাধিক ওষুধ সেবন, বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ প্রয়োজন হয়। ফলে চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায়ে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কাও বেশি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোয়ালিটি কেয়ার নেটওয়ার্কের মহাসচিব আমিনুল হাসান। তিনি বলেন, রোগ নির্ণয় থেকে হাসপাতালের চিকিৎসা এবং হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পরও রোগী বিভিন্ন পর্যায়ে ক্ষতির শিকার হতে পারেন। রোগীর নিরাপত্তায় কোনো ত্রুটি হলে শুধু ব্যক্তিকে দায়ী না করে পুরো ব্যবস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে রোগীর নিরাপত্তা ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে ব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমানা হক বলেন, বিশ্বে চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে প্রতি ১০ জনে একজন রোগী ক্ষতির শিকার হন। অনিরাপদ চিকিৎসাসেবার কারণে বছরে ৩০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে প্রতি ১০০ রোগীর মধ্যে চারজন পর্যন্ত অনিরাপদ চিকিৎসাসেবার কারণে মারা যেতে পারেন। তিনি বলেন, রোগীর ক্ষতির অর্ধেকের বেশি প্রতিরোধযোগ্য। এর মধ্যে ওষুধ-সংক্রান্ত ভুল বা ক্ষতি একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে। প্রতিরোধযোগ্য ক্ষতির প্রায় অর্ধেকের সঙ্গে ওষুধের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
অধ্যাপক রুমানা হক বলেন, অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত রোগীর একাধিক ওষুধ, বারবার পরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং আজীবন ফলোআপের প্রয়োজন হয়। ফলে চিকিৎসার নিরাপত্তা ও মানের কোনো একটি পর্যায়ে ঘাটতি হলে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অনিরাপদ ও নিম্নমানের চিকিৎসাসেবা প্রতিরোধযোগ্য অসুস্থতা ও মৃত্যুর পাশাপাশি রোগী, পরিবার, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সামগ্রিক সমাজের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
- বিষয় :
- স্বাস্থ্য