ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাই-টেক পার্ক পরিত্যাগ নয়, পুনর্গঠন প্রয়োজন

পিপিআরসির আলোচনা

হাই-টেক পার্ক পরিত্যাগ নয়, পুনর্গঠন প্রয়োজন
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের হাই-টেক পার্ক মডেল পরিত্যাগ করার দরকার নেই। বরং প্রকৃত ইউটিলিটি, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন এবং এমন সহায়তা ব্যবস্থার ভিত্তিতে একে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন; যা কোম্পানিগুলোকে ভাড়াটে হিসেবে নয়, বরং অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করবে।
পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত আজকের এজেন্ডা ভার্চুয়াল সিরিজের ‘হাই-টেক পার্কস: মিশন কী? বাস্তবতা কী?’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা এমন মত দেন। 
অধিবেশন সঞ্চালনা করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন,  দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য শুধু ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ এবং শিল্পচালিত প্রশিক্ষণ গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের হাই-টেক পার্ক মডেল পরিত্যাগ না করে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন, যা কোম্পানিগুলোকে অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করবে।

গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তাইয়েব এ খাতের দায়িত্বে থাকাকালীন তাঁর অভিজ্ঞতা আলোচনায় তুলে ধরেন। তিনি মূল ব্যর্থতার কারণ হিসেবে বিদ্যমান ইপিজেড বা বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সঙ্গে সংযুক্ত না করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এলাকায় পার্ক স্থাপন করাকে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের হাই-টেক পার্কগুলোর মূল ব্যর্থতা হলো এমন অঞ্চলে ভারী ভৌত অবকাঠামো স্থাপন করা, যেখানে কার্যকর স্থানীয় অর্থনীতি নেই। তাঁর মতে, সমস্যাটি শুধু ইট-কাঠের অবকাঠামোতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা পর্যন্ত বিস্তৃত।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. রকনুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৩৯টি হাই-টেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করে। এগুলো গড়ে উঠেছে এমন ধারণার ওপর ভিত্তি করে যে শুধু অবকাঠামো একটি হাই-টেক বিপ্লব ও বিনিয়োগ টেনে আনবে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফল স্পষ্টভাবে দেখায় ধারণাটি সঠিক ছিল না। তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের উদাহরণ প্রমাণ করে যে এর জন্য একটি সহায়ক ইকোসিস্টেম, দক্ষ জনবলের প্রাপ্যতা এবং শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগের ওপর কার্যকর মনোযোগ দরকার। 

যশোর হাই-টেক পার্কের ‘অংশ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম বলেন, যশোর হাই-টেক পার্ক ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পার্কে বর্তমানে  ৪০টি কোম্পানি কার্যকর ইকোসিস্টেম সহায়তা ছাড়াই স্বাধীনভাবে টিকে থাকার সংগ্রাম করছে। কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে না দেখে শুধু ভাড়াটে হিসেবে দেখে। 
হাই-টেক পার্ক রাজশাহীর প্রকৌশলী নেট্রো সিস্টেমসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা  মো. আশাফুদ্দোজা শিশির তুলনামূলকভাবে আশাব্যঞ্জক একটি চিত্র তুলে ধরেন। তিনি রাজশাহী হাই-টেক পার্ককে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বিরল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, যার প্রযুক্তি উদ্যোগগুলো ২০১৬ সালের একটি ইনকিউবেশন সেন্টার থেকে শুরু হয়ে বৈশ্বিক পরিসরে পৌঁছেছে। 
ইউওয়াই সিস্টেমস লিমিটেডের চেয়ারপারসন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা এ. রহমান বেসিসের সঙ্গে তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, ‘আমরা হাই-টেক পার্ক নিয়ে দেওয়া বড় বড় প্রতিশ্রুতির এক অন্তহীন চক্রে আটকে আছি। অথচ দেশজুড়ে এত পার্ক নির্মাণ সত্ত্বেও মাটিতে প্রকৃত অগ্রগতি অনুপস্থিত। কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে জমির প্লট বরাদ্দ দেওয়া হলেও কোনো সহায়ক সেবা না থাকায় পরে অনেকেই তাদের প্লট বরাদ্দ ফিরিয়ে দিয়েছে।’
ডিএনএস সফটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফেল কবির বলেন, শুধু রপ্তানি কর প্রণোদনার ওপর নির্ভর না করে হাই-টেক পার্কগুলোর উচিত ছিল মাদারবোর্ড ও চিপ ফেব্রিকেশনের মতো মৌলিক প্রযুক্তি উৎপাদনকে লক্ষ্য করা।

আরও পড়ুন

×