ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কেবল আইন দিয়ে ভোক্তার অধিকার রক্ষা হবে না

কেবল আইন দিয়ে ভোক্তার অধিকার রক্ষা হবে না
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৪ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:১৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণে কেবল আইনের প্রয়োগই যথেষ্ট নয়। এ জন্য প্রয়োজন সমাজের সামগ্রিক মূল্যবোধের ইতিবাচক পরিবর্তন ও সর্বস্তরের মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ। দিনশেষে আমরা সবাই ভোক্তা, আর প্রতিটি ভোক্তারই নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য ও সেবা পাওয়ার মৌলিক আইনগত অধিকার রয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি ভবনে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’ শীর্ষক সচেতনতামূলক এই কর্মশালার আয়োজন করে। এতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, বাজারে এখনও নানা ধরনের নকল ও ভেজাল পণ্যের উপস্থিতি লক্ষণীয়। এসব অনিয়ম প্রতিরোধে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বাজার তদারকি ও অভিযান ইতোমধ্যে বাড়ানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা আইনানুগভাবে জোরদার থাকবে। তিনি ভেজাল ও নকল পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। গণমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের মাধ্যমে ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। 

কর্মশালায় কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া বলেন, ক্যাবের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল হিসেবে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ক্যাব শুরু থেকেই অধিদপ্তরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে। তবে বর্তমানে অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একই অপরাধ বারবার সংঘটিত হলে

সংশ্লিষ্ট অপরাধী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত এবং প্রয়োজনে তা বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। তাই দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি নিয়মিত অভিযান জোরদার, চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং বাজার অভিযানে সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান। সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। 

ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, আইন যত শক্তিশালী ও কার্যকর হবে, ভোক্তারা তত বেশি উপকৃত হবেন। প্রস্তাবিত আইনে অনলাইন প্রতারণার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করায় তিনি ধন্যবাদ জানান।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তাহমিনা বেগম বলেন, গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১১ হাজার ১৪৮টি বাজার অভিযান পরিচালনা করে ২৪ হাজার ২২৩টি প্রতিষ্ঠানকে ১৯ কোটি ৮০ লাখ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পরের অর্থবছরে ১২ হাজার ৮৮২টি অভিযানে ২৬ হাজার ২৯৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে জরিমানা আদায়ের পরিমাণ ছিল ১৮ কোটি ৮১ লাখ ৪৯ হাজার ২০০ টাকা। 
তাহমিনা বেগম জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৪ হাজার ২৭৯টি বাজার অভিযানে ২৭ হাজার ২৪৩টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় ২৪ কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চার হাজার ৯২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে তিন হাজার ৬২৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×