সৌদি পাইপলাইনে হামলা, ড্রোন উৎক্ষেপণকেন্দ্র জব্দ ইরাকের
ছবি: গেটি ইমেজেস
আল–জাজিরা
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:০২ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৪৬
সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে চালানো হামলায় ব্যবহৃত একটি ড্রোন উৎক্ষেপণকেন্দ্র খুঁজে বের করে জব্দ করেছে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী। দক্ষিণ-পূর্ব ইরাকের মাইসান প্রদেশে ইরান সীমান্তের কাছে এই উৎক্ষেপণকেন্দ্র শনাক্ত করা হয়েছে।
শনিবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরাকি নিউজ এজেন্সি (আইএনএ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরাকের সিকিউরিটি মিডিয়া সেলের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদ মান জানান, একটি গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা টাস্কফোর্স উৎক্ষেপণ সরঞ্জামটি শনাক্ত ও জব্দ করেছে।
তিনি জানান, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ফরেনসিক ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। ইরাকের সর্বাধিনায়ক তদন্তে অংশ নেওয়া এবং এর ফলাফল পর্যালোচনার বিষয়ে ইরানের একটি অনুরোধও অনুমোদন করেছেন।
সাদ মান বলেন, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বাগদাদ সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখছে। তিনি বলেন, ইরাক ‘প্রতিরোধমূলক সার্বভৌমত্ব’-এর নীতি অনুসরণ করে। এর অর্থ শুধু ইরাকের ভূখণ্ডে হামলা প্রতিরোধ করা নয়, অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ইরাকের ভূমিকে আক্রমণের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে না দেওয়া এবং দেশটিকে কোনো প্রক্সি যুদ্ধের অংশ হতে না দেওয়া।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ইরাক থেকে উৎক্ষেপিত কয়েকটি ড্রোন রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে আঘাত হানে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ বহনকারী এই পাইপলাইনটি হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল পরিবহনের সুযোগ দেয়। হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সৌদি আরব জানিয়েছে, বাগদাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তারা আপাতত কোনো পাল্টা ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ ড্রোনগুলোর উৎক্ষেপণস্থল হিসেবে মাইসান প্রদেশকে চিহ্নিত করেছে। ইরান সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের দীর্ঘদিনের উপস্থিতি রয়েছে।
আল-জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ রাম্মাল জানিয়েছেন, ইরাকি কর্তৃপক্ষ উত্তর-পূর্ব মাইসান প্রদেশের আল-তায়েব সীমান্ত এলাকাকে সম্ভাব্য উৎক্ষেপণস্থল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আমারা শহরের পূর্বে অবস্থিত এলাকাটি শিব ক্রসিংয়ের কাছে। এর মধ্যে দুওয়াইরিজ নদী ও তায়েব দ্বীপও রয়েছে।
রাম্মাল বলেন, উৎক্ষেপণস্থল থেকে মদিনা প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার এবং রিয়াদ প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে। ফলে হামলায় সম্ভবত কৌশলগত ছোট ড্রোনের পরিবর্তে দূরপাল্লার ও অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
ইরাকি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমানও শনিবার জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হামলার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান চালাচ্ছে।
হামলার পর নিরাপত্তার কারণে ইরাক ইরান-সংলগ্ন কয়েকটি সীমান্তপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এর মধ্যে শালামচে, চাজাবেহ ও মান্দালি সীমান্তপথ রয়েছে। পরে মানবিক প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে এসব পথের কিছু অংশ আবার খুলে দেওয়া হয়।
হামলার জেরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি মাইসানসহ সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোর সামরিক কমান্ডে রদবদল করেন। আল-জাজিরার সংবাদদাতা সামের আল-কুবাইসি জানান, বরখাস্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে মাইসান অঞ্চলের অপারেশন কমান্ডার ও প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান রয়েছেন। এ ছাড়া হামলার ঘটনায় প্রদেশের আরও কয়েকজন নিরাপত্তা কমান্ডার তদন্তের মুখে রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সেলিম জাখুর আল-জাজিরাকে বলেন, সৌদি আরব সরাসরি সামরিক সংঘাত বা উত্তেজনার পথে না গিয়ে ইরাকি সরকারের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলার পাশাপাশি বাব আল-মান্দেব প্রণালীর দিকে হুথি বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রার বিষয়টিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
জাখুর আরও বলেন, এর ফলে রিয়াদ কঠিন রক্ষণাত্মক অবস্থানে পড়েছে এবং এসব হামলা ও অগ্রযাত্রা ঠেকাতে এখন বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
- বিষয় :
- সৌদি আরব
- ড্রোন হামলা
- ইরাক
- জব্দ