পাখির মতো গুলি করে মানুষ মেরেছেন, হিসাব দিতেই হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ। ছবি: সমকাল
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:১২
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ বলেছেন, ‘পাখির মতো গুলি করে মানুষ মেরেছেন, দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করেছেন এবং মেগা প্রকল্পের নামে মেগা ডাকাতি করেছেন, সেগুলোর হিসাব বাংলাদেশের মাটিতে হবে। যদি সৎ সাহস থাকে, আপনারা আইন-আদালতের মাধ্যমে সেগুলোর মুখোমুখি হন।’
রোববার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঘুপচি আন্দোলন বা ঘুপচি রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। সৎ সাহস থাকলে সামনে আসেন। তাহলে পালিয়ে থাকার দরকার নেই, অন্য দেশে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ারও প্রয়োজন পড়ে না।’
তিনি বলেন, দেশের মানুষের কাছে নিজেদের অবস্থান বুঝতে পেরেই তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নভাবে, এআইয়ের মাধ্যমে অথবা বিদেশ থেকে নানা ধরনের উসকানি দিচ্ছেন। কখনও সারের নামে, কখনও বিদ্যুতের নামে, আবার কখনও অন্য কোনো ইস্যুতে মব কালচার সৃষ্টি করে আইন ও দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ এসব মেনে নেবে না। দলীয়ভাবে শুধু প্রতিহত নয়, প্রতিরোধ করতে হবে।
ডা. জাহিদ বলেন, ১৭ বছর দেশের মানুষ অনির্বাচিত সরকার, রাতের সরকার, বিনা ভোটের সরকার এবং ডামি নির্বাচনের সরকার দেখেছে। এসব সরকারের জনগণের কাছে কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না। বিভিন্ন সময় তারা মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, তাদের দেশে থাকার মতো সৎ সাহস ছিল না।
তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের পর থেকে যত স্বৈরাচারী শাসনই করা হোক না কেন, বিএনপি দেশের মাটিতে থেকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র পুনর্বাসন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করেছে। এ সময়ে শত শত নেতাকর্মীকে গুম এবং লাখো নেতাকর্মীকে জেলখানায় রাখা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘তারপরও বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোবল একটুও টলাতে পারেনি এবং বিএনপির কোনো নেতাকর্মী দলের প্রতি আনুগত্যে কোনো ধরনের কমতি দেখাননি।’
এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ মজিদসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় যোগ দেন।