মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ভূমিকম্পের মতো: কাতারের প্রধানমন্ত্রী
কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল থানি। ফাইল ছবি: রয়টার্স
আল–জাজিরা
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:২৭
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে ‘ভূমিকম্প’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জাসিম আল থানি। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার পূর্বশর্ত হিসেবে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি সংঘাতের ‘ক্রমবর্ধমান চক্র’ বা ‘এসক্যালেশনের চক্র’ নিয়ে সতর্ক করেছেন।
রোববার নিউইয়র্কে কাতার ইকোনমিক ফোরামের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শেখ মোহাম্মদ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এমন একটি ‘কাঠামো’ প্রয়োজন, যেখানে সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো হবে এবং কোনো রাষ্ট্রই অন্য কোনো রাষ্ট্রের জন্য ‘হুমকি’ হয়ে দাঁড়াবে না।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শেখ মোহাম্মদ বলেন, এটি একটি ‘ভূমিকম্প’-এর মতো। এর ‘কম্পন-তরঙ্গ’ মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এবং ‘নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিষয়ক প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে’।
তিনি বলেন, সংকট চলাকালীন প্রায় প্রতিটি আলোচনার শুরুতেই নিরাপত্তা ও উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়টি উঠে আসত; এরপর আলোচনা গড়াত জ্বালানি সরবরাহ, নৌ-চলাচলের পথ এবং আমাদের বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকে। আসলে এসবই ছিল একই মূল প্রশ্নের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ—যখন সবকিছুতেই এমন ওলটপালট অবস্থা, তখন শেষ পর্যন্ত কিসের ওপর ভরসা করা যায়?
শেখ মোহাম্মদ বলেন, কাতার তার অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ‘ভিত্তি’র ওপর আসা সেই কঠিন পরীক্ষার মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, অঞ্চলে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়ছে।
তিনি বলেন, এমন কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থায়ী নিরাপত্তা গড়ে তোলা সম্ভব নয়, যা কোনো রাষ্ট্রকে স্থায়ীভাবে নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে ফেলে রাখে। আমাদের অবশ্যই উত্তেজনার মূল কারণগুলো মোকাবিলা করতে হবে এবং পারস্পরিক আস্থা গড়ে তুলতে হবে।
নিউইয়র্ক থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক ক্রিস্টেন সালুমি জানান, মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতারা যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন, তখন শেখ মোহাম্মদের এই বার্তা আবারও উঠে আসতে পারে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী দেশটির বিনিয়োগ কৌশলে অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের রূপরেখাও তুলে ধরেছেন। এর আওতায় আগামী পাঁচ বছরে কাতারের অবকাঠামো খাতে ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সালুমি বলেন, এর লক্ষ্য হলো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা এবং কাতারের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা বা দৃঢ়তার বার্তা দেওয়া। তবে একই সঙ্গে শেখ মোহাম্মদ স্বীকার করেছেন, চলমান সংঘাত ‘অঞ্চলে প্রভাব ফেলছে’।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন সোমবার শুরু হয়ে শুক্রবার শেষ হবে। বিভিন্ন ভাষণ ও কূটনৈতিক আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে রোববার নিউইয়র্কে মার্কিন গণমাধ্যমের কাছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।