ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তিতে পরীক্ষার বিকল্পও ভাবা প্রয়োজন

সাক্ষাৎকার: ড. আরিফুল হক কবির

বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তিতে পরীক্ষার বিকল্পও ভাবা প্রয়োজন

সাক্ষাৎকার গ্রহণ: মাহফুজুর রহমান মানিক ও মোজাহেরুল ইসলাম

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৩ | ১৯:৫৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. আরিফুল হক কবির বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ডিকিন ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত। তিনি উচ্চশিক্ষার ওপর গবেষণাকার্য পরিচালনা করছেন এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নালে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক জার্নাল টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিস প্রকাশিত কোজেন্ট এডুকেশনের একজন সিনিয়র এডিটর। তিনি পিএইচডি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার মনাশ ইউনিভার্সিটি থেকে। মাস্টার অব এডুকেশন সম্পন্ন করেছেন নিউজিল্যান্ডের ক্যান্টারবারি ইউনিভার্সিটি থেকে। তাঁর জন্ম ১৯৭৯ সালে, ঝিনাইদহ জেলায়।

সমকাল: আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একক ও অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউজিসি। এ লক্ষ্যে ন্যাশনাল টেস্টিং অথরিটি-এনটিএ গঠনের কথাও বলছে সংস্থাটি। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

আরিফুল হক কবির: উচ্চশিক্ষায় ভর্তি প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন-পরিমার্জন আসাটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এ পরিবর্তন আমরা কতটা কার্যকরী উপায়ে করতে পারি, সেটিই বিবেচ্য বিষয়। সম্প্রতি ভর্তি পরীক্ষা সম্পর্কে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নেওয়া নতুন সিদ্ধান্ত যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে। তাঁদের দৃষ্টিতে চলমান ভর্তি পরীক্ষায় কিছু সমন্বয়হীনতা ও অব্যবস্থাপনা রয়েছে। তাই বিকল্প হিসেবে সিদ্ধান্তটি নেওয়া। তাঁরা মনে করছেন, যদি অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হয় এবং সেটি যদি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে ভর্তি প্রক্রিয়ার সমস্যাগুলো অনেকাংশে দূর করা সম্ভব হবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ন্যাশনাল টেস্টিং অথরিটি-এনটিএ গঠন করার কথা বলা হচ্ছে। যেহেতু বিষয়টি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে; কীভাবে এটি বাস্তবায়িত হয়, তা দেখার অবকাশ রয়েছে।

সমকাল: আপনি প্রাথমিক পর্যায়ের কথা বলছেন। কিন্তু প্রশাসন তো এ পদ্ধতি আগামী বছর থেকেই বাস্তবায়নের কথা বলছে। এ নিয়ে দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা গবেষণার প্রয়োজন আছে কি?

আরিফুল হক কবির: ভর্তি পরীক্ষায় যে প্রক্রিয়ার কথা বলা হচ্ছে, তা ভালোভাবে কার্যকর করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারকসহ সংশ্লিষ্ট সবার তা বাস্তবায়নে নজর দেওয়া দরকার। ভর্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা দরকার।

সমকাল: সংশ্লিষ্ট অংশীজনের পরামর্শ কেন জরুরি মনে করছেন? এর আগের সিদ্ধান্তগুলোতে তেমনটা দেখা যায়নি বললেই চলে।

আরিফুল হক কবির: এ বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কী চাইছেন এবং কী ভাবছেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। চলমান গুচ্ছ পদ্ধতির করুণ বাস্তবতা আমরা দেখছি। সবার মতামত না নিলে গুচ্ছের মতো এ প্রক্রিয়ায়ও নানা জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। নতুন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে গুচ্ছ থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলেই আমূল পরিবর্তন আসবে না।

সমকাল: গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ক’বছর হলো। সেটি এখনই পরিবর্তন করা কতটা যৌক্তিক?

আরিফুল হক কবির: গুচ্ছ প্রক্রিয়ার দুই-তিন বছরের চিত্র আমরা দেখলাম মাত্র। এ সময়টি মূল্যায়নের জন্য খুব কম। হঠাৎ এ পদ্ধতি বাদ দিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া যৌক্তিক মনে করি না। গুচ্ছের ইতিবাচক ফলের জন্য আমাদের হয়তো আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা দরকার ছিল। সেটা না করে নতুন প্রক্রিয়া গ্রহণ করছি। নতুন প্রক্রিয়ায় যে গুচ্ছের মতো দু-এক বছর পরে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হবে না– এমন তো নিশ্চয়তা নেই। তাই সময় নিয়ে প্রতিটি বিষয়কে বিচার-বিশ্লেষণ করে প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। শুরু থেকেই বলা হচ্ছে– সব বিশ্ববিদ্যালয় এ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে। কিন্তু সব বিশ্ববিদ্যালয়কে আসার জন্য তাদের কনফিডেন্স বাড়ানো জরুরি। সে দায়িত্ব কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে নিতে হবে। আমাদের গুচ্ছ প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা যেহেতু সুখকর নয়, সেহেতু আমার মনে হচ্ছে, বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে যথেষ্ট চিন্তা-ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। তারা যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে স্বকীয়তা বজায় রেখে প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ায় ভর্তি সম্পন্ন করে আসছে, তাই নতুন প্রক্রিয়ায় সহজে অংশ নেবে বলে মনে হচ্ছে না।

সমকাল: স্বকীয়তা বলতে আপনি কী বোঝাতে চাইছেন?

আরিফুল হক কবির: উন্নত বিশ্বের কথা যদি আমরা বলি, সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা তাদের স্বকীয়তা বজায় রেখেই গ্রহণ করা হয়। ভর্তি নেওয়া ও না নেওয়া বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় হলো সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে তাদের স্বাধীনতা আছে। সেখানে তারা বেশ কিছু প্রক্রিয়ায় ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করে। উন্নত দেশগুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়া উন্মুক্ত। শিক্ষার্থীর যোগ্যতা অনুযায়ী তারা ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকে। যদিও আমাদের দেশে শিক্ষার্থীর তুলনায় উচ্চশিক্ষার আসন কম, তাই ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারিত সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হয়। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। এর বাইরে আর কাউকে অনুমতি দেওয়া হয় না। তার পরও শিক্ষার্থীর যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া জরুরি।

সমকাল: অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা যদি বলেন...।

আরিফুল হক কবির: অস্ট্রেলিয়াতে চারভাবে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়। প্রথমত, শিক্ষার্থীরা তাদের ১২ ক্লাসের পরীক্ষার পর (যেটা আমাদের এখানে ইন্টারমিডিয়েট) অস্ট্রেলিয়ান টারশিয়ারি অ্যাডমিশন সেন্টারের (প্রতিটি রাজ্যে একটি স্বায়ত্তশাসিত টারশিয়ারি অ্যাডমিশন সেন্টার আছে) মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদের পছন্দের কোর্সে ভর্তির আবেদন করে। এই অ্যাডমিশন সেন্টারগুলো শিক্ষার্থীদের ইন্টারমিডিয়েটের ফলের ওপর ভিত্তি করে একটা র‍্যাংক/স্কোর করে এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে তা পাঠিয়ে দেয়। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স/ডিপার্টমেন্টভিত্তিক রিকোয়ারমেন্ট আছে। যেমন সাবজেক্ট অনুযায়ী মিনিমাম স্কোর, টেস্ট ও ইন্টারভিউ করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কোর্স অফার করে। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন শিক্ষার্থী– যারা ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার পর গ্যাপ দিচ্ছে, তারাও ভর্তির সুযোগ পায়। যেমন তারা বিভিন্ন ডিপ্লোমা কোর্স করে বা পেশাগত অভিজ্ঞতা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কোর্স অফার করে। এ ছাড়া যেসব শিক্ষার্থী নানা কারণে পিছিয়ে, যেমন– রিজিওনাল শিক্ষার্থী বা যাদের পরিবারে এর আগে কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেননি বা নন-এলিট স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিশেষভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে।

সমকাল: এই পদ্ধতি কীভাবে কাজ করে?

আরিফুল হক কবির: প্রথমত, ইন্টারমিডিয়েটের রেজাল্টের ওপর একটা র‌্যাংকিং করে। দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব প্রক্রিয়ায় মৌখিক, লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ করে। তৃতীয়ত, অনেক সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অফার করে। চতুর্থত, বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদের কিছু বিষয়ে স্কিল ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া হয়। এসব ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করে। যেমন আইইএলটিএস, জিআরই, স্যাট ইত্যাদি। যেটা আমাদের দেশের নতুন পদ্ধতিতে বলা হচ্ছে; এনটিএ– কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

সমকাল: কেন্দ্রীয়ভাবে যে ভর্তি, সেখানে সব বিশ্ববিদ্যালয় না এলেও কি এটা সফল হতে পারে? গুচ্ছ প্রক্রিয়ায় যেমনটা দেখা গেছে; বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আসেনি।

আরিফুল হক কবির: বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুচ্ছ প্রক্রিয়ায় না আসায় এর আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি– এমনটা বলতে শোনা যায়। এ ক্ষেত্রে আমি মনে করি, কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কয়েকটা প্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত না হলে তা সফল হবে না– এমন চিন্তা করা সমীচীন নয়। ভর্তি প্রক্রিয়ায় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটা প্রভাব থাকে। তবে গুচ্ছ প্রক্রিয়া সফল না হওয়ার পেছনে বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর না আসাকে দায়ী করার অর্থ হলো, গুচ্ছ প্রক্রিয়ার ত্রুটিগুলোকে চিহ্নিত না করে এবং সেদিকে ফোকাস না করে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া। এ ক্ষেত্রে তা-ই হচ্ছে। যে কোনো সিস্টেমকে কার্যকর করতে যথেষ্ট সময় প্রয়োজন। গুচ্ছ প্রক্রিয়া সফল না হওয়ার দায় কর্তৃপক্ষের দিকে আসা উচিত; প্রক্রিয়ার ওপরে নয়। সে জন্য প্রক্রিয়া কতটা সহজীকরণ, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। গুচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি আশানুরূপ কমেনি। প্রযুক্তির এ যুগে ভর্তি প্রক্রিয়াকে খুব সহজ করা যায়।

সমকাল: আপনার কি মনে হয়, কেন্দ্রীয়ভাবে যে ভর্তির কথা বলা হচ্ছে, সেখানেও সব বিশ্ববিদ্যালয় আসবে? সবাইকে নিয়ে ভর্তিটা কীভাবে নিশ্চিত হতে পারে?

আরিফুল হক কবির: কেন্দ্রীয়ভাবে নতুন যে ভর্তির কথা বলা হচ্ছে, সেখানে সবাই আসবে– সে চিন্তা না করে আগে চিন্তা করতে হবে সবাইকে আনার মতো এখানে কী উপাদান আছে। ধরুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা নিজস্ব ভর্তি প্রক্রিয়া রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার্থী পাচ্ছে। তাহলে নতুন পদ্ধতিতে তারা কেন আসবে? হ্যাঁ, আসতে পারে যদি এখানে তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ার চেয়েও উন্নতমানের কিছু থাকে। আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে যে প্রক্রিয়া চলে আসছে, তা রাতারাতি পরিবর্তন হয়ে যাবে না। সে ক্ষেত্রে নতুন প্রক্রিয়া চালু করতে এর সুবিধা-অসুবিধা, প্রয়োজনীয়তা, কার্যকারিতা কী– তা স্পষ্ট করতে হবে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বকীয়তার পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসনের বিষয়ও এখানে জড়িত। সে ক্ষেত্রে তাদের স্বকীয়তা ও স্বায়ত্তশাসনের মতো বিষয় কীভাবে বজায় থাকবে, সে দিকটাও চিন্তা করতে হবে। আমি আগেই বলেছি, ইউজিসি বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কনফিডেন্স বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এখানে আপনার আউট অব বক্স চিন্তা করতে হবে। শুধু ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমেই ভর্তি– এমন নয়।

সমকাল: ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তির ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কী?

আরিফুল হক কবির: শিক্ষার্থীদের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ভর্তি পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি পরীক্ষার প্রয়োজন আছে। তবে আমাদের দেশে যে পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হয়, তেমন না। বিশ্বের বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয় সর্বশেষ দুই বা চার বছরের একাডেমিক পড়াশোনা থেকে। পাশাপাশি তারা শিক্ষার্থীর মানসিক ও দৃষ্টিভঙ্গিগত পর্যালোচনা এবং মৌখিক পরীক্ষাও গ্রহণ করে। ফলে শুধু তিন থেকে পাঁচ মাস পড়াশোনা করে কারও পক্ষে খুব বেশি ভালো করা সম্ভব নয়, আগে থেকে যদি ভালো করে না পড়ে। এতে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা উঠে আসে। ফলে তারা পড়াশোনার বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়তে পারছে। স্নাতক শেষেও তাদের ক্যারিয়ার পরিবর্তন করার প্রয়োজন হচ্ছে না। এক বিষয়ে পড়াশোনা করে অন্য বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়তে হচ্ছে না। এইচএসসির ফলের ওপর ভিত্তি করে ভর্তি প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত হলে, সেটাও ভালো সিদ্ধান্ত। অস্ট্রেলিয়াতেও এভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু আছে। তবে এইচএসসি পরীক্ষার মূল্যায়ন আরও ভালো হতে হবে।

সমকাল: বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং কিংবা উচ্চশিক্ষায় মানোন্নয়নের সঙ্গে শিক্ষার্থী ভর্তির সম্পর্ক কতটা?

আরিফুল হক কবির: বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিংয়ে আসার ক্ষেত্রে ভর্তির পরোক্ষ সংযোগ আছে বটে। মূলত কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাংকিং করা হয়। যেমন– ছাত্র-শিক্ষকের গড় অনুপাত, গবেষণা কার্যক্রম, সংখ্যা, আর্টিকেল, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাত, সাইটেশনস, গবেষণা আয়, ইন্ডাস্ট্রি-বিশ্ববিদ্যালয় পার্টনারশিপ। এ বিষয়গুলোতে আমাদের পরিসংখ্যান সন্তোষজনক নয়। বিশেষ করে গবেষণার ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে। এ ক্ষেত্রে গবেষণা বরাদ্দ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা খাতে আমাদের বাজেট খুবই কম। উন্নত দেশগুলো গবেষণা খাতে অনেক বেশি ভর্তুকি দিচ্ছে। তাই গবেষণা ক্ষেত্রে আমাদের বরাদ্দ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাত ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতি নজর দিতে হবে।

সমকাল: সর্বশেষ যদি বলেন, ন্যাশনাল টেস্টিং অথরিটি-এনটিএ কীভাবে কার্যকর হতে পারে?

আরিফুল হক কবির: বাংলাদেশে কোন প্রক্রিয়ায় এনটিএ পদ্ধতি বাস্তবায়ন হবে, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রথমত, এটি স্পষ্ট করতে হবে। এ প্রক্রিয়ার সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে কাজ করতে হবে। পরিচালনা পদ্ধতি কেমন হবে, তাও স্পষ্ট করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার শর্তে ছোট পরিসরে হলেও প্রক্রিয়াটি চালু করা যেতে পারে। আশানুরূপ ফল এলে পরে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

সমকাল: সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

আরিফুল হক কবির: আপনাদেরও ধন্যবাদ। সমকালের জন্য শুভকামনা।

আরও পড়ুন

×