মসলার বাজারে সুগন্ধ ফিরুক
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৩ | ১৮:০০
মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা তথা কোরবানির ঈদ যখন দ্বারপ্রান্তে, তখনই মসলার বাজার অস্থির হইয়াছে। ইহা আমরা ইতোমধ্যে সমকালসহ বিভিন্ন সংবাদামাধ্যম সূত্রে জ্ঞাত। নিয়ন্ত্রণে না আনিলে এহেন পরিস্থিতি যে এই প্রায়-সর্বজনীন উৎসব পালনে বিঘ্ন ঘটাইতে পারে– পূর্ববর্তী বৎসরগুলির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই আশঙ্কা আমরা ব্যক্ত করিয়াছি। তবে আশার বিষয়, বাজার তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাসমূহ উল্লিখিত বিষয়ে কিছুটা হইলেও তৎপর। অন্তত রবিবার সমকালের এক প্রতিবেদনে তেমনই ইঙ্গিত করা হইয়াছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সম্প্রতি মসলার বাজারের বিদ্যমান অস্থিরতা বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটা প্রতিবেদন পাঠাইয়াছে। তথায় কাহারা কী প্রকারে মসলার বাজার নিয়ন্ত্রণ করিতেছে, উহা তুলিয়া ধরা হইয়াছে। উপরন্তু সমকাল প্রতিবেদকের নিকট চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বলিয়াছেন, আমদানিনির্ভর মসলার বাজারে মূলত ৭০ হইতে ৮০ জন ব্যবসায়ীর ইশারাতেই মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধি পায়। আমরা দেখতে চাহিব, মসলার বাজারে অস্থিরতার কারিগরগণ চিহ্নিত হইবার পর উহাদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপও পরিলক্ষিত হইবে।
মসলার বাজার বলিতে আমরা বুঝি আদা, রসুন, জিরা, হলুদ, মরিচ, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, জয়ত্রিসহ আরও কিছু, যেগুলি আমাদের রন্ধন কার্যক্রমের অপরিহার্য উপকরণ। সকল প্রকার মৎস্য ও মাংস রন্ধনকার্যে ইহাদের অধিকাংশ অথবা সকলের ব্যবহার অন্তত এই জনপদে সুবিদিত। এই কারণেই বিশেষত কোরবানির ঈদে যখন প্রায় প্রতিটি মুসলিম পরিবারেই মাংস রান্নার ধুম পড়ে; এই সকল মসলার চাহিদা বৎসরের অন্য সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ তিন গুণ হইয়া যায়। আর যেহেতু অধিকাংশ মসলার প্রায় শতভাগ চাহিদা পূরণ করিতে হয় বিদেশ হইতে আমদানির মাধ্যমে, তাই মসলা আমদানিকারকদের সুযোগসন্ধানী অংশ এই সময়ে মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা করিতে চাহে। প্রতিবেদনমতে, মসলার বাজারে পাঁচ শতাধিক আমদানিকারক থাকিলেও মূল্যের নাটাই মূলত থাকে ঐ ৭০-৮০ জনের হস্তে; আমদানীকৃত মসলার বিপুল অংশই থাকে তাহাদের গুদামে।
ইতোপূর্বে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট খাতের কতিপয় ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সিন্ডিকেশনের অভিযোগ উঠিয়াছিল। ভোজ্যতৈল ও চিনির জন্য তো বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম রীতিমতো নাম উল্লেখ করিয়া পাঁচ-ছয়টি কোম্পানির কারসাজিকে দায়ী করিয়াছিল। কিন্তু দুঃখজনক, উহাদের বিরুদ্ধে অন্তত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয় নাই।
আমাদের প্রত্যাশা, মসলার বাজারের কারসাজিকারীদের যেহেতু সরকারই চিহ্নিত করিয়াছে; এইবার কোনো বায়বীয় আশ্বাস না দিয়া কার্যকর কিছু করিবে। অবিলম্বে মসলার বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিতকরণ; তৎসহিত পাইকারি ও খুচরা মোকামে অভিযান চালাইয়া পণ্যগুলি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখিবে। মসলার বাজারে ফিরিয়া আসিবে কাঙ্ক্ষিত সুগন্ধ।
- বিষয় :
- মসলার বাজার
- সম্পাদকীয়