অন্যদৃষ্টি
পাকিস্তানের ইয়েমেন পরীক্ষা
দ্য ডনের সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:২৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ইয়েমেনের সংঘাত ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলবে। পাশাপাশি হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানোয় পাকিস্তানের মতো সৌদির মিত্রদের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে।
২০২২ সালে সৌদি-হুতি যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে ইয়েমেন ফ্রন্ট মোটামুটি শান্তই ছিল। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে ইয়েমেন সরকার এবং আনসারুল্লাহর (হুতি) মধ্যে আবারও উন্মুক্ত যুদ্ধ শুরু হয়েছে। বাস্তবে হুতিরা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোখা শহর এবং উপকূলের প্রধান দ্বীপগুলো দখল করে নিয়েছে। এর ফলে বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে কাদের জাহাজ পারাপার করতে
দেওয়া হবে, তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন মূলত তাদের হাতে। হুতিদের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি জাহাজ ছাড়া বাকি সব দেশের নৌযান চলাচলের জন্য এই পথ খোলা রয়েছে।
ইয়েমেন সীমান্ত যখন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তখন সৌদি আরবের সঙ্গে সম্প্রতি নিজেদের সামরিক সম্পর্ক জোরদার করা সত্ত্বেও পাকিস্তানের নেওয়া পরিমিত পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো যায়। এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সৌদি আরবের প্রতি তাদের ‘অবিচল সমর্থন’ থাকলেও হুতিদের ওপর হামলায় তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা পাকিস্তানের নেই। পররাষ্ট্র দপ্তর আরও যোগ করেছে যে, পাকিস্তান ‘ইয়েমেনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়।’
একটি ভূ-রাজনৈতিক চরম জটিল বিষয়ে এটি খুবই ভারসাম্যপূর্ণ একটি অবস্থান। পাকিস্তান সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে যৌথ মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। তবে কোনো তৃতীয় দেশের অভ্যন্তরীণ শক্তির বিরুদ্ধে আগ্রাসী সামরিক অভিযানে জড়ানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তার বদলে পাকিস্তানের উচিত ইয়েমেন সংঘাতের দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং একটি কূটনৈতিক সমাধানের জন্য চাপ দেওয়া।
হুতিদের ওপর ইরানের প্রভাব রয়েছে। তবে এই ইয়েমেনি সশস্ত্র দলটি নিজেই সিদ্ধান্ত নেয়। তা সত্ত্বেও হুতিদের কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটতে রাজি করানোর জন্য ইসলামাবাদ তার ইরানি কূটনৈতিক মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে তেহরানকে অনুরোধ করতে পারে। এই ইয়েমেনি দলটির উচিত সৌদি আরবে তাদের আক্রমণ বন্ধ করা। একইভাবে সৌদি আরবেরও উচিত ইয়েমেনে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকা। তা ছাড়া আনসারুল্লাহ ইয়েমেনের ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
রিয়াদ যদি এই শর্তে রাজি হয়, তবে তা ইরানপন্থি এই গোষ্ঠীর কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পাঠাবে এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে সাহায্য করতে পারে।
মূল কথা হলো, ইয়েমেন সংঘাতের একটি টেকসই সমাধান আনতে হলে দেশটির সকল গোত্র ও সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করে
একটি ক্ষমতা বণ্টন চুক্তি গড়ে তুলতে হবে।
সংঘাত যদি আরও বাড়ে, তবে প্রণালি হরমুজের মতো বাব আল-মানদেবও পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়তে পারে। আর তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য আরও বড় বিপদের কারণ হবে। তাই পাকিস্তান এবং এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর উচিত হুতি, সৌদি আরব এবং ইয়েমেন সরকারকে এক টেবিলে এনে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার জোর তাগিদ দেওয়া।
সম্পাদকীয়, ডন: ভাষান্তর ইফতেখারুল ইসলাম
- বিষয় :
- অন্যদৃষ্টি