সমকালীন প্রসঙ্গ
সমন্বিত জাতীয় শিশু-সুরক্ষা ব্যবস্থা জরুরি
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম
মো. সফিউল্লাহ
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:৪১ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:২৪
কুমিল্লার শিশু অপ্রতিম হত্যা, ঢাকার শিশু রামিসা হত্যা, মাদ্রাসায় শিশু নিপীড়নসহ সাম্প্রতিক একের পর এক ঘটনা বাংলাদেশের শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এগুলো বিচ্ছিন্ন কিছু অপরাধ হিসেবে দেখলে সমস্যার গভীরতা বোঝা কঠিন। বরং এসব ঘটনা আমাদের সামনে একটি বৃহত্তর বাস্তবতা দাঁড় করায়। অর্থাৎ বাংলাদেশের শিশুরা এমন একটি পরিবার, পাড়া-মহল্লা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মধ্যে বেড়ে উঠছে, যেখানে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ন্যূনতম সুরক্ষা ব্যবস্থা অবশিষ্ট নেই।
সাম্প্রতিক সংবাদ ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষণগুলো পরিস্থিতির গুরুতরতার ইঙ্গিত দেয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতায় অন্তত ১৯৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ২১ শিশু ধর্ষণের পর নিহত হয়েছে এবং ১৭ শিশু আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছে। ডিএমপির হিসাবমতে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসেই বাংলাদেশে ১৫ হাজার ৭১৭ জন শিশু নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরিভুক্ত হয়েছে। তাদের ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার বা পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও দুই হাজার ৩৮ জনকে খুঁজে পাওয়া যাইনি। ২০২৫ সালে শিশু নিখোঁজের ডায়েরি ছিল ২২ হাজার ৫৫০ এবং ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪১৪ জন। অর্থাৎ শিশু নিখোঁজের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে, যা বাংলাদেশের শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা প্রয়োজন। সাধারণ ডায়েরি কিংবা সংখ্যাকে সরাসরি প্রকৃত নিখোঁজের ব্যাপ্তি বা অপরাধ বৃদ্ধির হার হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না; বরং প্রতিটি নিখোঁজ শিশুর ক্ষেত্রে দ্রুত রিপোর্টিং, অনুসন্ধান, পারিবারিক সহায়তা, আন্তঃসংস্থার সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর খোঁজ ব্যবস্থার নিরিখে বিষয়টি তলিয়ে দেখতে হবে।
সমস্যাটিকে আরও গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায়, শিশু নির্যাতন বা সহিংসতার জন্য একটি মাত্র কারণ দায়ী নয়। আন্তর্জাতিক গবেষণা সহিংসতার ঝুঁকিকে ব্যক্তি, পরিবার, সম্পর্ক, প্রতিবেশীবোধ এবং বৃহত্তর সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইন্সপায়ার ফ্রেমওয়ার্ক ও আইন প্রয়োগ, সামাজিক মূল্যবোধ, নিরাপদ পরিবেশ, প্যারেন্টিং ও কেয়ারগিভার সাহায্য, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, রেসপন্স সেবা এবং শিক্ষা এই সাতটি ক্ষেত্রকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই বিষয়টিকে ‘মানুষের স্বভাব’ বা কোনো একটি ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা পারিবারিক বৈশিষ্ট্যের ফল হিসেবে দেখলে সমস্যাটি অতিরিক্ত সরলীকৃত হয়ে যায়। বরং দুর্বল সামাজিক সংযোগ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও বিচ্ছিন্নতা, অর্থনৈতিক চাপ, মাদক ও অন্যান্য ক্ষতিকর পরিবেশ, শিশুকে একা রেখে যাওয়ার পরিস্থিতি, অপর্যাপ্ত তদারকি, অনিরাপদ প্রতিবেশ, সামাজিক সহিংসতার স্বাভাবিকীকরণ, শিশুদের কথা বলার সুযোগের অভাব, দুর্বল রিপোর্টিং ও রেফেরাল ব্যবস্থা এবং আইন প্রয়োগ ও বিচার প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা এসব পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকি হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের গবেষণাও এই বহুমাত্রিক বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। ইউনিসেফের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ এমআইসিএস ২০২৫ তথ্য অনুযায়ী, ১-১৪ বছর বয়সী ৮৫.৭ শতাংশ শিশু গত মাসে সহিংস শাসনের অভিজ্ঞতা পেয়েছে, যা দেখায় যে শিশুর নিরাপত্তার প্রশ্নটি শুধু চরম হত্যাকাণ্ড বা ধর্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দৈনন্দিন প্যারেন্টিং ও কেয়ারগিভিং প্র্যাকটিসও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুর জন্য ‘অপরিচিত ব্যক্তি’ সব সময় প্রধান ঝুঁকি নয়। ২০২৫ সালের সংবাদভিত্তিক শিশু অধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নথিভুক্ত ৩০৮টি শিশু যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনার মধ্যে ৯০ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছিলেন প্রতিবেশী, পরিচিত ব্যক্তি, শিক্ষক বা ধর্মীয় শিক্ষক এবং নিকট আত্মীয়; অপরিচিত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা ছিল ৯.৭৪ শতাংশ। একই পর্যবেক্ষণে নথিভুক্ত ১২৪টি শিশু হত্যার ঘটনার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পরিবার বা বাড়ির পরিবেশের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে (দ্য ডেইলি স্টার, ২০২৬)।
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের প্রয়োজন কেবল কোনো একটি ঘটনার পর প্রতিবাদ, মিছিল বা দ্রুত শাস্তির দাবি নয়; প্রয়োজন একটি জাতীয়, দীর্ঘমেয়াদি এবং তথ্যনির্ভর শিশু সুরক্ষা আন্দোলন। শিশু সুরক্ষা কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার দায়িত্ব নয়; এটি একটি সমন্বিত সামাজিক দায়িত্ব। পরিবার ও প্রতিবেশী, স্কুল-মাদ্রাসা, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী, সমাজকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, বিচার ব্যবস্থা, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, গবেষক এবং রাষ্ট্র এদের প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব ও জবাবদিহির কাঠামোর মধ্যে একটি সমন্বিত শিশু-সুরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করতে হবে।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
এখানে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এআইকে মানবিক বিচার-বিবেচনা বা পেশাগত সিদ্ধান্তের বিকল্প হিসেবে নয়; বরং ঝুঁকি শনাক্তকরণে আগাম সতর্কতা, তথ্য ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং পেশাজীবীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক একটি প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।
উদাহরণস্বরূপ, একটি নিরাপদ ও সমন্বিত জাতীয় শিশু-সুরক্ষা তথ্য অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, সমাজসেবা কার্যক্রম, পুলিশ, শিশু সহায়তা হেল্পলাইন এবং আদালতের তথ্য ইত্যাদি প্রয়োজনীয় গোপনীয়তা, তথ্য-নিরাপত্তা ও আইনগত সুরক্ষা বজায় রেখে সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হতে পারে। এর মাধ্যমে কোন এলাকায় শিশুদের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি, কী ধরনের অবহেলা বা নির্যাতনের ঘটনা বারবার ঘটছে, কোন মামলাগুলো দীর্ঘদিন অমীমাংসিত রয়েছে এবং কোথায় প্রতিরোধমূলক বা সহায়ক সেবা আরও বেশি প্রয়োজন– এসব বিষয়ে দ্রুত ও তথ্যভিত্তিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
একইভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মামলার বর্ণনা, শিশু সহায়তা হেল্পলাইনের তথ্য, সমাজকর্মীদের নথি এবং অন্যান্য বর্ণনামূলক তথ্য বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। এতে প্রশাসনিক ফরমের নির্দিষ্ট ঘর বা চিহ্নিত তথ্যের বাইরে থাকা কিছু পুনরাবৃত্ত ঝুঁকির ধরন শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। যেমন শিশুকে দীর্ঘ সময় একা রাখা, পরিবারের অভ্যন্তরীণ সহিংসতা, খাদ্য বা মৌলিক যত্নের ঘাটতি, অভিভাবকের মাদকাসক্তি, শিশুর বারবার স্কুলে অনুপস্থিতি কিংবা আগের নির্যাতনের ইতিহাস এসব বিচ্ছিন্ন তথ্যকে একত্রে বিশ্লেষণ করে ঝুঁকির একটি সামগ্রিক চিত্র তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।
শুধু শাস্তি নয়, প্রতিরোধও
শিশু হত্যার পর অপরাধীর বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একটি কার্যকর শিশু-সুরক্ষা ব্যবস্থার সাফল্য শুধু কতজন অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তা দিয়ে পরিমাপ করা যথেষ্ট নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো অপরাধ ও নির্যাতন ঘটার আগেই কতটা ঝুঁকি শনাক্ত করা গেছে এবং কতগুলো ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
তাই আমাদের কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে: উচ্চঝুঁকির পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই কতগুলো পরিবার বা শিশুকে শনাক্ত করে সহায়তা দেওয়া গেছে? কত পরিবার ইতিবাচক ও নিরাপদ শিশুপালন বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়েছে? কত শিশু নিরাপদে এবং ভয় বা সামাজিক চাপ ছাড়াই সাহায্য চাইতে পেরেছে? কত স্কুল ও মাদ্রাসায় কার্যকর শিশু-সুরক্ষা নীতিমালা এবং অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা রয়েছে? অভিযোগ পাওয়ার পর কত দ্রুত এবং যথাযথভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? স্বাস্থ্যসেবা, সমাজসেবা, পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থার মধ্যে কতগুলো ঘটনা সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়েছে? নির্যাতনের শিকার শিশুর পুনরায় নির্যাতিত হওয়ার ঝুঁকি কতটা কমানো গেছে? কোন প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি বাস্তবে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা কমাতে কার্যকর হয়েছে?
অর্থাৎ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ‘ঘটনা ঘটার পর প্রতিক্রিয়া’ থেকে ‘ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিরোধ’-এর দিকে নিতে হবে।
ফলে শিশু সুরক্ষাকে কেবল পুলিশ বা বিচার ব্যবস্থার বিষয় হিসেবে না দেখে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবার, সমাজসেবা, অর্থনীতি, আইন এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে দেখতে হবে।
বাংলাদেশের জন্য নতুন সামাজিক চুক্তি
শেষ পর্যন্ত এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এটি বাংলাদেশের সামাজিক দায়িত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং সম্মিলিত জবাবদিহির প্রশ্ন। একটি শিশু যখন স্কুল বা মাদ্রাসায় যায়, প্রতিবেশীর বাড়িতে থাকে, খেলতে বাইরে যায় কিংবা পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্কের তত্ত্বাবধানে থাকে–প্রতিটি পরিস্থিতিতেই তার নিরাপত্তার জন্য একটি ন্যূনতম ও সর্বজনীন শিশু সুরক্ষা মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন।
আমাদের এমন একটি সামাজিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে শিশুর কথা গুরুত্বের সঙ্গে শোনা হবে, সন্দেহজনক বা ক্ষতিকর আচরণকে ‘পারিবারিক বিষয়’ বলে এড়িয়ে যাওয়া হবে না, নির্যাতনের অভিযোগ গোপন করার জন্য পরিবার বা শিশুর ওপর সামাজিক চাপ সৃষ্টি করা হবে না এবং কোনো প্রতিষ্ঠান নিজের সুনাম রক্ষার জন্য শিশুর নিরাপত্তাকে বিসর্জন দেবে না।
এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর পরিচয় ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা, ঘটনার অতিরঞ্জিত বা চাঞ্চল্যকর উপস্থাপন এড়িয়ে চলা এবং শুধু অপরাধের ঘটনা প্রকাশ না করে অপরাধের ঝুঁকি, প্রতিরোধের উপায়, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা এবং কার্যকর সমাধান নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করা প্রয়োজন। একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যম জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিও বাড়াতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য তাই একটি সমন্বিত ‘জাতীয় শিশু নিরাপত্তা অঙ্গীকার’ বিবেচনা করা যেতে পারে। এর আওতায় পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়, স্কুল ও মাদ্রাসা, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, সমাজসেবা সংস্থা, পুলিশ, বিচারব্যবস্থা, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ, গবেষক এবং সরকার– প্রত্যেকে নিজেদের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং জবাবদিহি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করবে। শিশু সুরক্ষাকে একটি বিচ্ছিন্ন প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং একটি সমন্বিত জাতীয় ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এই ব্যবস্থায় শুধু অভিযোগ গ্রহণ এবং মামলা পরিচালনা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন হবে প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ, দ্রুত সাড়া, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা, সামাজিক পুনর্বাসন, আইনি সুরক্ষা, পুনরায় নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ফলাফল মূল্যায়নের একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থা।
বাংলাদেশের ঘরে ঘরে মায়েদের কোলে পিঠে থাকা অপ্রতিম ও রামিসারা থাকুক নিরাপদে। শিশুরা বিকশিত হোক নির্মল পরিবেশে।
মো. সফিউল্লাহ: যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ডের স্কুল অব সোশ্যাল ওয়ার্কের পিএচডি শিক্ষার্থী
- বিষয় :
- শিশু
- নিরাপত্তাহীনতা
- শিশু নির্যাতন