পথনির্দেশনা রয়েছে সংবিধানেই
নির্বাচন কমিশন
আমাদের দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চেতনা-মানসিকতা হচ্ছে নির্বাচনকেন্দ্রিক। গণতন্ত্র বলতে নির্বাচন, অর্থাৎ ভোটাধিকার প্রয়োগকেই বোঝে সাধারণ মানুষ। সেই নির্বাচন ব্যবস্থা এখন বিতর্কিত, সহিংস ও রাজনৈতিক হানাহানির প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হুমকি-পাল্টা হুমকি আমাদের রাজনৈতিক সমাজের প্রতিদিনকার ঘটনা বলে বিবেচিত হয়। চলমান স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যেখানে হত্যার মতো অনেক ঘটনার উদ্ভব হচ্ছে, সেখানে হুমকি-ধমকি নস্যি হিসেবে পরিগণিত হবে, তা বলাই বাহুল্য। এমতাবস্থায় নির্বাচন কমিশন নিয়েই প্রশ্ন অনেক। আমরা বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি মহাসমারোহে উদযাপন করলাম। কিন্তু নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার বিষয়ে জোরালো রাজনৈতিক সমাজ দাবি তোলেনি। সরকার আইন প্রণয়নের কথা বললেও কার্যকর সে উদ্যোগ নেয়নি। রাজনৈতিক দলগুলো গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম স্তম্ভ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য দৃঢ়ভাবে রাস্তায় নামেনি। এই আইন না করা মানে সংবিধানের নির্দেশ অমান্য করা।
যারা রাজনীতিক, তারা তো আমাদের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন-দূরদর্শী- এটাই তো আমরা ভাবি। কিন্তু যে রাজনৈতিক শক্তিগুলো গত ৫০ বছর দেশ শাসন করেছে, তারাও একবারও মনে করেনি, যে নির্বাচন কমিশন আছে, তা আইনের দ্বারা গঠিত নয়। যে কমিশন আইনের দ্বারা গঠিত নয়, তা যে জোড়াতালি দেওয়া এবং ওই কমিশন যে স্বল্পকালের জন্য সৃষ্টি হয়েছিল, তা তারা ক'বার জোর দিয়ে বলেছেন? অর্থাৎ এই গলদটা যে রাজনীতিকদের, রাজনৈতিক সমাজের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার, এটা মনে হওয়া কি অস্বাভাবিক? কেন রাজনৈতিক এবং অরাজনৈতিক সরকারগুলো গত ৫০ বছরেও এই দায়িত্বটি পালন করেনি, তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।
সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি দিয়ে ক্রমান্বয়ে ডাকছেন নির্বাচন কমিশন গঠনে তাদের মতামত দেওয়ার জন্য। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যাশা অনুযায়ী 'ইসি'র পরবর্তী কর্তাদের পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ দেবেন। আমরা জানি, এর আগে 'সার্চ কমিটি'র মাধ্যমে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তরা অতীতে কী করেছেন, তার বহু নজির আমাদের সামনে আছে। আমরা অনেক এমপি, মন্ত্রীর মুখে শুনেছি তাদের বিজয়ের গৌরব প্রকাশে নানা কথা। কিন্তু তারা কি তাদের অর্জন নিয়ে নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করেছেন কখনও? ক্ষমতাদর্পী ও ক্ষমতার মসনদই যাদের চিন্তায় লালিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং তারা 'ছলে-বলে, কলে-কৌশলে' ক্ষমতার মসনদে বসারই চেষ্টা করেন। এটাই ঘটে চলেছে আমাদের রাজনীতিতে, যা কাম্য ছিল না, কখনোই কাম্য নয়।
প্রথম দিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ ছিল জাতীয় পার্টির। সংবাদমাধ্যমে দেখেছি, তাদের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচনের জন্য আইন প্রণয়নের দাবি করেছেন। এরপর গিয়েছিলেন জাসদ [ইনু] নেতারা। তাদের দাবিও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে ইসি গঠনের আইন প্রণয়নের। তবে আপাতত সার্চের কথাও বলেছেন। অর্থাৎ তারা দুই দিকেই তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধি সাধনের দরজা খোলা রাখতে চেয়েছেন। অন্যদেরও প্রায় একই রকম বক্তব্য। তবে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপির নেতৃত্বে তাদের সাত সদস্যের প্রতিনিধি খানিকটা ভিন্নমত দিয়েছেন। রাশেদ খান মেনন বলেছেন, আগামী নির্বাচনের জন্য হাতে যে সময় আছে এর চেয়ে কম সময়েও সংবিধান সংশোধন হয়েছে। কথাটা অমূলক নয়।
সরকারের দায়িত্বশীল একজন বলেছেন, এই ইসির পর আইন প্রণীত হবে। কেন? এখন কেন নয়? প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই রাষ্ট্রপতি রাজনীতিকদের ডেকে মতামত নিচ্ছেন। তারাই 'নিরপেক্ষ ইসির অরাজনৈতিক ও নিরপেক্ষ লোক' খুঁজে দেবেন। আসলে কোনো শিক্ষিত প্রজ্ঞাবান মানুষই যে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ হতে পারেন না, সেই বোধ আমাদের অনেকের মধ্যে খুব কম। যাদের মনোনয়ন দেবেন তারা প্রত্যেকেই নিরপেক্ষতার ভানের ভেতরে ক্ষমতাসীন দলের কর্মী হিসেবেই কাজ করবেন। যেমনটা করেছেন সিইসি নূরুল হুদা ও তার সহকর্মীরা। অতীতে করেছেন সাদেক কমিশন, আজিজ কমিশন। বর্তমান কমিশনার কবি ও সাবেক আমলা মাহবুব তালুকদারকে সমালোচনামুখর হতে দেখলাম আমরা। কিন্তু তিনি আর কতটাই বা কী করতে পেরেছেন? নির্বাচন বাতিল করার ক্ষমতা কি তার আছে? সে ক্ষমতা নূরুল হুদার থাকলেও তিনি সে পথে যাননি। বরং প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছেন সিইসি নূরুল হুদা। পরে আবার তিনিই বলেছেন, ইসি আর রাতের আঁধারের নির্বাচন দেখতে চায় না!
ক্ষমতার মোহ রাজনীতিকদের অন্ধ করে দেয়। আমরা আর কতকাল দেখব ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতিকরা এমন মোহাবিষ্ট থাকবেন? দায়িত্বশীলরা কেন ভোটারদের ভোট প্রয়োগের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করবেন? কেন ভোটার রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়ে খুন হবেন? কেন রাষ্ট্র সেই ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে অপরাধের খতিয়ান বিস্তৃত করছে? এ রকম আরও অনেক প্রশ্ন তোলা যায় রাজনৈতিক সরকার ও সরকারগুলোর কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে। কিন্তু তাদের কাছে এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই।
সদিচ্ছা থাকলে সরকার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন গঠনের আইন সংসদে উপস্থাপন করে তা পাস করতে পারে। সুশাসনের জন্য নাগরিক [সুজন] ইতোমধ্যে একটি খসড়া দিয়েছে। সেটা যথেষ্ট যদি না হয়ে থাকে, তাহলে সেই খসড়া সংস্কার করলে আইনটি কম সময়েই দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু সরকার ওই আইন করতে চায় না বলেই গড়িমসি করছে। আইনটি সরকারের জন্য নয়, কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য নয়, দেশের জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে অধিকার কয়েমের লক্ষ্যে প্রণীত হওয়া দরকার। কোনো দলের স্বার্থরক্ষার আয়োজন সেখানে থাকবে না। আইনটি হতে হবে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হবে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে। তা করা জরুরি, যাতে ভোটাররা তাদের মতামত স্বাধীনভাবে ব্যক্ত করতে পারেন। রাজনৈতিক দলের চোখ রাঙানি, শাসানি, কিংবা কেন্দ্র দখল করে রিগিং করার চাপ যাতে তাদের অধিকারকে হত্যা করতে না পারে, তার জন্যই নির্বাচন কমিশন আইন দ্বারা গঠিত হওয়া দরকার।
মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই সৃষ্টি হচ্ছে কদাচারের। গণতন্ত্র বিবর্ণ হচ্ছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জনআকাঙ্ক্ষা থেকে যাচ্ছে অপূর্ণ। আমরা এই পরিস্থিতির নিরসন চাই। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের আলোকে প্রণীত হোক নির্বাচন কমিশন গঠন আইন। রাজনৈতিক হিংসা নির্মূল করে সৃষ্টি করতে হবে মানবিক রাজনৈতিক পরিবেশ। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে জাতি বিজয় অর্জন করেছে, সেই জাতি কেন কদাচারের মুখোমুখি হবে?
ড. মাহবুব হাসান: কবি ও সাংবাদিক
যারা রাজনীতিক, তারা তো আমাদের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন-দূরদর্শী- এটাই তো আমরা ভাবি। কিন্তু যে রাজনৈতিক শক্তিগুলো গত ৫০ বছর দেশ শাসন করেছে, তারাও একবারও মনে করেনি, যে নির্বাচন কমিশন আছে, তা আইনের দ্বারা গঠিত নয়। যে কমিশন আইনের দ্বারা গঠিত নয়, তা যে জোড়াতালি দেওয়া এবং ওই কমিশন যে স্বল্পকালের জন্য সৃষ্টি হয়েছিল, তা তারা ক'বার জোর দিয়ে বলেছেন? অর্থাৎ এই গলদটা যে রাজনীতিকদের, রাজনৈতিক সমাজের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার, এটা মনে হওয়া কি অস্বাভাবিক? কেন রাজনৈতিক এবং অরাজনৈতিক সরকারগুলো গত ৫০ বছরেও এই দায়িত্বটি পালন করেনি, তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।
সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি দিয়ে ক্রমান্বয়ে ডাকছেন নির্বাচন কমিশন গঠনে তাদের মতামত দেওয়ার জন্য। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যাশা অনুযায়ী 'ইসি'র পরবর্তী কর্তাদের পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ দেবেন। আমরা জানি, এর আগে 'সার্চ কমিটি'র মাধ্যমে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তরা অতীতে কী করেছেন, তার বহু নজির আমাদের সামনে আছে। আমরা অনেক এমপি, মন্ত্রীর মুখে শুনেছি তাদের বিজয়ের গৌরব প্রকাশে নানা কথা। কিন্তু তারা কি তাদের অর্জন নিয়ে নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করেছেন কখনও? ক্ষমতাদর্পী ও ক্ষমতার মসনদই যাদের চিন্তায় লালিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং তারা 'ছলে-বলে, কলে-কৌশলে' ক্ষমতার মসনদে বসারই চেষ্টা করেন। এটাই ঘটে চলেছে আমাদের রাজনীতিতে, যা কাম্য ছিল না, কখনোই কাম্য নয়।
প্রথম দিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ ছিল জাতীয় পার্টির। সংবাদমাধ্যমে দেখেছি, তাদের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচনের জন্য আইন প্রণয়নের দাবি করেছেন। এরপর গিয়েছিলেন জাসদ [ইনু] নেতারা। তাদের দাবিও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে ইসি গঠনের আইন প্রণয়নের। তবে আপাতত সার্চের কথাও বলেছেন। অর্থাৎ তারা দুই দিকেই তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধি সাধনের দরজা খোলা রাখতে চেয়েছেন। অন্যদেরও প্রায় একই রকম বক্তব্য। তবে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপির নেতৃত্বে তাদের সাত সদস্যের প্রতিনিধি খানিকটা ভিন্নমত দিয়েছেন। রাশেদ খান মেনন বলেছেন, আগামী নির্বাচনের জন্য হাতে যে সময় আছে এর চেয়ে কম সময়েও সংবিধান সংশোধন হয়েছে। কথাটা অমূলক নয়।
সরকারের দায়িত্বশীল একজন বলেছেন, এই ইসির পর আইন প্রণীত হবে। কেন? এখন কেন নয়? প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই রাষ্ট্রপতি রাজনীতিকদের ডেকে মতামত নিচ্ছেন। তারাই 'নিরপেক্ষ ইসির অরাজনৈতিক ও নিরপেক্ষ লোক' খুঁজে দেবেন। আসলে কোনো শিক্ষিত প্রজ্ঞাবান মানুষই যে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ হতে পারেন না, সেই বোধ আমাদের অনেকের মধ্যে খুব কম। যাদের মনোনয়ন দেবেন তারা প্রত্যেকেই নিরপেক্ষতার ভানের ভেতরে ক্ষমতাসীন দলের কর্মী হিসেবেই কাজ করবেন। যেমনটা করেছেন সিইসি নূরুল হুদা ও তার সহকর্মীরা। অতীতে করেছেন সাদেক কমিশন, আজিজ কমিশন। বর্তমান কমিশনার কবি ও সাবেক আমলা মাহবুব তালুকদারকে সমালোচনামুখর হতে দেখলাম আমরা। কিন্তু তিনি আর কতটাই বা কী করতে পেরেছেন? নির্বাচন বাতিল করার ক্ষমতা কি তার আছে? সে ক্ষমতা নূরুল হুদার থাকলেও তিনি সে পথে যাননি। বরং প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছেন সিইসি নূরুল হুদা। পরে আবার তিনিই বলেছেন, ইসি আর রাতের আঁধারের নির্বাচন দেখতে চায় না!
ক্ষমতার মোহ রাজনীতিকদের অন্ধ করে দেয়। আমরা আর কতকাল দেখব ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতিকরা এমন মোহাবিষ্ট থাকবেন? দায়িত্বশীলরা কেন ভোটারদের ভোট প্রয়োগের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করবেন? কেন ভোটার রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়ে খুন হবেন? কেন রাষ্ট্র সেই ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে অপরাধের খতিয়ান বিস্তৃত করছে? এ রকম আরও অনেক প্রশ্ন তোলা যায় রাজনৈতিক সরকার ও সরকারগুলোর কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে। কিন্তু তাদের কাছে এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই।
সদিচ্ছা থাকলে সরকার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন গঠনের আইন সংসদে উপস্থাপন করে তা পাস করতে পারে। সুশাসনের জন্য নাগরিক [সুজন] ইতোমধ্যে একটি খসড়া দিয়েছে। সেটা যথেষ্ট যদি না হয়ে থাকে, তাহলে সেই খসড়া সংস্কার করলে আইনটি কম সময়েই দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু সরকার ওই আইন করতে চায় না বলেই গড়িমসি করছে। আইনটি সরকারের জন্য নয়, কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য নয়, দেশের জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে অধিকার কয়েমের লক্ষ্যে প্রণীত হওয়া দরকার। কোনো দলের স্বার্থরক্ষার আয়োজন সেখানে থাকবে না। আইনটি হতে হবে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হবে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে। তা করা জরুরি, যাতে ভোটাররা তাদের মতামত স্বাধীনভাবে ব্যক্ত করতে পারেন। রাজনৈতিক দলের চোখ রাঙানি, শাসানি, কিংবা কেন্দ্র দখল করে রিগিং করার চাপ যাতে তাদের অধিকারকে হত্যা করতে না পারে, তার জন্যই নির্বাচন কমিশন আইন দ্বারা গঠিত হওয়া দরকার।
মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই সৃষ্টি হচ্ছে কদাচারের। গণতন্ত্র বিবর্ণ হচ্ছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জনআকাঙ্ক্ষা থেকে যাচ্ছে অপূর্ণ। আমরা এই পরিস্থিতির নিরসন চাই। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের আলোকে প্রণীত হোক নির্বাচন কমিশন গঠন আইন। রাজনৈতিক হিংসা নির্মূল করে সৃষ্টি করতে হবে মানবিক রাজনৈতিক পরিবেশ। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে জাতি বিজয় অর্জন করেছে, সেই জাতি কেন কদাচারের মুখোমুখি হবে?
ড. মাহবুব হাসান: কবি ও সাংবাদিক
