দ্রোহ ও মানবতার শিক্ষক লালন
সমাজের অহিংস, অসাম্প্রদায়িক, সমাজ সংস্কারক মরমি সাধক ফকির লালন সাঁইকে নিয়ে আমাদের আগ্রহের শেষ নেই। এ আগ্রহ ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। লালনের জীবন তাঁর রচিত গীতি কবিতা তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জীবনে এমনভাবে আলোচিত করেছে যে, বিদ্বজ্জনকে ভাবিয়ে তুলছে রীতিমতো। বাংলা ভাষাভাষী মানুষের (এপার বাংলা, ওপার বাংলা ও প্রবাসী বাংলা) কাছে লালন জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েই চলছে। যন্ত্রনির্ভর ডিজিটাল গ্লোবালাইজেশনের মস্ত ব্যস্ত পৃথিবীতে বাঙালির ধর্ম, সভ্যতা, সংস্কৃতি, মানসিকতা ও রুচির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এর পরও গ্রামবাংলার ও শিষ্ট সমাজে মানুষের চেতনার স্পন্দনে লালন জীবন্ত, লালন ভাস্কর। লালন সাঁইজির সঠিক জন্মতারিখ ও সন আমাদের প্রামাণ্যের অন্তরালে রয়ে গেছে। তবে ভক্ত ও গবেষককুল মৃত্যু তারিখকে প্রমাণ সময় ধরে লালন শাহের জন্মসাল নির্ণয় করেছেন ১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দ। অর্থাৎ ১৮৯০ সালে যখন লালন শাহ মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স হয়েছিল ১১৬ বছর। ১৭৭৪ বা ১৭৭২ সাল যেটিই হোক, লালনের জন্মসাল নিয়ে আমাদের তেমন বিতর্ক নেই। লালন শাহ পলাশির যুদ্ধের ঠিক ১৭ বছর পরে এক অজপাড়াগাঁয়ে জন্ম নেন। ভারতীয় সমাজ পরিবর্তনে পলাশির যুদ্ধ তথা ইংরেজ শাসন এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা
রাখে। আমরা জানি, কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবেই সভ্যতার পথে প্রাচীন বাংলার অভিযাত্রা। তবে পলাশির যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময় সমাজতাত্ত্বিক মূল্য বিচারে ছিল এক স্ট্যাটিক সোসাইটি অর্থাৎ বেশ নিশ্চল সময়।
১৮৯০ সালে মীর মশারফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১২) সম্পাদিত ও কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত 'হিতকরী' পত্রিকায় প্রকাশিত একই পত্রিকার সহসম্পাদক রায় চরণ দাসের (১৮৫৯-১৯৩২) 'মহাত্মা লালন ফকীর' নিবন্ধের তথ্যমতে, ১১৬ বছর আয়ুর অধিকারী ফকির লালন শাহের মৃত্যু হয় ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর শুক্রবার (১ কার্তিক ১২৯৭ বঙ্গাব্দ)। লালন তাঁর যৌবনের মধ্যভাগে গৃহত্যাগ করেন। ফকির লালন শাহ সম্ভবত ১২৩০ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৮২৩ খ্রিষ্টাব্দের আগেই কুষ্টিয়ার গ্রামে গড়াই নদীর ধারে ছেঁউড়িয়া নামের পল্লীতে উপস্থিত হন। সমাজ সংস্কার বিচ্যুত লালন, জগৎ ও জীবন জিজ্ঞাসার জবাব খুঁজে পান সিরাজ সাঁই নামে এক তত্ত্বসিদ্ধ বাউল গুরুর সান্নিদ্ধে। তিনি সিরাজ সাঁইয়ের কাছেই বাউল মতবাদে দীক্ষা গ্রহণ করেন। ছেঁউড়িয়া মৌজায় লালন ভক্ত মলম শাহ করিরাজ লালন ফকির স্কেসাড়ে ১৬ বিঘা জমি দান করেন। এই দানকৃত জমির প্রায় অর্ধাংশের ওপর লালনের আখড়া গড়ে ওঠে। ছেঁউড়িয়া আখড়া ঘিরে লালনপন্থিদের সাধন আবর্তে বাংলার কোটি মানুষের লোকায়ত সাধনমুখী চেতনায় লালন ফকিরের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। শিষ্য পরম্পরায় তিনি প্রতিষ্ঠিত হন সাধক গুরু হিসেবে। তাঁর গান সাধনসঙ্গীত হিসেবে লালন আখড়া ও তাঁর শিষ্যদের মনে সঞ্চারিত ও সঞ্চিত হতে থাকে।
বাঙালির সঙ্গে বাউলের যোগাযোগ আদিকালের। বাউল অর্থই ঘর-সংসারত্যাগী সমাজকর্মী। দ্বৈতসত্তায় বেড়ে ওঠা লালন তাঁর দুই চোখে দুই ভিন্ন ধারার নদী। একদিকে সাঁই নিরস্তরের সন্ধানে শুরু হয় নিরন্তর যাত্রা, পাশাপাশি পথের কাঁটা সামাজিক বাধাকে পেরিয়ে যাওয়ার জবর লড়াই। এভাবেই লালন হয়ে ওঠেন একই সঙ্গে মরমি ও বিদ্রোহী সমাজসংস্কারক হিসেবে। দেহতত্ত্ব, অধ্যাত্ম সাধনার পরম গুরু ও সমাজে প্রচলিত উৎপীড়ন, অত্যাচার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক লড়াকু মানবমুক্তির দিশারি ও লোকায়ত বাঙালির বিবেকসত্তা। এ দু'ধারাকে আমরা দেখি এভাবে- একদিকে মরমি সাধনার নম্রভদ্র অধ্যাত্মবাদী অন্তর্লোকের সন্ধান, অন্যদিকে বিদ্রোহের দাবানল জ্বেলে সমাজের আচার-আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলার প্রয়াস। এ দ্বৈতসত্তা বির্নিমাণে পরিবার, সমাজ ও সমকালীন পরিবেশ-প্রতিবেশই সম্যক ভূমিকা পালন করে। আমাদের লালনের প্রতবাদী বিপ্লবী চেহারা দেখি, বাউলের মনগড়া শাস্ত্র বিশ্নেষণের ধারা পরিহার করে একটি প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাশালী বিত্তবান ও শাস্ত্র বিশ্নেষকদের বিপক্ষে। এক নীরব সুসংগঠিত গণগরিব বিদ্রোহ।
বিপ্লব ও মহত্ত্বটার পেছনের সত্তাই হলো মানুষ। লালন বারবার বলেছেন, 'মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি'। হিন্দু-মুসলিম দুই ধর্মেরই অপব্যাখ্যায় জর্জরিত অতি সাধারণের দুঃখে দুঃখী। লালন বললেন, 'কলিতে অমানুষের জোর। ভালো মানুষ বানায় চোর।' বারবার আউল-বাউলের ওপর আঘাত এসেছে। আঘাত এসেছে লালনের ওপর। লালন সম্পর্কে অবজ্ঞা-ঘৃণা দুটি ধর্মের বকধার্মিকেরই বিকারগ্রন্থ রুচির ফল। লালন মানবধর্মেও ইহজাগতিকতায় বিশ্বাসী। মানবতাকে আশ্রয় সমাজবদলের ব্রত নিয়েছিলেন। জাতধর্মকে মনেপ্রাণে বিসর্জন দেন। কারণ নারী ও পুরুষ এই হলো মানুষের জাত। গোত্র-বর্ণকে লালন তোয়াক্কা করেননি। জীবনের শুরুতেই কৈশোর পেরিয়ে যৌবনের প্রথম প্রহরেই জাত-ধর্মের গণ্ডি পার করলেন লালন। কিন্তু স্রোতের প্রতিকূলে লালন যাবেন- উচ্চবর্ণের আঁতে লেগেছে বৈকি। কেননা ধর্ম ধর্ম করে গায়ের জোরে, অর্থের জোরে দম্ভশক্তি দিয়ে বজ্রের আঘাত হেনেছে লালনের ওপর। লালন কুণ্ঠিত হননি। যদিও যবন, ন্যাড়া, বেশরা, জারজ, ব্রাত্য, পাষণ্ড গালাগাল শুনেছেন।
মরমি সাধক বাউল লালন সাঁইজি শুধু দেহতত্ত্বের পদাবলিই রচনা করেননি। সমাজ জাগরণের গান লিখেছেন। সমাজের নানা অসঙ্গতি, কুসংস্কার, অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি দাঁড়িয়েছেন। লালন ভালো করেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, সমাজের আঁধার না ঘুচলে কখনোই সাধন-ভজন সার্থক হবে না। সমাজবদলের লড়াইয়ে বাউলরা আজও অবিচল। লালনের উত্তরসূরি হিসেবে বাউলদের ওপর আজকের যে আঘাত, তা বিগত আঘাতেরই নতুন সংস্করণ মাত্র। তবে বাউলরা সবসময় ন্যায়ের পক্ষে। আত্মোপলব্ধি করে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে মানব জাতির কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন- 'নিজেকে জানো।' কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার অজপল্লীতে বসে সক্রেটিস সম্পর্কে হয়তো লালনের সম্যক ধারণা ছিল না; কিন্তু চিন্তার কী যে ঐক্য লালনের গানে আমরা দেখি। 'আত্মতত্ত্ব যেই জেনেছে- দিব্য জ্ঞানী সেই হয়েছে।' অর্থাৎ গুণীজনের ভাবনা ও চিন্তার মিলন কীভাবে অভিন্ন হলো, তা বড় প্রমাণ মেলে। মহতী লালন কালপরিক্রমায় মানবতাবাদী একজন অনন্য সাধক মহাত্মা। মানবতার মহানুভবতাই তাঁর গুণ। এই মহাত্মাপ্রাণ লালন, যিনি বাংলা ভাষাভাষী মানুষের অহঙ্কার। আমাদের শিকড়ের সন্ধান করলে যাঁকে সততই শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করতে হয়।
অধ্যাপক ও উপাধ্যক্ষ
নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ, রাজশাহী
রাখে। আমরা জানি, কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবেই সভ্যতার পথে প্রাচীন বাংলার অভিযাত্রা। তবে পলাশির যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময় সমাজতাত্ত্বিক মূল্য বিচারে ছিল এক স্ট্যাটিক সোসাইটি অর্থাৎ বেশ নিশ্চল সময়।
১৮৯০ সালে মীর মশারফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১২) সম্পাদিত ও কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত 'হিতকরী' পত্রিকায় প্রকাশিত একই পত্রিকার সহসম্পাদক রায় চরণ দাসের (১৮৫৯-১৯৩২) 'মহাত্মা লালন ফকীর' নিবন্ধের তথ্যমতে, ১১৬ বছর আয়ুর অধিকারী ফকির লালন শাহের মৃত্যু হয় ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর শুক্রবার (১ কার্তিক ১২৯৭ বঙ্গাব্দ)। লালন তাঁর যৌবনের মধ্যভাগে গৃহত্যাগ করেন। ফকির লালন শাহ সম্ভবত ১২৩০ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৮২৩ খ্রিষ্টাব্দের আগেই কুষ্টিয়ার গ্রামে গড়াই নদীর ধারে ছেঁউড়িয়া নামের পল্লীতে উপস্থিত হন। সমাজ সংস্কার বিচ্যুত লালন, জগৎ ও জীবন জিজ্ঞাসার জবাব খুঁজে পান সিরাজ সাঁই নামে এক তত্ত্বসিদ্ধ বাউল গুরুর সান্নিদ্ধে। তিনি সিরাজ সাঁইয়ের কাছেই বাউল মতবাদে দীক্ষা গ্রহণ করেন। ছেঁউড়িয়া মৌজায় লালন ভক্ত মলম শাহ করিরাজ লালন ফকির স্কেসাড়ে ১৬ বিঘা জমি দান করেন। এই দানকৃত জমির প্রায় অর্ধাংশের ওপর লালনের আখড়া গড়ে ওঠে। ছেঁউড়িয়া আখড়া ঘিরে লালনপন্থিদের সাধন আবর্তে বাংলার কোটি মানুষের লোকায়ত সাধনমুখী চেতনায় লালন ফকিরের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। শিষ্য পরম্পরায় তিনি প্রতিষ্ঠিত হন সাধক গুরু হিসেবে। তাঁর গান সাধনসঙ্গীত হিসেবে লালন আখড়া ও তাঁর শিষ্যদের মনে সঞ্চারিত ও সঞ্চিত হতে থাকে।
বাঙালির সঙ্গে বাউলের যোগাযোগ আদিকালের। বাউল অর্থই ঘর-সংসারত্যাগী সমাজকর্মী। দ্বৈতসত্তায় বেড়ে ওঠা লালন তাঁর দুই চোখে দুই ভিন্ন ধারার নদী। একদিকে সাঁই নিরস্তরের সন্ধানে শুরু হয় নিরন্তর যাত্রা, পাশাপাশি পথের কাঁটা সামাজিক বাধাকে পেরিয়ে যাওয়ার জবর লড়াই। এভাবেই লালন হয়ে ওঠেন একই সঙ্গে মরমি ও বিদ্রোহী সমাজসংস্কারক হিসেবে। দেহতত্ত্ব, অধ্যাত্ম সাধনার পরম গুরু ও সমাজে প্রচলিত উৎপীড়ন, অত্যাচার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক লড়াকু মানবমুক্তির দিশারি ও লোকায়ত বাঙালির বিবেকসত্তা। এ দু'ধারাকে আমরা দেখি এভাবে- একদিকে মরমি সাধনার নম্রভদ্র অধ্যাত্মবাদী অন্তর্লোকের সন্ধান, অন্যদিকে বিদ্রোহের দাবানল জ্বেলে সমাজের আচার-আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলার প্রয়াস। এ দ্বৈতসত্তা বির্নিমাণে পরিবার, সমাজ ও সমকালীন পরিবেশ-প্রতিবেশই সম্যক ভূমিকা পালন করে। আমাদের লালনের প্রতবাদী বিপ্লবী চেহারা দেখি, বাউলের মনগড়া শাস্ত্র বিশ্নেষণের ধারা পরিহার করে একটি প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাশালী বিত্তবান ও শাস্ত্র বিশ্নেষকদের বিপক্ষে। এক নীরব সুসংগঠিত গণগরিব বিদ্রোহ।
বিপ্লব ও মহত্ত্বটার পেছনের সত্তাই হলো মানুষ। লালন বারবার বলেছেন, 'মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি'। হিন্দু-মুসলিম দুই ধর্মেরই অপব্যাখ্যায় জর্জরিত অতি সাধারণের দুঃখে দুঃখী। লালন বললেন, 'কলিতে অমানুষের জোর। ভালো মানুষ বানায় চোর।' বারবার আউল-বাউলের ওপর আঘাত এসেছে। আঘাত এসেছে লালনের ওপর। লালন সম্পর্কে অবজ্ঞা-ঘৃণা দুটি ধর্মের বকধার্মিকেরই বিকারগ্রন্থ রুচির ফল। লালন মানবধর্মেও ইহজাগতিকতায় বিশ্বাসী। মানবতাকে আশ্রয় সমাজবদলের ব্রত নিয়েছিলেন। জাতধর্মকে মনেপ্রাণে বিসর্জন দেন। কারণ নারী ও পুরুষ এই হলো মানুষের জাত। গোত্র-বর্ণকে লালন তোয়াক্কা করেননি। জীবনের শুরুতেই কৈশোর পেরিয়ে যৌবনের প্রথম প্রহরেই জাত-ধর্মের গণ্ডি পার করলেন লালন। কিন্তু স্রোতের প্রতিকূলে লালন যাবেন- উচ্চবর্ণের আঁতে লেগেছে বৈকি। কেননা ধর্ম ধর্ম করে গায়ের জোরে, অর্থের জোরে দম্ভশক্তি দিয়ে বজ্রের আঘাত হেনেছে লালনের ওপর। লালন কুণ্ঠিত হননি। যদিও যবন, ন্যাড়া, বেশরা, জারজ, ব্রাত্য, পাষণ্ড গালাগাল শুনেছেন।
মরমি সাধক বাউল লালন সাঁইজি শুধু দেহতত্ত্বের পদাবলিই রচনা করেননি। সমাজ জাগরণের গান লিখেছেন। সমাজের নানা অসঙ্গতি, কুসংস্কার, অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি দাঁড়িয়েছেন। লালন ভালো করেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, সমাজের আঁধার না ঘুচলে কখনোই সাধন-ভজন সার্থক হবে না। সমাজবদলের লড়াইয়ে বাউলরা আজও অবিচল। লালনের উত্তরসূরি হিসেবে বাউলদের ওপর আজকের যে আঘাত, তা বিগত আঘাতেরই নতুন সংস্করণ মাত্র। তবে বাউলরা সবসময় ন্যায়ের পক্ষে। আত্মোপলব্ধি করে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে মানব জাতির কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন- 'নিজেকে জানো।' কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার অজপল্লীতে বসে সক্রেটিস সম্পর্কে হয়তো লালনের সম্যক ধারণা ছিল না; কিন্তু চিন্তার কী যে ঐক্য লালনের গানে আমরা দেখি। 'আত্মতত্ত্ব যেই জেনেছে- দিব্য জ্ঞানী সেই হয়েছে।' অর্থাৎ গুণীজনের ভাবনা ও চিন্তার মিলন কীভাবে অভিন্ন হলো, তা বড় প্রমাণ মেলে। মহতী লালন কালপরিক্রমায় মানবতাবাদী একজন অনন্য সাধক মহাত্মা। মানবতার মহানুভবতাই তাঁর গুণ। এই মহাত্মাপ্রাণ লালন, যিনি বাংলা ভাষাভাষী মানুষের অহঙ্কার। আমাদের শিকড়ের সন্ধান করলে যাঁকে সততই শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করতে হয়।
অধ্যাপক ও উপাধ্যক্ষ
নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ, রাজশাহী
