ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন পুনরুদ্ধার ও সুস্থতার পথ

দিবস

বন পুনরুদ্ধার ও সুস্থতার পথ

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২১ | ১৭:৫৭ | আপডেট: ২০ মার্চ ২০২১ | ২০:৫৭

আজ বিশ্ব বন দিবস। ক্রমবর্ধমান হারে বনভূমির ব্যাপক অবক্ষয়ের ফলে পৃথিবীতে বিশাল সংখ্যক উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির জীবন বিপন্ন। জীববৈচিত্র্যের সংকট ও বিপদাপন্নতা বিষয়ে মানুষের সচেতনতা বাড়াতেই বিশ্ব বন দিবস পালন করা হয়। ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় বন ও বনভূমির নিরাপত্তা রক্ষায় ২১ মার্চকে 'বিশ্ব বন দিবস' ঘোষণা করা হয়। মহামারি কভিড-১৯ আতঙ্কের মধ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সীমিত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

প্রতিটি বন দিবসে দেশগুলোকে বন এবং গাছ সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় বৃক্ষরোপণকে উৎসাহিত করা হয়। প্রতিটি আন্তর্জাতিক বন দিবসের প্রতিপাদ্য বন সম্পর্কিত সহযোগী অংশীদারী (সিপিএফ) নির্ধারণ করে। এ বছর বিশ্ব বন দিবসের প্রতিপাদ্য- 'বন পুনরুদ্ধার :পুনরুদ্ধার এবং সুস্থতার পথে'।

আমরা জানি, প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বনভূমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বন অক্সিজেনের এক বিপুল সরবরাহকারী। আমাদের জীবন ও জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ বন। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বনভূমির অবদান উল্লেখযোগ্য। মানুষের জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং শিল্পের উন্নয়নে বনের অবদান অনস্বীকার্য। সর্বোপরি, পৃথিবীতে জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় বন অপরিহার্য।

পরিবেশবাদীরা মনে করেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ, শিল্পায়ন, কৃষি সম্প্রসারণ ও নগরায়ণের ফলে বিশ্বব্যাপী বন ও বনভূমি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করেছে। এতে সমুদ্র উপকূলের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আমাদের দেশের নিম্নাঞ্চলও সাগরের লোনা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেও সারাবিশ্বে বনভূমি বৃদ্ধি আবশ্যক। কিন্তু বাস্তবতা এর বিপরীত। প্রতি বছর উজাড় হচ্ছে বনভূমি। বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের বনজ সম্পদ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। 

বাংলাদেশে বর্তমানে মাথাপিছু বনভূমির পরিমাণ শূন্য দশমিক শূন্য ২ হেক্টরেরও কম। এটি বন ও মানুষের বিশ্ব-অনুপাতে সর্বনিম্ন হার। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ৩৫-৪০ বছরের মধ্যে অথবা তার আগেই বনভূমি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। প্রতিনিয়ত বন উজাড়ের ফলে মূল্যবান প্রজাতিগুলো অচিরেই বিলুপ্ত হয়েছে। অনেক বড় একটি পরিসংখ্যানে অতি বিপদাপন্ন প্রজাতি হিসেবে লাল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। জীববৈচিত্র্যের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিলুপ্ত হয়ে গেছে ইতোমধ্যে অনেক প্রাণী ও উদ্ভিজ্জ প্রজাতি। দেশের আয়তন ও প্রয়োজনের তুলনায় বনভূমি কম থাকায় বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও নদনদীর নাব্য হ্রাস পাচ্ছে। জমির উর্বরতা হ্রাস, বন্যা, পাহাড় ধস, ভূমিক্ষয় ও সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ুর পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রবণতা, তীব্রতা ও ব্যাপকতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বন সৃজন ও বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। সরকারি-বেসরকারি এমনকি ব্যক্তিগত পর্যায়ে ব্যাপক হারে বনায়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সংঘটিত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

গবেষক ও পরিবেশবিদ

আরও পড়ুন

×