লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বিদ্যালয়ের ভবন ভেঙে নেওয়ার অভিযাগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের শাকতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পাকা ভবন নিলাম ছাড়াই ভেঙে মালপত্র আত্মসাৎ করেছেন ওই চেয়ারম্যান।

গত বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পুরোনো ভবনটির ৯৫ শতাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। কয়েকজন শ্রমিক ভাঙার কাজ করছিল। অন্যদিকে ট্রলিতে পুরোনো ভবনের ইট তুলছেন কয়েকজন শ্রমিক। ইট কোথায় নেওয়া হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রলি শ্রমিকরা বলেন, জাহিদ চেয়ারম্যানের নির্দেশে ইট নিচ্ছে তারা। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় একজন লোক এসে তার মোবাইল ফোন এগিয়ে দিয়ে বলেন, জাহিদ ভাই আপনাদের সঙ্গে কথা বলবে। ফোন কানে ধরতেই চেয়ারম্যান বলেন, কাজটি আমিই করছি, আপনারা সাংবাদিক বলে সব জায়গায় যেতে হবে নাকি।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অ্যানী বনিক বলেন, বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের কাজ টেন্ডারে পেয়েছে জাহিদ চেয়ারম্যানের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পুরোনো ভবনের নিলামের জন্য ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শিক্ষা অফিসে দিয়েছেন তিনি। তবে পুরোনো ভবন নিলাম হয়নি। বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না তিনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলতর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টির জন্য নতুন ভবন টেন্ডার হয়েছে। পুরোনো ভবন ভাঙার জন্য নিলাম আহ্বান করব। ব্যাংকে ট্রেজারি চালানের অর্থ জমা দেওয়ার পর সর্বোচ্চ দরদাতাকে পুরোনো ভবনটি ভেঙে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। নিলাম ছাড়া পুরোনো ভবন ভাঙার বিধান নেই। তবে চেয়ারম্যান কীভাবে ভেঙে নিয়েছেন, তা জানেন না তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউএনও তাপ্তি চাকমা বলেন, নিলাম ছাড়া বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন কেউ ভেঙে নিতে পারে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।