ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সেতু ভেঙে পড়ায় ফসল পরিবহনে দুর্ভোগে দুই গ্রামের কৃষক

সেতু ভেঙে পড়ায় ফসল পরিবহনে দুর্ভোগে দুই  গ্রামের কৃষক
×

ছবি- সমকাল

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩৪ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:৪৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের বেগুনগ্রামে বিশাল ফসলি মাঠের মাঝে থাকা একমাত্র সেতু ভেঙে দুই গ্রামের কৃষকের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এতে মাঠের ফসল পরিবহনে চার বছর ধরে শতশত কৃষককে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে জিন্দারপুর ইউনিয়নের ছোট নদী ও খাল পুনঃখনন কাজ করে জয়পুরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরপর বর্ষা মৌসুম এলেই এলাকায় পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। টানা বর্ষণ ও অতিবৃষ্টির কারণে সেতুর দুই পাশের মাটি ধসে পড়ে। এক পর্যায়ে সেতুর মাঝের অংশ ভেঙে নিচে পড়ে যায়। গত চার বছর থেকে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে থাকলেও পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি স্থানীয় এলজিইডি বা ইউনিয়ন পরিষদ।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সেতুটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর মাঝের অংশ ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কৃষকরা বাঁশ ও কাঠের অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। ভারী কৃষি যন্ত্রপাতি কিংবা ফসলবোঝাই ভ্যানগাড়ি ওই পথে আর চলাচল করতে পারছে না। চাষিরা মাথায় করে তাদের উৎপাদিত ফসল পারাপার করছেন।
কৃষকরা জানান, বেগুনগ্রাম পশ্চিম মাঠে শত শত বিঘা জমিতে চাষাবাদ করতে পারাপারের জন্য এই সেতুটির ওপর নির্ভর করতে হয়। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর কৃষকদের অনেক কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা হলে সহজে ধান, আলু ও অন্যান্য ফসল মাঠ থেকে বাড়িতে আনা যেত। শুধু যে কষ্ট তা নয়, সময় ও পরিবহন ব্যয় দুটোই বেড়ে গেছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হলেও সেতুটি পুনর্নির্মাণে এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বেগুনগ্রামের কৃষক সিজার রহমান বলেন, এই সেতু দিয়ে আমরা প্রতিদিন মাঠে যাতায়াত করতাম। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর ধান ও আলুক্ষেতের পরিচর্যা করতে অনেক দূর দিয়ে ঘুরে যেতে হয়। ফসল কাটার পর বাড়িতে আনতেও বাড়তি খরচ হচ্ছে। কৃষকদের খুব কষ্টে এদিক দিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে। বিকল্প রাস্তা থাকলে হয়তো এত কষ্ট করতে হতো না।
একই গ্রামের কৃষক আবু জাফর বলেন, এই সেতুটি মূলত মাঠে যাতায়াতের একমাত্র সহজ পথ ছিল। বর্ষাকালে খালে পানি বেড়ে গেলে কৃষকদের দুর্ভোগ আরও বাড়ে। তখন জমিতে যাওয়া, সেচ দেওয়া কিংবা ফসল তোলা খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে। অনেক সময় উৎপাদিত ধান ও আলু বাড়িতে আনতেও অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে।
কালাই উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ বলেন, বেগুনগ্রাম মাঠে চাষিদের চলাচলের একমাত্র সেতুটি ভেঙে পড়ায় তা নতুন করে নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

আরও পড়ুন

×