ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৫০০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি রোগী দেড়গুণ

৫০০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি রোগী দেড়গুণ
×

ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৫ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ৫০০। গতকাল শনিবার এই হাসপাতালে বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি রোগী ছিলেন ৭৯৫ জন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিদিনই শয্যার তুলনায় প্রায় দেড়গুণ রোগী এখানে ভর্তি থাকেন।

গতকাল হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শয্যা না পেয়ে প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের মেঝেতেও শয্যা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। করিডোর, বারান্দায়ও দেখা গেছে বিপুলসংখ্যক রোগীকে। এমনকি সিঁড়ির পাশের চত্বরেও রোগীদের রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ১০ তলা ভিত্তির হাসপাতালটিতে এখন পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচতলা পর্যন্ত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জনবল ও হাসপাতালের বাকি তলার নির্মাণ সম্পন্ন হলে চিকিৎসা সেবা আরও উন্নত করা সম্ভব।

হাসপাতালের নানা চিত্র তুলে ধরতে গতকাল প্রথমবারের মতো ‘মিট দ্য প্রেসের’ আয়োজন করে কর্তৃপক্ষ। সভাপতির বক্তব্যে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা চালু হয় ২০১৯ সালে। পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে প্রত্যাশামতো চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছে না। তবু ৫০০ শয্যার হাসপাতালে প্রায় দেড়গুণ রোগী ভর্তি থাকেন। গতকাল শনিবারও ভর্তি ছিলেন ৭৯৫ জন রোগী। এদিন মেডিসিন ওয়ার্ডের ১১১টি শয্যার বিপরীতে ২৭৬ জন ভর্তি ছিলেন। শিশু ওয়ার্ডের ৭০টি শয্যার বিপরীতে ভর্তি ছিল ১৬১ জন। প্রতিটি ওয়ার্ডে একই চিত্র। মাত্র ছয়টি ডায়ালাইসিস মেশিনের কারণে কিডনি রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অন্তত ২০০ রোগীকে অপেক্ষায় থাকতে হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জনবল কাঠামো অনুযায়ী এ হাসপাতালে চিকিৎসক থাকার কথা ১২৩ জন। আছেন ৮৬ জন, ৩৭টি পদ শূন্য। পুরো হাসপাতালে তৃতীয় থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মোট জনবল থাকার কথা ৭৪৫ জন। বিপরীতে আছেন ৬৩৮ জন। ১০৭টি পদ শূন্য। এই হাসপাতালে চোখের কোনো চিকিৎসকই নেই। যে কারণে চক্ষু বিভাগের ওয়ার্ডের ১০টি শয্যার সবগুলোই ফাঁকা। এখানে কোনো নিউরো সার্জন নেই, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞও নেই।

এখানে আরও অন্তত ২০টি ডায়ালাইসিস মেশিনের প্রয়োজনীতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাসপাতালে ৫০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের মতো ব্যবস্থা আছে। কিন্তু হাসপাতালে স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নেই। যে কারণে আশপাশে যখন লোডশেডিং হয়, তখন হাসপাতালেও হয়।

সিভিল সার্জন ডা. সাইদুর রহমান জানান, সরকারি হাসপাতালের অন্তত এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো প্রাইভেট ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকার নিয়ম নেই। অথচ এখানে গেটের সামনেই অনেকগুলো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান হয়েছে। 

অধ্যক্ষ ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, তাঁর কলেজে চোখের ও ফরেনসিক বিভাগের শিক্ষক নেই। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। মেডিকেল কলেজের অধীনে থাকা ময়নাতদন্তের মর্গটিতে ১০টি ফ্রিজার থাকলেও সচল মাত্র একটি। ফলে মরদেহ সংরক্ষণে সমস্যা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×