ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সঞ্চয়ের টাকা ফেরত না দিয়ে সমিতির এমডি আত্মগোপনে

সঞ্চয়ের টাকা ফেরত না দিয়ে সমিতির এমডি আত্মগোপনে
×

টাকা ফেরত চেয়ে শেরপুরের দুবলাগাড়ী বণিকপাড়ায় রিলিজ ঋণদান ও সঞ্চয় সমবায় সমিতির এমডির বাড়ির সামনে শনিবার সঞ্চয়কারীদের বিক্ষোভ সমকাল

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪০ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ার শেরপুরে একটি সমিতির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) বিরুদ্ধে সদস্যদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত না দিয়ে আত্মগোপনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। টাকা ফেরতের দাবিতে তাঁর বাড়ির সামনে প্রতিদিনই ভিড় করছেন সদস্যরা। বিক্ষোভও করছেন তারা। গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার শাহ আলমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সঞ্চয়কারীদের দুই দফা হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৯ সালে উপজেলা সদরের অদূরে দুবলাগাড়ী বণিকপাড়া এলাকায় ‘রিলিজ ঋণদান ও সঞ্চয় সমবায় সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি সেখানে সঞ্চয় ও এফডিআর করেন। নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। 

এক পর্যায়ে সমিতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সরদার আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ সঞ্চয়কারীদের।
ভুক্তভোগী ঝর্না বেগম বলেন, তিনি সমিতিতে এক লাখ টাকা জমা রেখেছেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি টাকা ফেরত পাননি। 
রেবেকা বেগম নামে আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, গত ১০ জুলাই তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকা না দিয়ে শাহ আলম সরদার আত্মগোপনে চলে যান। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য কুসুম্বী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম পান্নার কাছে অভিযোগ করেন তারা। চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা বৈঠক ডাকা হলেও সমিতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সরদার উপস্থিত হননি। পরে ইউপি চেয়ারম্যান ভুক্তভোগীদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
এরপর ক্ষুব্ধ সঞ্চয়কারীরা শাহ আলম সরদারের বাড়িতে গিয়ে পাওনা টাকা ফেরতের দাবি জানান এবং বাড়িতে তালা লাগানোর চেষ্টা করেন। এ সময় শাহ আলমের বাবা বাদশাহ সরদারসহ তাঁর লোকজনের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন।

এ বিষয়ে বাদশাহ সরদার বলেন, আমার ছেলে সমিতি থেকে টাকা নিয়েছে, এটা জানি। তবে কত টাকা নিয়েছে, তা জানি না। বিষয়টি নিয়ে বসার কথা ছিল। কিন্তু পাওনাদারেরা হঠাৎ বাড়িতে এসে তালা লাগাতে চাইলে আমি বাধা দিই। এ সময় তারা আমাকে মারধর করেন।
ভুক্তভোগীদের তথ্যে কয়েকজন সঞ্চয়কারীর নাম জানা গেছে। এরমধ্যে রেবেকা বেগমের এক লাখ টাকা, খালেদা আক্তারের ৪৫ হাজার, ঝর্না বেগমের এক লাখ, পারুলের দুই লাখ ৪৫ হাজার, ডলি বেগমের দুটি এফডিআরে দুই লাখ, দিশা আক্তারের এক লাখ ৫০ হাজার, আমিনুল ইসলামের তিন লাখ, এলিনা খাতুনের ৫০ হাজার, দিলবর আকন্দের তিন লাখ এবং রোকেয়া বেগমের দুই লাখ টাকা সমিতিতে জমা রয়েছে। 
এ ছাড়া আরও অসংখ্য সদস্যের সঞ্চয় মিলিয়ে প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা সমিতিতে রয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। তাদের দাবিকৃত মোট অর্থের পরিমাণ এবং সমিতির দায়-দেনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রিলিজ ঋণদান ও সঞ্চয় সমিতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম সরদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাঁর ফোনও বন্ধ। জানতে চাইলে শেরপুর থানার ওসি এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, এই বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×