শিশু ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদ
তিনতলা বাড়ি দ্বিতীয় দিনে ধ্বংসস্তূপ
ছবি: কোলাজ
পাবনা অফিস
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫৫ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
পাবনায় ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের তিনতলা বাড়িতে গতকাল শনিবার দ্বিতীয় দিনের মতো ভাঙচুর করেছে ‘বিক্ষুব্ধ জনতা’। বাড়ির দরজা-জানালা, ঘরের আসবাব লুট হয়ে গেছে। বাড়িটি অনেকটা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে উপজেলার কুলুনিয়া এলাকায় হাজারো মানুষ ও পুলিশের সামনেই বাড়ি ও দোকান ভাঙা শুরু হয়। গতকাল ভবনটির ছাদ ভেঙে রডও লুট করা হয়। এ ঘটনায় কেউ মামলা বা অভিযোগ করেনি বলে জানান পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম।
এদিকে বিক্ষুব্ধরা আজ রোববার সকালে পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে। ওসি জানান, এ বিষয়ে পুলিশ কিছু জানে না।
ওসি সমকালকে বলেন, ‘এত বড় মবকে নিবৃত্ত করতে গেলে পুলিশের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতো। সে জন্য আমরা ঠেকানোর বৃথা চেষ্টা করিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ বাধা দিলে বিক্ষুব্ধরা বলত, পুলিশ ধর্ষকদের পক্ষ নিয়েছে; তাই আমরা অনেক ভেবেচিন্তে কাজ করছি।’
এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি জিল্লুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘মোস্তফা নৃশংস কাজ করেছে। এ জন্য আমরা আইনগতভাবে তার ফাঁসি চাই। কিন্তু যারা মোস্তফার বাড়িঘর গুঁড়িয়ে লুটপাট করল, ভয়ংকর তাণ্ডব চালাল, তারা আরও জঘন্য কাজ করল।’
স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকেই এখানে কয়েক গাড়ি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল। শুক্রবার থেকে টানা দুদিন মোস্তফার বাড়িতে হামলা হলেও প্রশাসন থামানোর চেষ্টা করেও পারেনি। পরে তারা সরে যায়। মোস্তফার বিরুদ্ধে যে নৃশংসতার অভিযোগ উঠেছে, তাতে কারোরই মাথা ঠিক নেই। এমনটা হওয়া উচিত নয়।’
মামলার আসামি মোস্তফার ভায়রা টিটু মিয়া বলেন, ‘মোস্তফার স্ত্রী একজন প্রতিবন্ধী। হামলা শুরুর মুহূর্তে তিনি বাসাতেই ছিলেন। কতিপয় বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি তাঁর মাথা ও মুখমণ্ডলে রড দিয়ে আঘাত করেছে। এক পর্যায়ে স্বজনরা গিয়ে তাঁকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করেন। তিনি এখন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’
ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশুটির বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ে সাত দিন নিখোঁজ থাকলেও পুলিশ কোনো ভূমিকা নেয়নি। লাশ উদ্ধারের পর মানুষের মনে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের ভূমিকায় মানুষ ভীষণ ক্ষুব্ধ। এই ক্ষোভ থেকে মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে।’
এ বিষয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডিফেন্ডার পাবনা জেলা শাখার সদস্য সচিব আব্দুর রব মন্টু বলেন, ‘আইন, বিচার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থাহীনতার জায়গা থেকেই মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাও এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। তবে এটি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করতে হবে। কারণ, প্রতিবাদের নামে আইন হাতে তুলে নেওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
সদর থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রেখেছি এবং বিক্ষুব্ধ জনতাকে কৌশলে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই বাড়ির বাসিন্দা ও মূল মালপত্র আমরা আগেই সরিয়ে রাখতে সহায়তা করেছিলাম।’
- বিষয় :
- ধর্ষণ