পুষ্প
বলকামিনী, ঘরের কোণে সুবাসিত সবুজ
ময়মনসিংহের নার্সারিতে বলকামিনী গাছে ফুল লেখক
চয়ন বিকাশ ভদ্র
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫৮ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:০২
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাগানবিলাসীদের কাছে একটি অত্যন্ত সুপরিচিত ও নান্দনিক উদ্ভিদের নাম বলকামিনী। এটি ‘বামন কামিনী’ নামেও পরিচিত। আমাদের চিরচেনা কামিনী গাছের একটি সংকর বা খর্বাকৃতির রূপ এটি।
বলকামিনী ইংরেজিতে পরিচিত Dwarf Orange Jasmine নামে। এর কাল্টিভারের নাম Murraya paniculata ‘Minima’। এটি Rutaceae পরিবারের গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণ কামিনী গাছ আকারে বেশ বড় ও ঝোপঝাড়ের মতো হলেও ডোয়ার্ফ অরেঞ্জ জেসমিন বা বামন কামিনী আকারে ছোট এবং টবে রাখার উপযোগী। মনমাতানো সুবাস এবং প্রাকৃতিকভাবে গোলাকার বা বলের মতো বিন্যাসের কারণে বাসাবাড়ি, বারান্দা ও ছাদবাগানের নান্দনিকতা বৃদ্ধিতে এটি অনন্য স্থান দখল করে আছে।
বলকামিনীর বাহ্যিক সৌন্দর্য যে কাউকে সহজে মুগ্ধ করে। গাছটির প্রধান বৈশিষ্ট্য এর খর্বাকৃতি। প্রাকৃতিকভাবেই এটি খুব বেশি লম্বা হয় না। সাধারণত ১ থেকে ৩ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ঘন ডালপালার কারণে এটি দেখতে ছোটখাটো নিবিড় ঝোপ বা কৃত্রিমভাবে ছাঁটাই করা গোলকের মতো দেখায়।
এর পাতাগুলো আকারে খুবই ছোট, গাঢ় সবুজ এবং উপবৃত্তাকার। পাতার উপরিভাগ বেশ মসৃণ, চকচকে ও মোমের মতো তৈলাক্ত ভাবযুক্ত। পাতার এই উজ্জ্বল সবুজ রং পুরো গাছে সবসময় এক ধরনের সতেজ ও প্রাঞ্জল আবহ বজায় রাখে।
বর্ষা ও গ্রীষ্মকালে এই গাছে ছোট ছোট তারার মতো দেখতে বরফ-সাদা রঙের ফুল ফোটে। ফুলগুলোতে মিষ্টি লেবু ও জেসমিনের এক অপূর্ব মিশ্রিত সুবাস থাকে, যা সাঁঝের বেলা কিংবা সকালে পুরো চারপাশ সুবাসিত করে তোলে।
ফুল ঝরার পর গাছে ছোট ছোট ডিম্বাকৃতির ফল ধরে। কাঁচা অবস্থায় ফলগুলো সবুজ থাকে, তবে পাকার পর উজ্জ্বল লাল বা কমলা রূপ ধারণ করে। গাঢ় সবুজ পাতার মাঝে লাল-কমলা ফলের উপস্থিতি গাছটিকে আরও বৈচিত্র্যময় ও রূপময় করে তোলে।
শুধু শোভাবর্ধন নয়, বলকামিনীর রয়েছে বহুবিধ নান্দনিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব। বাসাবাড়ির লিভিং রুম, ডাইনিং স্পেস, পড়ার টেবিল কিংবা বারান্দার কোণে একটি ছোট টবে রাখা ডোয়ার্ফ অরেঞ্জ জেসমিন গৃহসজ্জায় এক অভিজাত আমেজ এনে দেয়। এর মিষ্টি সুবাস ঘরের মধ্যকার ক্লান্তি দূর করে মনকে সতেজ রাখে।
বনসাইপ্রেমীদের কাছে এই গাছটির চাহিদা ব্যাপক। এর ছোট পাতা, ঘন শাখা এবং ধীরে ধীরে বাড়ার স্বভাবের কারণে এটিকে খুব সহজে কেটে নানা নান্দনিক আকার (যেমন- বনসাই বা বল টোপিয়ারি) দেওয়া যায়।
ঘরের আবদ্ধ বাতাসে সবুজ ছোঁয়া নিয়ে আসার পাশাপাশি এটি ঘরের বাতাসের গুণগত মান বাড়াতে সাহায্য করে। ঘরে প্রাকৃতিক সবুজের উপস্থিতি মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে বেশ ভূমিকা রাখে। অন্যান্য স্পর্শকাতর ইনডোর গাছের তুলনায় ডোয়ার্ফ অরেঞ্জ জেসমিনের সহনশীলতা বেশি। পর্যাপ্ত আলো ও পরিমিত পানি
পেলে এই গাছ বহুবছর সতেজ থাকে, যা নতুন বাগানপ্রেমীদের জন্য পরিচর্যা করা বেশ সহজ।
বলকামিনী শুধু একটি গাছ নয়, বরং ব্যস্ত শহুরে জীবনে প্রকৃতির এক প্রশান্তিময় ছোঁয়া। কম জায়গায় প্রাকৃতিকভাবে ঘর ও বারান্দা সুবাসিত এবং সবুজ রাখার জন্য এটি হতে পারে একটি সেরা পছন্দ।
লেখক: উদ্ভিদবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও প্রকৃতিবিষয়ক লেখক
- বিষয় :
- ফুল