পরিত্যক্ত ভবনের বারান্দায় পাঠদান, শিক্ষকও কম
কসবা ধর্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিত্যক্ত ভবনের বারান্দায় ক্লাস করছে দুই শিক্ষার্থী। ছবি; সমকাল
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০৬
ফেনী সদর উপজেলার কসবা ধর্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিত্যক্ত ভবনের বারান্দা ও ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়টিতে মাত্র দুজন শিক্ষক রয়েছেন। তীব্র শিক্ষক সংকট ও ভবন ধসে পড়ার আতঙ্কে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টির বর্তমান ভবনটি নির্মাণ করা হয় ১৯৯৩ সালে। কিন্তু এক যুগেরও বেশি সময় আগে গণপূর্ত বিভাগ ভবনটিকে ‘পরিত্যক্ত’ ঘোষণা করে। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে শ্রেণি কার্যক্রম।
গতকাল রোববার সরেজমিন দেখা যায়, পরিত্যক্ত ভবনের বারান্দায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লায়লা বেগম। একই সময়ে জরাজীর্ণ একটি কক্ষে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন সহকারী শিক্ষক ফারজানা আক্তার। শিক্ষকরা জানালেন, বিদ্যালয়টির পিলারে বড় বড় ফাটল ধরেছে, অনেক স্থানের দেয়াল ভেঙে ভেতরের রড বেরিয়ে গেছে। খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। সামান্য বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে ভেতরে পানি পড়ে; ভিজে যায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বই-খাতা। কখনও ছাতা মাথায় দিয়ে, আবার কখনও ভবনের ছাদে প্লাস্টিক বা ত্রিপল টাঙিয়ে ক্লাস নিতে হয়। আকাশে মেঘ দেখলে ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয়। ফলে যেখানে এক সময় এই স্কুলে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী ছিল, সেখানে বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৩ জনে।
শিক্ষার্থী সংকটের পাশাপাশি যোগ হয়েছে তীব্র শিক্ষক সংকট। ছয়জন শিক্ষকের অনুমোদিত পদের বিপরীতে বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। দুজন শিক্ষককে একাধারে ক্লাস নেওয়া ও দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়া ইসলাম ও নার্গিস সুলতানা এবং তৃতীয় শ্রেণির স্বাগত চক্রবর্তী জানায়, শ্রেণিকক্ষে বসলে মাথার ওপর থেকে প্লাস্টার খসে পড়ে। বৃষ্টি হলে হাঁটুপানি জমে যায়। তাই ভয়ে তারা পরিত্যক্ত ভবনের বারান্দায় ক্লাস করে। বিদ্যালয়ে দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তারা।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টু ও সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ ও শিক্ষক পদায়ন করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ শিক্ষক স্বল্পতা দূর ও ভবন নির্মাণ করে শিগগির বিদ্যালয়টি পাঠ উপযোগী করবে বলে তারা আশাবাদী।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লায়লা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই বিদ্যালয়ে কাজ করছি। বর্ষার দিনে ছাতা মাথায় দিয়ে ক্লাস নিতে হয়। সমস্যার কথা জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বহু দরখাস্ত দিয়েছি। কিন্তু নতুন ভবন বা শিক্ষক পাওয়া যায়নি।’
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. মহিউদ্দিন খোন্দকার বলেন, ‘দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষক সংকট ও পরিত্যক্ত ভবনে এমন অবহেলিত অবস্থায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলতে পারে না।’ অবিলম্বে ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষক পদায়ন ও নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হৃষীকেশ শীল বলেন, কসবা ধর্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ। এটি মেরামতের অযোগ্য বলে জানিয়েছে এলজিইডি। নতুন ভবনের জন্য আমরা ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। এ ছাড়া খুব শিগগির শিক্ষক স্বল্পতার সমস্যা দূর করা হবে।
- বিষয় :
- ফেনী