ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধা

দুই গ্রামে ৩০ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত

দুই গ্রামে ৩০ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত
×

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:০৩

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের দুই গ্রামে অসুস্থ গরু জবাই ও মাংস কাটাকাটি করায় অন্তত ৩০ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। হঠাৎ এই তীব্র সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় গ্রাম দুটিতে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। যারা এসব রোগাক্রান্ত গরুর মাংস কিনেছেন বা খেয়েছেন, তাদের পরিবারগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে এম ইফতেখারুল ইসলাম এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের বাছহাটী গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলামের একটি বিদেশি জাতের গরু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরদিন শুক্রবার সকালে গরুটি স্থানীয়ভাবে জবাই করে অন্তত ১০০ গ্রামবাসীর কাছে মাংস বিক্রি করা হয়। এর এক দিন পরেই ওই গ্রামের মানুষের শরীরে ফোসকাসহ অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়। তারা হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করালে রোগটি শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় ওই গ্রামের ২৫ জন আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখনও ২০ জনের মতো ভর্তি রয়েছেন।

এ ছাড়া গত ৩১ আগস্ট কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের দুলাল গ্রামে একইভাবে অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস কাটাকাটি করতে গিয়ে ওই গ্রামের পাঁচজন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হন। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়া বাছহাটী গ্রামের ২৫ জন হলেন– জয়নাল আবেদীন, গোলেজার রহমান, নুর আকাইদ, রুমি বেগম, রশিদা বেগম, সুলতান মিয়া, রাহেলা বেগম, শরিতন নেছা, দেলেনা বেগম, জয়নাল আবেদীন, জেলী বেগম, ফুলমতী বেগম, রাবেয়া বেগম, আজমিন মিয়া, ফাহিমা বেগম, শফিকুল ইসলাম, শফিয়াল মিয়া, আবদুর রশিদ, চান্দ মিয়া, আবদুল জলিল মিয়া, লাবণী আকতার, রোশনা বেগম, আবদুল মজিদ মিয়া, মিসকিনা বেগম ও রমিসা খাতুন।

অন্যদিকে, গত ৩১ আগস্ট দুলাল গ্রামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেওয়া পাঁচজন হলেন– জাহেদুল ইসলাম, খাইরুল ইসলাম, আজগার আলী, আবুল হোসেন ও নাজমুল ইসলাম। 

এর আগে গত বছরের ২১ অক্টোবর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নে একটি অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস কাটাকাটি করায় ২১ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হন। সে সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নারীর মৃত্যু হয় এবং ১০টি গরু মারা যায়। খামারি ও গরু মালিকদের দাবি, গত বছরের ঘটনার পর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপজেলার সব পশুকে অ্যানথ্রাক্স প্রতিষেধক টিকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টিকা ও জনবল সংকটের কারণে পরে কোনো টিকা দেওয়া হয়নি। তাদের অভিযোগ, অবহেলার কারণে ও প্রয়োজনীয় টিকা না পাওয়ায় এলাকায় পুনরায় এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আক্রান্তদের হাসপাতালে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকার সব গবাদি পশুকে অ্যানথ্রাক্সের টিকা দেওয়া হচ্ছে। অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশুর রক্ত বা তরল যাদের শরীরে লাগে, তারাই এ রোগে আক্রান্ত হন। তবে মাংস উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করে খেলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান বলেন, এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মতো আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা কিছুটা গুরুতর হলেও বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন

×