ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সেমিনারে জানালেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান

১৮ মাসে ৫ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করতে পেরেছে বিএসইসি

১৮ মাসে ৫ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করতে পেরেছে বিএসইসি
×

খন্দকার রাশেদ মাকসুদ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ | ১০:০৭

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেছেন, গত ১৮ মাসে বিএসইসি এত আইনি সংস্কার করেছে যে তা সংস্থাটির ইতিহাসে বিরল। গত ১৮ মাসে বিএসইসি বিভিন্ন অভিযোগে ১ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা জরিমানা আরোপ করেছে এবং প্রথমবারের মতো ১৬টি মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত মামলা দুদকে পাঠিয়েছে। তবে ওই সময়ে জরিমানা হিসেবে আদায় হয়েছে মাত্র পাঁচ কোটি টাকা।

গতকাল রাজধানীর পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘নতুন সরকারের সামনে শেয়ারবাজারে চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনারে বিএসইসির চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। 

সিএমজেএফ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানও এতে বক্তব্য দেন। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, ‘বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি ছাড়া কোনো দেশ টেকসই হতে পারে না। আমরা একটি ঋণনির্ভর সমাজ থেকে মালিকানানির্ভর সমাজে যেতে চাই, যেখানে জনগণ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হবে।’ দেশের পুঁজিবাজারকে ‘ফ্রন্টিয়ার মার্কেট’ থেকে ‘ইমার্জিং মার্কেটে’ উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অডিটর, অ্যাসেসর ও ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা হবে, যাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরে। এ ছাড়া তিনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে বাজারের বন্ড ও শেয়ার ছাড়ার সম্ভাবনার কথা জানান। 

বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, বিএসইসিকে একটি স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আইনি খসড়া মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে এবং এআইভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হবে। এ ছাড়া বড় কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনতে ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট এনটিটি’ আইনের খসড়া তৈরি করা হচ্ছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেন, গত ১০-২০ বছরে অনেক অযোগ্য কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে, যাদের এখন ব্যবসা বন্ধ, এমনটি আর হতে দেওয়া উচিত হবে না। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইনসেনটিভ বা কর ছাড়ই সব নয়। ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার পরও বাজার না পড়ার কারণ হলো আস্থার অভাব। তিনি বলেন, আমাদের নীতিনির্ধারকদের ধারণা এটি ‘জুয়ার বাজার’। এই ট্যাবু ভাঙতে হবে।  

বিএপিএলসি সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ আইপিও এবং রাইট শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে কাগুজে নথিপত্রের বোঝা কমিয়ে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাইজেশনের দাবি জানান।

আরও পড়ুন

×