ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি বন্ধে কাজ করছে সরকার: আইনমন্ত্রী 

গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি বন্ধে কাজ করছে সরকার: আইনমন্ত্রী 
×

মঙ্গলবার রাজধানীর বিজয় সরণিতে সামরিক জাদুঘর মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি-সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ | ২০:১১

গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি বন্ধ করতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে সরকার মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে বেআইনি গ্রেপ্তার ও মামলা বাণিজ্য অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেও জানান তিনি। 

মঙ্গলবার রাজধানীর বিজয় সরণিতে সামরিক জাদুঘর মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস  উপলক্ষে ‘সকল নারী ও বালিকার জন্য অধিকার, বিচার ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এই সেমিনারের আয়োজন করে। 

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার জনগণের কল্যাণ, মানবাধিকার ও নারীর অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্যেই বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২১ দিনের মাথায় জাতীয় পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রায় ৩৭ হাজার ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হয়েছে এবং এসব কার্ডের মালিকানা পরিবারের গৃহকর্ত্রী বা নারী সদস্যের নামে দেওয়া হয়েছে। নারীর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

আইনমন্ত্রী বলেন, “আমাদের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিষয়ক একটি অধ্যাদেশ হয়েছে, যেখানে গুম কমিশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটা যুক্ত হওয়ার ফলে মানবাধিকার কমিশনকে গুম কমিশনের তদন্ত কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হবে। এতে মানবাধিকারের মূল কাজ ব্যাহত হতে পারে। তাই এই আইন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। 

নারী কমিশনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশে মৌলবাদীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে নারীরা। তাই নারীদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। সরকার বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের সচেতন করছে। নারীরা সচেতন হলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হবে।” 

বেআইনি গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, “সরকার ইতোমধ্যে বেআইনি গ্রেফতার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেছে। মিথ্যা মামলার সংস্কৃতিও অনেকটা বন্ধের পথে রয়েছে।” এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা পেলে মিথ্যা মামলার প্রবণতা আরও কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দুর্নীতি প্রতিরোধে নাগরিক সমাজের সহযোগিতা কামনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, “সরকারের মন্ত্রীরা যাতে ‘বেগম পাড়া’ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারে, সে বিষয়ে নাগরিক সমাজকে ওয়াচডগ হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, টাইমস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে কানাডা, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে ‘বেগম পাড়া’ তৈরি হয়েছে, মালয়েশিয়ায় ‘সেকেন্ড হোম’ এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে বিভিন্ন রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙ্গলি, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. দাউদ মিয়া, বাংলাদেশে জাতিসংঘের নারী প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং, জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক আইরিন খান এবং  মানবাধিকার সংগঠন ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন। 

আরও পড়ুন

×