সব সূচকই ঊর্ধ্বমুখী, লেনদেনও বেড়েছে
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২২ | ২১:০০ | আপডেট: ০৮ মে ২০২২ | ২১:০০
শুরুটা হয় অস্থিরতা দিয়ে। মনে হচ্ছিল দরপতন দিয়ে সপ্তাহের প্রথম দিনের লেনদেন শেষ হতে পারে। কিন্তু আগের মতো গতকাল রোববার পতন সামাল দিতে তৎপর হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর ও মূল্য সূচকের বৃদ্ধি দিয়ে সপ্তাহ শুরু হয়েছে। লেনদেনও বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। ঈদের ছুটির লেনদেনের প্রথম দিনে গত বৃহস্পতিবার দরপতন হয়।
ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩৮০ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২১৬টির দর বেড়েছে। কমেছে ১১২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫২টির। প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ৬৬৬৯ পয়েন্ট ছাড়ায়। লেনদেন হয়েছে ৯৭২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার, যা গত বৃহস্পতিবারের তুলনায় প্রায় ৫০৪ কোটি টাকা বেশি। দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইর লেনদেন চিত্রও ছিল প্রায় একই রকম।
ডিএসইতে ১৩ কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে (সাড়ে ৭ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ বেশিতে) কেনাবেচা হয়েছে। অবশ্য এর সিংহভাগই দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ার। এর মধ্যে শেষ পর্যন্ত ৮টি ওই দরে স্থির ছিল। এগুলো হলো- অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যাল, এএফসি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ, ন্যাশনাল টি, দি পেনিনসুলা চিটাগং, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ, শ্যামপুর সুগার মিলস, শাইনপুকুর সিরামিক্স এবং জিলবাংলা সুগার মিলস। লেনদেনের মাঝে সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হওয়া বাকি পাঁচ শেয়ার হলো- সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট, মেট্রো স্পিনিং, শাশা ডেনিম এবং শাহজিবাজার পাওয়ার। এসব শেয়ারের বাইরে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, জিবিবি পাওয়ার, হামিদ ফেব্রিক্স, ইস্টার্ন হাউজিং, ন্যাশনাল পলিমার, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, সাইফ পাওয়ারটেক, এডিএন পাওয়ারসহ মোট ৩০ কোম্পানির শেয়ার ৫ শতাংশের ওপর দরবৃদ্ধি দিয়ে লেনদেন শেষ হয়।
গতকাল মাত্র তিন কোম্পানির শেয়ার বর্তমান সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন দরে (৫ শতাংশ কমে) কেনাবেচা হয়। এগুলো হলো- ইমাম বাটন, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম এবং বিডি ওয়েল্ডিং। শেষ পর্যন্ত ওই দরে স্থির ছিল ইমাম বাটন। তবে বোনাস লভ্যাংশ সংক্রান্ত মূল্য সমন্বয়ের দিনে সর্বাধিক সাড়ে ১৩ শতাংশ দর কমে সিটি ব্যাংকের শেয়ার সর্বশেষ ২৪ টাকা ৩০ পয়সা দরে কেনাবেচা হয়েছে।
খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ব্যাংক ছাড়া অন্য সব প্রায় সব খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। বড় খাতের মধ্যে বস্ত্র খাতের শেয়ারের দর বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। ৫৮ কোম্পানির মধ্যে আটটির দর কমার পরও এ খাতে দেড় শতাংশ দর বেড়েছে। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ২১ কোম্পানির মধ্যে চারটির দর কমেছে, তবু এ খাতের দর বেড়েছে ১ শতাংশের বেশি। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ২৩ কোম্পানির মধ্যে ২টির দর কমেছে এবং গড়ে প্রায় ১ শতাংশ দর বেড়েছে।
ছোট খাতগুলোর মধ্যে সেবা ও নির্মাণ খাতের চার কোম্পানির সবগুলোর দরবৃদ্ধি পাওয়ায় এ খাতের গড় দর বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ। তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের ১১ কোম্পানির মধ্যে দুটির দর কমেছে এবং গড় দর বেড়েছে প্রায় আড়াই শতাংশ। বিপরীতে ব্যাংক খাতের ৩৩ কোম্পানির মধ্যে ১৮টির দর কমেছে এবং বেড়েছে ৯টির। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা খাতে ছিল মিশ্রধারা।
একক কোম্পানি হিসেবে জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিটের সর্বাধিক ৫৪ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। ৩৬ কোটি ৬২ লাখ টাকার লেনদেন নিয়ে এর পরের অবস্থানে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। একক খাত হিসেবে প্রকৌশল খাতে সর্বোচ্চ প্রায় ১৪৪ কোটি টাকার লেনদেন বেড়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৯৫ কোটি টাকা বেশি এবং মোটের প্রায় ১৫ শতাংশ।
- বিষয় :
- দরপতন
- শেয়ারদর
- শেয়ার লেনদেন
- বিএসইসি