ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি

ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:৪৯ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৩ | ১৬:০৫

ডেঙ্গু লইয়া বাতচিৎ কম হয় নাই। কিন্তু কথায় চিড়ে ভিজে কি? উহার পরও খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করিয়াছেন, ডেঙ্গু রোধে পদক্ষেপ পর্যাপ্ত নহে। যেই কারণে আমরা দেখিতেছি, প্রতিদিন বাড়িতেছে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এমনকি এই পর্যন্ত প্রায় ১২শ মানুষের মৃত্যুর পরও কর্তৃপক্ষের টনক নড়িতেছে বলিয়া পরিলক্ষিত হইতেছে না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী অবহেলার অঙ্গুলি তুলিয়াছেন পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের দিকে। ডেঙ্গু এই ভয়ংকররূপে পৌঁছাইবার ক্ষেত্রে যে আমাদের সকলের ব্যর্থতা ও দায় রহিয়াছে, তাহা বলিতেই হইবে। এই সম্পাদকীয় স্তম্ভে আমরা পুনঃপুন তাগিদ দিয়া আসিলেও অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন হয় নাই। বরং ইহাকে কেন্দ্র করিয়া নানা সংকট আমরা দেখিয়াছি– কখনও কিট সংকট, কখনওবা স্যালাইনের অভাব। মশা নিধন আর ড্রেন-ময়লা সাফ করিবার ক্ষেত্রে উদাসীনতা কিংবা ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার কথা বলাই বাহুল্য। এমনকি স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে বলিয়াছেন, চিকিৎসায় ঘাটতি নাই; সেইখানেও প্রশ্ন বিস্তর। হাসপাতালের আসন কিংবা জনবল সংকট যেমন রহিয়াছে, তেমনি প্লাটিলেট লইয়াও সমস্যায় পড়িতেছে রাজধানীর বাহিরের হাসপাতালগুলি। বিশেষায়িত চিকিৎসা তথা সংকটাপন্ন রোগীর জন্য আইসিইউসহ চিকিৎসার অপ্রতুলতা নূতন করিয়া না বলাই শ্রেয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ, তিনি বাস্তবতা স্বীকার করিয়াছেন। বস্তুত সংকট সমাধানে এই স্বীকারোক্তিই জরুরি। আমরা যদি আত্মবিশ্বাস লইয়া মনে করি, যথেষ্ট পদক্ষেপ লওয়া হইয়াছে, উহার পরিণতি কতটা খারাপ হইতে পারে, ডেঙ্গুই তাহার প্রমাণ। পৌরসভা কিংবা সিটি করপোরেশন মশা নিধনে কেন ব্যর্থ হইতেছে, তাহা কর্তৃপক্ষকে উপলব্ধি করিতে হইবে। তাহাদের কৌশল ও ঔষধে কেন মশা কমিতেছে না, উহা পর্যালোচনা করিয়া বাস্তবতার আলোকে পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে হইবে। এই ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদারকি ও নজরদারিও গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপলব্ধি কাজে লাগাইয়া সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে। ডেঙ্গুতে নাগরিকের মৃত্যুর এই মিছিল থামাইতেই হইবে।

আরও পড়ুন

×