নদী কমিশন হইতে ভুল বার্তা
নির্ধারিত তিন বৎসর মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বেই জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরীকে যেইভাবে দায়িত্ব হইতে সরাইয়া দেওয়া হইল, উহাতে নদী সুরক্ষায় সরকারের সদিচ্ছা লইয়াই প্রশ্ন উঠিবে। বুধবার জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে তাঁহার চুক্তিভিত্তিক মেয়াদের প্রায় দেড় বৎসর অবশিষ্ট মেয়াদ ‘জনস্বার্থে’ বাতিল করিবার কথা বলা হইলেও উহাতে জনস্বার্থ রক্ষিত হইবার বিষয়টি স্পষ্ট নহে। স্বীকার্য, বিদায়ী চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহণের পর হইতেই নদী দখল, দূষণ ও বালু উত্তোলনের সহিত জড়িত প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের সমালোচনা করিয়া আলোচনায় আসিয়াছিলেন। সর্বশেষ বিশ্ব নদী দিবসের অনুষ্ঠানে চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলন সিন্ডিকেটের সহিত ‘একজন নারী মন্ত্রীর সম্পর্ক’ থাকিবার কথাও বলিয়াছেন। সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে উচ্চারিত এই আশঙ্কা অমূলক হইতে পারে না যে, সর্বশেষ ঘটনার প্রতিক্রিয়াতেই তাঁহাকে সরাইয়া দেওয়া হইল। আমরা মনে করি, এই ঘটনায় অনিবার্যভাবেই নদী কমিশন হইতে ভুল বার্তা প্রেরিত হইল। ইহাতে একদিকে নদী কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ দখলদার ও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা লইতে দ্বিধান্বিত থাকিবেন, অপরদিকে দখল-দূষণকারী ও বালুখেকোরা দ্বিগুণ উৎসাহিত হইবে।
স্মরণে রাখিতে হইবে, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইনে কমিশনের ক্ষমতা কেবলই সুপারিশমূলক। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালত হইতে যদিও কমিশনকে ক্ষমতায়িত করিবার জন্য উক্ত আইন সংশোধনের নির্দেশনা দেওয়া হইয়াছে; উহা কার্যকর হইতে পারে নাই নদী-বৈরী মহলের বাধার মুখেই। এইরূপ পরিস্থিতিতে পরিবেশবাদী মহল ও সংবাদমাধ্যম হইতে বারংবার বলা হইয়াছে যে, দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ সোচ্চার ভূমিকা পালন করিয়া আইনি সীমাবদ্ধতা কাটাইয়া উঠিতে পারেন। ঐরূপ ‘আদর্শ’ ভূমিকাই কি বিদায়ী চেয়ারম্যানের জন্য কাল হইল? আমরা জানি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা তিন মেয়াদের প্রথম হইতেই নদী সুরক্ষায় আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার প্রমাণ দিয়া আসিতেছেন। তাঁহার শাসনামলেই নদী কমিশনে এইরূপ অনাকাঙ্ক্ষিত দৃষ্টান্ত কাহারও কাম্য ছিল না।
