কারও এত টাকা, কারও টাকাই নেই!
দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। মূলত ক্যাসিনো-জুয়া-মদের বিরুদ্ধে অভিযান চললেও এটা যে আরও বিস্তৃত হবে এবং গুটিকয়েক ব্যক্তি নয়; দুর্নীতিবাজ রাঘববোয়ালও যে এবার রেহাই পাবেন না- সেটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিভিন্ন বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে। এ পর্যন্ত যে কয়জন গ্রেফতার হয়েছেন, তারা সবাই ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন সংগঠনের পদাধিকারী। তাদের আগের রাজনৈতিক পরিচয় যদি ভিন্নও থাকে, তাহলেও এটাই সত্য যে, তারা বর্তমান পরিচয়েই নানা ধরনের অনৈতিক ও অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত হয়ে বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন। তারা আগে কোন দল করতেন, সে বিষয়টি এখন গৌণ এ কারণে যে, তারা বর্তমান পরিচয়েই মানুষের কাছে বেশি পরিচিত। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে নগদ যে পরিমাণ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে, তা রীতিমতো বিস্ময়কর। কোটি কোটি টাকা বাসায় বা অফিসে রেখে তারা একদিকে তাদের টাকার গরমের প্রকাশ ঘটিয়েছেন, অন্যদিকে দেশের ব্যাংকিং খাতকে ফোকলা করে দিয়েছেন। তারা বিপুল অঙ্কের টাকা বিদেশে পাচার করেছেন বলেও জানা যাচ্ছে।
প্রশ্ন উঠছে, দুর্নীতিবিরোধী যে অভিযান, এর শেষ কোথায়? দৃশ্যমান দুর্নীতিবাজদের পেছনে কারা আছেন, তাদের অবস্থা ও অবস্থান কি আরও বেশি শক্ত নয়? শুধু ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের মধ্যেই কি দুর্নীতি সীমাবদ্ধ? মন্ত্রী-এমপি, দলের অন্য প্রভাবশালী নেতা এবং প্রশাসন ও শৃঙ্খলা বাহিনীর যারা চরম দুর্নীতিগ্রস্ত বলে জনশ্রুতি রয়েছে, তাদের ওপর কি খÿ নামবে? দুর্নীতি কি কেবল ক্যাসিনো আর মদ-জুয়ায় সীমাবদ্ধ? এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, দুর্নীতিবাজদের সিন্ডিকেট এতই ক্ষমতাবান যে, দুর্নীতিবিরোধী চলমান অভিযান মুখ থুবড়ে পড়ল বলে! তবে বিশেষ করে ক্যাসিনো কাণ্ডে যার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সেই যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও ১৯৭৪ সালে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করে বেশিদূর অগ্রসর হতে পারেননি দলীয় চাপেই। কারণ আওয়ামী লীগই তখন রিলিফ চুরিসহ নানা ধরনের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল। এই কিছুদিন আগেও মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ইয়াবা বদি নামে পরিচিতি অর্জনকারী কক্সবাজারের দাপুটে সাবেক সংসদ সদস্যের গায়ে টোকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। দুর্নীতি-অপকর্মের সঙ্গে কিছু নাম প্রতীকের মতো হয়ে যায়। এই প্রতীকগুলোকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখে অন্যদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিলে তা মানুষের কাছে তেমন প্রশংসা পায় না। মানুষ দেখতে চায় সবচেয়ে আলোচিত খারাপ মানুষটি রেহাই পায় কি-না! সবচেয়ে খারাপ ব্যক্তিকে রেহাই দিয়ে মধ্য ও নিম্নস্তরের শতজনকে শাস্তির আওতায় আনলেও মানুষ খুশি হয় না। যে কোনো অভিযানের সফলতা নির্ভর করে জনতুষ্টির ওপর।
মানুষের মনে যে সংশয় সেটা সম্ভবত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজর এড়ায়নি। তাই তিনি বলেছেন, 'আমাদের দলের কে, কী- সেটা আমি দেখতে চাই না। আমার আত্মীয়-পরিজন আমি দেখতে চাই না। কে কত বেশি উচ্চবিত্ত, সেটা আমি দেখতে চাই না। অনিয়ম যেখানে আছে, দুর্নীতি যেখানে আছে বা আমাদের দেশকে ফাঁকি দিয়ে যারা কিছু করতে চাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।'
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতি আস্থা রাখা যায়। কারণ তিনি কথার খেলাপ করেন না। তিনি তার অবস্থান থেকে সরে যান না। কৌশলগত কারণে তিনি সাময়িক কিছু নমনীয়তা দেখালেও শেষ পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে হলেও তিনি তার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকন্যা। তার রাজনীতি পিতার অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। তিনি রাজনীতি করেন নিজে কিছু পাওয়ার জন্য নয়। দেশ ও দেশের মানুষকে কিছু দেওয়ার জন্য। তিনি মৃত্যুকে বারবার কাছে থেকে দেখেছেন। তাই তিনি অকুতোভয়ে সামনে এগিয়ে যেতে দৃঢ়সংকল্প।
বঙ্গবন্ধু জানতেন, কারা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে বা করছে। কিন্তু তার হৃদয় ছিল বিশাল, সাহস ছিল দুর্দমনীয়। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে তাই তিনি কঠোরতা না দেখিয়ে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছিলেন। চোরা যে ধর্মের কাহিনী শোনে না- এটাও বঙ্গবন্ধু জানতেন। তারপরও হয়তো বিশ্বাস করেছিলেন, যে বাঙালিকে তিনি স্বাধীন দেশ অর্জনে নেতৃত্ব দিলেন, সেই বাঙালি আর যাই হোক, পিতৃঘাতী হবে না। কিন্তু কিছু কুলাঙ্গার বাঙালি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। শেখ হাসিনা এই বেদনাময় ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। তিনি তার আশপাশে যারা আছেন, তাদের চেনেন, জানেন। তাদের ঠিকুজি তার হাতে থাকার কথা। তাই তিনি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করেন। কারও অন্যায়-অন্যায্য দাবি বা আবদার তিনি রক্ষা করেন না। সেটা হোক দেশের ভেতরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কিংবা দেশের বাইরের কোনো ক্ষমতাধর ব্যক্তি। কিছু সময়ের জন্য লাগাম ছেড়ে দিলেও তিনি জানেন কখন আবার লাগাম টানতে হয়। তিনি আওয়ামী লীগ নামক দলটিকে পুনর্জীবন দিয়েছেন। এই দলের সবলতা-দুর্বলতাও তার নখদর্পণে। বিপদে কারা সঙ্গে থাকে, কারা পালায়, সেটাও তার অজানা নয়। তিনি নানা সময় তার বিচক্ষণতা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন।
দেশ একদিকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে সীমাহীন ধনবৈষম্য সামাজিক স্থিতি বিনষ্টের উপাদান তৈরি করছে। বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর অজ্ঞাত নয়। তিনি বলেছেন, আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া লোকজনের কারণে সামাজিক বৈষম্য বাড়ে এবং সৎভাবে যারা আয়-উপার্জন করেন, তাদের সন্তানরা হতাশায় ভোগেন। শিশুরা তো বুঝতে পারে না, তাই তারা মা-বাবার কাছে জানতে চায়, ওরা যদি দামি গাড়িতে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে পারে, আমরা কেন পারি না? এমন পরিস্থিতিতে একটি সমাজ এগোতে পারে না। এমন পরিস্থিতির অবসানের জন্যই সমাজের বৈষম্যের এ জায়গায় আঘাত দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। এটা করা হচ্ছে সামগ্রিক স্বার্থে।
এটা সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রমাণিত- দেশে কিছু মানুষের হাতে অনেক টাকা জমা হয়েছে। আবার অনেক মানুষের হাতে কোনো টাকাই নেই। টাকা নেই মানে তাদের সঞ্চয় নেই; না ব্যাংকে, না সিন্দুক বা ট্রাঙ্কে। তারা কোনো রকমে বেঁচে আছে। তারা অসহায়ভাবে দেখছে স্বল্পসংখ্যক মানুষের উৎকট ধনস্টম্ফীতি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাই যথার্থই বলেছেন, 'অসৎ উপায়ে অর্জিত অর্থের বাহাদুরি, সে সম্পদের শো-অফ করা, আর যারা সৎপথে চলবে, তারা একেবারে মরে থাকবে- এটা তো হতে পারে না। ... দেশের প্রত্যেক মানুষ উন্নত ও সুন্দর জীবনযাপন করবে। এই সুযোগে কিছু সংখ্যক মানুষ সমাজকে বিষাক্ত করবে- এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে এই নির্দেশ (দুর্নীতিবিরোধী অভিযান) দিয়েছি।'
সমাজ থেকে বিষবৃক্ষ উৎপাটনের অভিযান
সফল হোক।
সিনিয়র সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্নেষক
প্রশ্ন উঠছে, দুর্নীতিবিরোধী যে অভিযান, এর শেষ কোথায়? দৃশ্যমান দুর্নীতিবাজদের পেছনে কারা আছেন, তাদের অবস্থা ও অবস্থান কি আরও বেশি শক্ত নয়? শুধু ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের মধ্যেই কি দুর্নীতি সীমাবদ্ধ? মন্ত্রী-এমপি, দলের অন্য প্রভাবশালী নেতা এবং প্রশাসন ও শৃঙ্খলা বাহিনীর যারা চরম দুর্নীতিগ্রস্ত বলে জনশ্রুতি রয়েছে, তাদের ওপর কি খÿ নামবে? দুর্নীতি কি কেবল ক্যাসিনো আর মদ-জুয়ায় সীমাবদ্ধ? এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, দুর্নীতিবাজদের সিন্ডিকেট এতই ক্ষমতাবান যে, দুর্নীতিবিরোধী চলমান অভিযান মুখ থুবড়ে পড়ল বলে! তবে বিশেষ করে ক্যাসিনো কাণ্ডে যার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সেই যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও ১৯৭৪ সালে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করে বেশিদূর অগ্রসর হতে পারেননি দলীয় চাপেই। কারণ আওয়ামী লীগই তখন রিলিফ চুরিসহ নানা ধরনের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল। এই কিছুদিন আগেও মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ইয়াবা বদি নামে পরিচিতি অর্জনকারী কক্সবাজারের দাপুটে সাবেক সংসদ সদস্যের গায়ে টোকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। দুর্নীতি-অপকর্মের সঙ্গে কিছু নাম প্রতীকের মতো হয়ে যায়। এই প্রতীকগুলোকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখে অন্যদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিলে তা মানুষের কাছে তেমন প্রশংসা পায় না। মানুষ দেখতে চায় সবচেয়ে আলোচিত খারাপ মানুষটি রেহাই পায় কি-না! সবচেয়ে খারাপ ব্যক্তিকে রেহাই দিয়ে মধ্য ও নিম্নস্তরের শতজনকে শাস্তির আওতায় আনলেও মানুষ খুশি হয় না। যে কোনো অভিযানের সফলতা নির্ভর করে জনতুষ্টির ওপর।
মানুষের মনে যে সংশয় সেটা সম্ভবত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজর এড়ায়নি। তাই তিনি বলেছেন, 'আমাদের দলের কে, কী- সেটা আমি দেখতে চাই না। আমার আত্মীয়-পরিজন আমি দেখতে চাই না। কে কত বেশি উচ্চবিত্ত, সেটা আমি দেখতে চাই না। অনিয়ম যেখানে আছে, দুর্নীতি যেখানে আছে বা আমাদের দেশকে ফাঁকি দিয়ে যারা কিছু করতে চাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।'
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতি আস্থা রাখা যায়। কারণ তিনি কথার খেলাপ করেন না। তিনি তার অবস্থান থেকে সরে যান না। কৌশলগত কারণে তিনি সাময়িক কিছু নমনীয়তা দেখালেও শেষ পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে হলেও তিনি তার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকন্যা। তার রাজনীতি পিতার অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। তিনি রাজনীতি করেন নিজে কিছু পাওয়ার জন্য নয়। দেশ ও দেশের মানুষকে কিছু দেওয়ার জন্য। তিনি মৃত্যুকে বারবার কাছে থেকে দেখেছেন। তাই তিনি অকুতোভয়ে সামনে এগিয়ে যেতে দৃঢ়সংকল্প।
বঙ্গবন্ধু জানতেন, কারা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে বা করছে। কিন্তু তার হৃদয় ছিল বিশাল, সাহস ছিল দুর্দমনীয়। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে তাই তিনি কঠোরতা না দেখিয়ে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছিলেন। চোরা যে ধর্মের কাহিনী শোনে না- এটাও বঙ্গবন্ধু জানতেন। তারপরও হয়তো বিশ্বাস করেছিলেন, যে বাঙালিকে তিনি স্বাধীন দেশ অর্জনে নেতৃত্ব দিলেন, সেই বাঙালি আর যাই হোক, পিতৃঘাতী হবে না। কিন্তু কিছু কুলাঙ্গার বাঙালি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। শেখ হাসিনা এই বেদনাময় ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। তিনি তার আশপাশে যারা আছেন, তাদের চেনেন, জানেন। তাদের ঠিকুজি তার হাতে থাকার কথা। তাই তিনি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করেন। কারও অন্যায়-অন্যায্য দাবি বা আবদার তিনি রক্ষা করেন না। সেটা হোক দেশের ভেতরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কিংবা দেশের বাইরের কোনো ক্ষমতাধর ব্যক্তি। কিছু সময়ের জন্য লাগাম ছেড়ে দিলেও তিনি জানেন কখন আবার লাগাম টানতে হয়। তিনি আওয়ামী লীগ নামক দলটিকে পুনর্জীবন দিয়েছেন। এই দলের সবলতা-দুর্বলতাও তার নখদর্পণে। বিপদে কারা সঙ্গে থাকে, কারা পালায়, সেটাও তার অজানা নয়। তিনি নানা সময় তার বিচক্ষণতা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন।
দেশ একদিকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে সীমাহীন ধনবৈষম্য সামাজিক স্থিতি বিনষ্টের উপাদান তৈরি করছে। বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর অজ্ঞাত নয়। তিনি বলেছেন, আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া লোকজনের কারণে সামাজিক বৈষম্য বাড়ে এবং সৎভাবে যারা আয়-উপার্জন করেন, তাদের সন্তানরা হতাশায় ভোগেন। শিশুরা তো বুঝতে পারে না, তাই তারা মা-বাবার কাছে জানতে চায়, ওরা যদি দামি গাড়িতে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে পারে, আমরা কেন পারি না? এমন পরিস্থিতিতে একটি সমাজ এগোতে পারে না। এমন পরিস্থিতির অবসানের জন্যই সমাজের বৈষম্যের এ জায়গায় আঘাত দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। এটা করা হচ্ছে সামগ্রিক স্বার্থে।
এটা সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রমাণিত- দেশে কিছু মানুষের হাতে অনেক টাকা জমা হয়েছে। আবার অনেক মানুষের হাতে কোনো টাকাই নেই। টাকা নেই মানে তাদের সঞ্চয় নেই; না ব্যাংকে, না সিন্দুক বা ট্রাঙ্কে। তারা কোনো রকমে বেঁচে আছে। তারা অসহায়ভাবে দেখছে স্বল্পসংখ্যক মানুষের উৎকট ধনস্টম্ফীতি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাই যথার্থই বলেছেন, 'অসৎ উপায়ে অর্জিত অর্থের বাহাদুরি, সে সম্পদের শো-অফ করা, আর যারা সৎপথে চলবে, তারা একেবারে মরে থাকবে- এটা তো হতে পারে না। ... দেশের প্রত্যেক মানুষ উন্নত ও সুন্দর জীবনযাপন করবে। এই সুযোগে কিছু সংখ্যক মানুষ সমাজকে বিষাক্ত করবে- এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে এই নির্দেশ (দুর্নীতিবিরোধী অভিযান) দিয়েছি।'
সমাজ থেকে বিষবৃক্ষ উৎপাটনের অভিযান
সফল হোক।
সিনিয়র সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্নেষক
