বৃষ্টিতে ডুবেছে ক্ষেতের ফসল, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক
অব্যাহত বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে পানিতে তলিয়ে গেছে দিনাজপুরের দেড় হাজার হেক্টরের বেশি ফসলের ক্ষেত। ক’দিন পরে যেসব ধান কাটা ও মাড়াই শেষে কৃষকের গোলায় উঠতো, তা নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা উদ্বেগে রয়েছেন। যদিও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, পানি নেমে গেলে দ্রুত ধান কেটে মাড়াই করে শুকিয়ে নিলে তেমন ক্ষতি হবে না।
সরেজমিন সদর উপজেলার মাঝাডাঙ্গা, হীরাহার, গোসাইপুরসহ কয়েকটি স্থান ঘুরে দেখা গেছে, ফসলের ক্ষেত পানির নিচে। শুধু ধান নয়, মরিচ, বেগুন, ঝিঙেসহ বিভিন্ন সবজিও ডুবে গেছে। কৃষকরা বলছেন, তাদের এবার লোকসান গুনতে হবে। মাঝাডাঙ্গা এলাকার মকবুল হোসেন বলেন, ‘সব শেষ, আমি পঙ্গু হয়ে গেছি। ঋণ নিয়ে পুকুরে মাছ ছেড়েছি। সব ভেসে গেছে। ফসলও পানিতে ডুবে আছে। এখন কষ্টে খাবার মুখে দিতে পারি না। কিস্তি দেব, নাকি খাব? পানি তো বাড়তেই আছে।’ গোলজার হোসেন জানান, তিনি প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছিলেন। সব ডুবে গেছে। সবজি ক্ষেতও ডুবে আছে। সবারই একই অবস্থা। পাকা ধান অঙ্কুরোদগম হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। শাহীন সুর আলমের ভাষ্য, বোরো ধানের আবাদ করে দাম পাননি। এবার আগাম জাতের ধান আবাদ করেছেন। চার-পাঁচ দিনের মধ্যে কাটতেন। সে ধান তলিয়ে গেছে। নেপিয়ার ঘাসের ক্ষেত ডুবে গেছে সদরের হীরাহার এলাকার সোহেল মিয়ার। তিনি জানান, তিন বিঘার মুলা ও কাঁচামরিচের এক বিঘার ক্ষেতও নষ্ট হয়েছে। এক বিঘা জমির বেগুনেরও একই অবস্থা। এ বিষয়ে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুজ্জামান বলেন, ধীরে ধীরে পানি নেমে যাচ্ছে। যেসব ধান পাকা অবস্থায় আছে, পানি নেমে গেলে সেগুলো কেটে ও মাড়াই করে শুকিয়ে নিলে তেমন ক্ষতি হবে না।