ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একটি সেতুর অভাবে ঘুরতে হয় ১০ কিলোমিটার পথ

একটি সেতুর অভাবে ঘুরতে হয় ১০ কিলোমিটার পথ
×

শিবালয়ের বুতনীতে ইছামতী নদী পারাপারে ভরসা নড়বড়ে কাঠের সাঁকো। গতকাল তোলা সমকাল

 শিবালয় (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বুতনী বাজারের সঙ্গে ইছামতী নদী। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন কাজে লোকজনকে প্রতিদিন নদী পেরিয়ে এপারে আসতে হয়। এ ক্ষেত্রে তাদের ভরসা নড়বড়ে কাঠের সাঁকো। কখনও যানবাহনে চেপে যেতে চাইলে তাদের ঘুরতে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ।

একটি সেতুর অভাবে এমন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েক গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনের আগে অনেকে এখানে একটি আরসিসি পিলার সেতু করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এত বছরেও কেউ কথা রাখেননি। ইছামতীতে সারাবছর পানি থাকে। ফলে বাঁশের বা কাঠের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে হয়। বিশেষ করে ছোট শিশুদের স্কুলে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন বুতনী, বেজপাড়া, বিলবোরুল, কাছিধারা, ফেচুয়াধারা, পাড়াগ্রাম, চালিতাবাড়ী, শিমুলিয়া, কোঠাধারা, খালিষা, ঢাকাইজোড়াসহ ১৮-২০টি গ্রামের মানুষকে ইছামতী পাড়ি দিতে হয়। এ ছাড়া শিবালয় ও ঘিওর দুই উপজেলার শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য মানুষের যাতায়াত দুই পারে। সবার ভরসা এই সাঁকো।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি কৃষকদের। তাদের উৎপাদিত ফসল হাট বাজারে বিক্রি করতে হলে রিকশা, ভ্যান বা হ্যালোবাইকে করে প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে আনা-নেওয়া করতে হয়। 
এতে অনেকে পণ্য বাজারে নিতে উৎসাহী হন না। কম দামে এলাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন। শিমুলিয়া ইউনিয়নের কোনো মুমূর্ষু রোগীকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিতে হলে ১০ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে নিতে হয়।

উপজেলার বেজপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম, নয়ন শেখ ও সাবিনা আক্তার বলে, কেউ আমাদের এই নদীতে সেতু করে দিচ্ছেন না। এখানে সেতুর অভাবে আমরা কোনো হ্যালোবাইক বা অটোরিকশায় করে চলাচল করতে পারি না। এই সাঁকো দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না।
স্থানীয় বিএনপি নেতা মনির হোসেন বলেন, সারাদেশে উন্নয়ন হলেও এই ইছামতী নদীর সাঁকোর কোনো উন্নতি হয়নি। ভোটের সময় বিভিন্ন প্রার্থী একটি সেতু করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর কেউ মনে রাখেন না। আমাদের সারাবছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ইছামতী নদীতে একটি সেতু করে দিলে এখানকার ১৮-২০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষের উপকার হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সবজাল হোসেন স্বপন বলেন, আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে সেতু করে দেওয়ার জন্য কয়েকবার আবেদন করেছি। প্রায় চার মাস আগেও সেতুর জন্য আবেদন দিয়েছি। শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাঈদ বলেন, এ এলাকার ১৮-২০ গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ইছামতী নদীতে একটি সেতুর। আমি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে ইছামতী নদীতে সেতু করে দেওয়ার চেষ্টা করব।
শিবালয় উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল রাজ্জাক বলেন, আমরা অনেক প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এর মধ্যে ইছামতী নদীতে সেতুর জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে কিনা তা ফাইল না দেখে বলা যাবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা রানী কর্মকার বলেন, স্থানীয়দের আবেদনটি গুরুত্ব সহকারে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×