ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উল্লাপাড়ায় শ্রমিক ইউনিয়নের নামে কারখানা দখলের চেষ্টার অভিযোগ

উল্লাপাড়ায় শ্রমিক ইউনিয়নের নামে কারখানা দখলের চেষ্টার অভিযোগ
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:১৩ | আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫০

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনের নামে কারখানা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ২০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত পশুখাদ্য উৎপাদন কারখানা আমান ফিড পিএলসিকে ঘিরে এই তৎপরতা চলছে। কারখানার শ্রমিকরা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে একটি চক্র এই চেষ্টা করছে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের অভিযোগ, শ্রম অধিদপ্তরের শ্রম কর্মকর্তা কে এম শহীদ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

তবে কে এম শহীদ জানান, শ্রম অধিদপ্তরের ঢাকার বিজয়নগর অফিসে তাঁর পদায়ন। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। সরকারি চাকরিতে থাকলেও স্থানীয় শ্রমিকদের দেখভালের দায়িত্ব হিসেবে তিনি এর সঙ্গে জড়িত হয়েছেন। শ্রমিকরা তাঁর কাছে দাবি নিয়ে এলে তিনি চোখ বুঝে থাকতে পারেন না। আমান ফিডের বিরুদ্ধে শ্রম আইন না মানার অভিযোগও করেন তিনি।

কারাখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উল্লাপাড়া রেল স্টেশনের পাশেই তাদের এই কারখানায় নিয়মিত শ্রমিক-কর্মচারী রয়েছেন ৩০৫ জন। কাঁচামাল পরিবহন, নামানো-উঠানো এবং উৎপাদিত পণ্য ট্রাকে উঠানোসহ আনুষঙ্গিক কাজে আরও ২৫০ থেকে ৩০০ শ্রমিক অস্থায়ীভাবে কাজ করেন। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিএনপি পরিচয় দিয়ে কিছু লোক কারাখানায় নানা ধরনের অপতৎপরতা শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে ঢাকায় কর্মরত শ্রম কর্মকর্তা কে এম শহীদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রভাব খাটিয়ে ‘আমান ফিড মিল শ্রমিক ইউনিয়ন’ নামের একটি শ্রমিক সংগঠন গঠন করে এবং বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে (বগুড়া–১৫৮০) নিবন্ধন নেয়। যদিও এই সংগঠনের সদস্যরা আমান ফিডের শ্রমিক নন। সংগঠনের সভাপতি করা হয়েছে শ্রম কর্মকর্তা শহীদের ভাইয়ের ছেলে খন্দকার ইয়াসির আরাফাতকে। 

আমান ফিডের মহাব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিনের দাবি, কারখানায় হঠাৎ করেই কে এম শহিদের প্রভাবে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সংগঠন তৈরি করে নিবন্ধন নেওয়া হয়। সরকারি চাকরীজীবী হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজে উপস্থিত থেকে ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট প্রথমবার কারখানায় জোর করে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এরপর ২০২৫ সালে দ্বিতীয়বার এবং সর্বশেষ গত ৯ আগস্ট তৃতীয়বারের মতো প্রতিষ্ঠানে হামলা করেন। কে এম শহীদ নিজে উপস্থিত থেকে এই ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছেন। কারখানার সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও শহীদের উপস্থিতি দেখা গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

সালাউদ্দিন বলেন, হামলাকারীদের হাতে লাঠি, রামদা ও হকিস্টিক ছিল। এ ঘটনায় উল্লাপাড়া মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের বাইরে রেখে বহিরাগতদের দিয়ে গঠিত সংগঠনের নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে শ্রম অধিদপ্তরের বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

ইয়াসির আরাফাত বলেন, বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতেই তাঁরা নিবন্ধন পেয়েছেন। শ্রম কর্মকর্তা কে এম শহীদ এই প্রক্রিয়ায় কীভাবে জড়িত তা তিনি বলতে পারছেন না। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার মিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ শনিবারের বৈঠকে স্থানীয় সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে কে এম শহীদও উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে শ্রম কর্মকর্তা শহীদ বলেন, অফিস থেকে তাঁকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। সিসি ক্যামেরায় তাঁর ছবি দেখার বিষয়টিও সঠিক নয়। নিয়ম মেনেই ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে। আমান ফিড কর্তৃপক্ষ শ্রম আইন মানছে না। তাই তিনি এলাকাবাসীর পক্ষে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদ বলেন, শ্রম কর্মকর্তারা প্রয়োজন হলে অন্য জেলাতেও পরিদর্শন করতে পারে। তবে কে এম শহীদকে সেখানে অফিস থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কি–না সেটা তিনি তাৎক্ষণিক বলতে পারছেন না। 

বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মাদ শহিদুজ্জামান জানান, তিনি এক মাসেরও কম সময় আগে এই পদে এসেছেন। এর আগে কিভাবে শ্রমিক সংগঠনটি নিবন্ধন পেয়েছে তা তিনি জানেন না। আমান ফিডের আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই আমান কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করেছে। এখন আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। 

কারাখানার শ্রমিকরা বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বহিরাগতরা নানা পরিচয়ে কারখানায় সমস্যা তৈরির চেষ্টা করছে। সোহেল রানা, আজম আলী, জাহিদ হোসেন, বাবুল আলীসহ কয়েকজন শ্রমিক সমকাল প্রতিনিধিকে জানান, বহিরাগতরা তাদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। 

এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, আমান ফিড মিলে জটিলতার বিষয়ে তিনি অবহিত। ৯ সেপ্টেম্বর কারখানায় হামলার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। কারখানার অভ্যন্তরীণ জটিলতা নিরসনে শ্রম আদালতে মামলা হয়েছে। মিলের শৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁরা সচেষ্ট রয়েছেন।

উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, আমান ফিড মিলের জটিলতার বিষয়ে তিনি কোনো পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাননি।

আরও পড়ুন

×