সামাজিক ট্রেন্ড নিয়ে বিভ্রান্তির যত কারণ
আবিদ রায়হান
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৩৬
চলতি ট্রেন্ডে গা ভাসিয়েছেন কমবেশি অনেকে। নিজেকে ট্রেন্ডি প্রমাণ করতে গিয়ে অজান্তেই বিপদ ডেকে আনছেন না তো? ন্যানো ব্যানানা, গিবলি ফিকশনের পর সোশ্যাল মিডিয়া এখন সরব ১৯৮০-৯০ দশকের রেট্রো ছবি তৈরিতে। এরপর সেই ছবি নিজের প্রোফাইলে দেওয়া। অনেকে এখন ঝুঁকেছেন এই ট্রেন্ডে।
হঠাৎ আসা সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ডে গা ভাসাতে নেই মানা। কিন্তু এমন ঘরানার আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দিয়েছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা; করেছেন সতর্ক। কারণ, আগামী দিনে এই রকমের ট্রেন্ডের ছবি এআইর সঙ্গে শেয়ার করাটা বিপজ্জনক হতে পারে।
গত কদিন থেকে মূলত চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে এই রকমের রেট্রো ছবি তৈরির মহাসমারোহ চলছে। চারপাশে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়াই কঠিন। গুগল জেমিনি দিয়ে এই রকম ছবি তৈরি হয় অনায়াসে। লাগে না কোনো প্রম্পট বা কোড। চ্যাটজিপিটির এটি ট্রেন্ডের ছবি বেশ ভালো ও নিখুঁত বলেই মত অনেকের। এই প্রযুক্তিতে কারও ছবিতে ধরা পড়ছে পুরোনো দিনের স্টুডিওর আবহ, কেউ আবার সাজছেন আশির দশকের রংচঙে পোশাকে, বড় কোঁকড়া চুলে।
বিপদটা ঠিক যেখানে
সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা ডিপফেক ও চাইল্ড পর্নোগ্রাফি। কারও আসল ছবি ব্যবহার করে এমন ট্রেন্ডি ভিডিও তৈরি করা যায়, যেখানে তিনি আসলে কখনও ছিলেন না বা কখনও যা করেননি, সেটাই তাকে দিয়ে করানো হয়েছে বলে মনে হতে পারে। ডিপফেকের এটি প্রধান সমস্যা। এর আগে বিশ্বের অনেক তারকা, বিখ্যাত রাজনীতিবিদ ও জনপ্রিয় খেলোয়াড়ের ছবি ডিপফেকের মাধ্যমে একাধিক ইনভেস্টমেন্ট ফ্রডের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এআইয়ে ছবি আপলোড করার অর্থ হলো– এটি কারও নিজের ডিভাইসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না।
এই পরিষেবা তথ্য ব্যবস্থাপনা নীতিতে আটকে থাকছে না। ফলে খুব সহজে ওই ছবি ব্যবহার করে ফেক প্রোফাইল তৈরির মাধ্যমে প্রতারণার কাজে ব্যবহার করতে পারে সাইবার প্রতারকরা। অনেক কিশোর-কিশোরীর ছবি এ ক্ষেত্রে এআইকে দেওয়ার অর্থ, যে কোনো সময় এআই মডেল হিসেবে সেই ছবির অপব্যবহার করার পথ তৈরি করে দেওয়া। আরেকটি বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকের ধারণা, নিজের বাড়ির যে কোনো জায়গা থেকে সেলফি তুলে অনেকেই তা আপলোড করছেন দেদার।
এতে ওই ছবি থেকে অজ্ঞাতে বাড়ির ভেতরের অনেক তথ্য বেহাত হয়ে পড়ছে। সহজেই শনাক্ত করা যায় ব্যবহৃত ডিভাইসের লোকেশন। এর থেকে কাউকে ট্র্যাক করা বেশ সহজ। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি রয়েছে অন্য আরেকটি জায়গায়। অনেক সাইবার বিশেষজ্ঞ বলছেন, প্রযুক্তি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে প্রতারণা এড়াতে আগামীতে পাসওয়ার্ডের ধারণা বদলে যেতে পারে। ডিজিটের বদলে জনপ্রিয় হবে পাস-কি। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ইমেইল– এমনকি কয়েক ধরনের ক্লাউড পরিষেবায় লগইন করার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক হবে এই পদ্ধতি। সিকিউরিটি সিস্টেমে পাস-কির জন্য মুখের ছবি বা আঙুলের ছাপ প্রয়োজন হবে। বলা তো যায় না, আজ এআইকে দেওয়া ছবির ইমেজ অ্যানালিটিকসের মাধ্যমে সেই ছাপ দিয়ে কয়েকটি জরুরি পরিষেবার সুরক্ষা সহজে ভেদ করে ফেলতে পারে। তাই না বুঝে ট্রেন্ডে ঝুঁকে যাওয়ার আগে ক্ষাণিক সতর্ক হতে তো দোষ নেই।
- বিষয় :
- চ্যাটজিপিটি