নারীর কর্মসংস্থান

চরাঞ্চলে জ্বলুক আশার আলো

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০১৯      

অনগ্রসর 'চরাঞ্চলের নারীদের জন্য সরকারের নতুন উদ্যোগ'কে আমরা স্বাগত জানাই। এর ফলে ৩৪ হাজার পরিবারের কর্মসংস্থান হবে বলে বুধবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদন উৎসাহব্যঞ্জক। দক্ষিণাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গ্রামীণ জনপদে হাঁস, মুরগি ও ভেড়ার ক্ষুদ্র খামার গড়ে তোলার মাধ্যমে ইতিবাচক ফল আসবে বলেই আমরা মনে করি। আমরা দেখেছি, গ্রামের মানুষ বিশেষত নারীর জীবন পরিবর্তনে গবাদি পশুর ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রকৃতির সঙ্গে মিতালি করে চলা গ্রামীণ নারীর সাহস আমরা দেখেছি; নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ সত্ত্বেও তারা বারবার ওঠে দাঁড়ায়।

তাদের সাহস, বুদ্ধিমত্তা ও কর্মঠ মনোভাব আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকে অবদান রেখে চলছে। এসব নারী উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত হলে তার সুফল সমাজে বৃহত্তর অর্থে রাষ্ট্রে পড়বে বলেই আমাদের বিশ্বাস। গত মে মাস থেকে তিন বছরমেয়াদি এ পাইলট প্রকল্প প্রাথমিকভাবে বরিশাল ও চট্টগ্রামে ৬৮টি ইউনিয়নে চলবে বলে সমকালে প্রকাশ। এ লক্ষ্যে সুবিধাভোগী বাছাই ও দেড় হাজার মানুষকে ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টিও প্রকল্পটির শুভসূচনা বলেই আমরা মনে করি। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, প্রকৃতই অভাবী ও যাদের জীবনমান উন্নয়ন দরকার, তাদের বাছাই করা হয়েছে। গ্রামীণ নারীরা হাঁস-মুরগি ও পশুপালনের বিষয়টি জানলেও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা নতুন কৌশল জানা ও অধিক পরিমাণে উৎপাদনে তা ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে পারে। নারীরা যে হাঁস-মুরগি, ভেড়া, কবুতর পাচ্ছে, সেগুলো লালন-পালন করে পরিবারের অর্থ উপার্জনে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারার মধ্যেই প্রকল্পটির সার্থকতা। প্রকল্পটি নারীর কর্মসংস্থানই নয়, তার ক্ষমতায়নেও ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা মনে করি। আমরা দেখতে চাই, প্রকল্পটির ইতিবাচক উদাহরণ পরিবার, সমাজ ও দেশে সম্প্রসারিত হয়েছে। আমাদের প্রাণিজ উৎপাদন বাড়াতে প্রকল্পটি নিঃসন্দেহে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। প্রকল্পটির সূচনা যেভাবে শুভ হয়েছে, তেমনি তা টেকসই হলেই দীর্ঘমেয়াদে তার প্রভাব পড়বে। দেশের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য আরও অভিনব প্রকল্প চাই। বিশেষ করে চরাঞ্চলেই মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়া যায় কি-না, সেটিও ভাবা যেতে পারে।