ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাকের ইশারায় চলে কুবি শিক্ষার্থীর হুইলচেয়ার

নাকের ইশারায় চলে কুবি শিক্ষার্থীর হুইলচেয়ার
×

নিজের তৈরি বিশেষায়িত হুইলচেয়ারের পাশে শিক্ষার্থী সাকিরুল ভূঁইয়া উদয় সমকাল

আনিসুর রহমান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় 

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

নাকটা একটু ডানে ঘোরাতেই হুইলচেয়ারটিও ঘুরে গেল সেদিকে। আবার নাক বামে নিতেই বদলে গেল চলার দিক। হাত দিয়ে চাকা ঠেলার প্রয়োজন নেই। সামনে হঠাৎ কোনো বাধা এলেও থেমে যাবে নিজে থেকেই। শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের চলাচল সহজ ও স্বনির্ভর করার লক্ষ্যেই এমন বিশেষ হুইলচেয়ার তৈরি করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থী সাকিরুল ভূঁইয়া উদয়।
সাকিরুল ইসলাম কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬-এ নজর কেড়েছে তার এই আবিষ্কার।

সাকিরুল জানান, সাধারণ হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে গিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষকে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তা কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এর নকশা করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা হাত দিয়ে হুইলচেয়ার চালাতে পারেন না, তাদের জন্য এটি বিকল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে।
হুইলচেয়ারটির নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়েছে ওয়েবক্যাম। মুখ হা করলে চালু হয় এটি। ব্যবহারকারীর মুখ ও নাকের নড়াচড়া শনাক্ত করে। ব্যবহারকারী নাক যেদিকে নেবেন, হুইলচেয়ারও সেদিকেই চলবে। ফলে হাতের ব্যবহার ছাড়াই নিজের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

শুধু দিক পরিবর্তন নয়, নিরাপত্তার বিষয়টিও রাখা হয়েছে এতে। হুইলচেয়ার চলার সময় সামনে কোনো বাধা এলে আল্ট্রাসনিক সেন্সর তা শনাক্ত করবে। এরপর হুইলচেয়ারটি থেমে যাবে। এতে ব্যবহারকারীর চলাচল তুলনামূলক নিরাপদ হওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি ছোট নড়াচড়ার জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীলতাও কমানোর সুযোগ রয়েছে।
হুইলচেয়ারটিতে চলাচলের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে হার্ট রেট, পালস ও শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করা যায়।
সাকিরুল ইসলাম বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের সমস্যাকে সামনে রেখেই এই উদ্ভাবনের ভাবনা আসে। প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের চলাচল আরও সহজ ও স্বনির্ভর করা 
সম্ভব– এই চিন্তা থেকেই হুইলচেয়ারটি তৈরি করা হয়েছে।
জানা যায়, রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে গত ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। এতে সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্বতন্ত্র গবেষক, শিক্ষার্থী, স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন। মেলায় এক হাজারের বেশি নতুন ও সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হয়।

আরও পড়ুন

×