ওয়েবিনারে সানেমের চেয়ারম্যান
সামাজিক সুরক্ষা কম পাচ্ছে শহুরে গরিবরা
সানেম চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বজলুল হক খন্দকার। ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২২ | ১০:৫২ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২২ | ১০:৫২
গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেশন অব ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বজলুল হক খন্দকার বলেছেন, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় শিশু, কিশোর এবং শহরের গরিব মানুষ সরকারের যথেষ্ট মনোযোগ পাচ্ছেন না। তাঁরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ কারণে দারিদ্র্য অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে তাঁদের বেগ পেতে হচ্ছে। অন্যদিকে বয়স্কদের জন্য সরকারি সহায়তা যতটা দরকার, তার চেয়ে বেশি খরচ করছে সরকার।
বৃহস্পতিবার 'সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী :বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে' ওয়েবিনারে 'বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা :বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার' শিরোনামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি।প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক বলেন, গ্রামের ৩৫ দশমিক ৭০ শতাংশ মানুষ দরিদ্র। এদের ২৬ দশমিক ৪০ শতাংশ সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষার ব্যয় বরাদ্দের আওতায় থাকেন। অন্যদিকে শহরের ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করলেও এদের মাত্র ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ সরকারের সামাজিক সুরক্ষার সহায়তা পান।
বজলুল হক খন্দকার বলেন, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর মাধ্যমে একটি দেশের সুবিধাবঞ্চিত, অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিভিন্নভাবে সুরক্ষা দেওয়া হয়। এ কর্মসূচিগুলোর জন্য প্রকৃত উপকারভোগী নির্ধারণে অসামঞ্জস্যতা আছে।
সানেমপ্রধান বলেন, একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়, যা তাঁর চিকিৎসা, খাবার ও অন্যান্য খরচ বিবেচনায় নিতান্তই কম। তিনি জানান, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৯ শতাংশ শিশু। তবে পেনশনের আওতায় নেই এমন পরিবারের শিশুদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার ব্যয় বরাদ্দ মাত্র এক দশমিক ৬০ শতাংশ।
আবার জনসংখ্যার ২৮ শতাংশ কিশোর-কিশোরীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা খাতে ১৩ শতাংশ ব্যয় হয়। কর্মক্ষম মানুষ দেশের জনসংখ্যার ৫৬ শতাংশ। এদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা খাতের ১৩ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে। আবার জনসংখ্যার ৮ শতাংশ বয়স্ক হলেও এদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা খাতের ব্যয় বরাদ্দের ৭২ শতাংশ খরচ করছে সরকার।
গবেষণা সংস্থাটির প্রধান বলেন, ডেনমার্ক, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সের মতো দেশে প্রশাসনিক ব্যয় বরাদ্দ থাকে জিডিপির তুলনায় ১ দশমিক ৪০ থেকে ১ দশমিক ৬০ শতাংশ। এসব দেশে সামাজিক সুরক্ষা খাতের ব্যয়ে উদ্দেশ্য পূরণও বেশি। ইউরোপের মাল্টা, রোমানিয়া এক্ষেত্রে জিডিপির তুলনায় শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ প্রশাসনিক ব্যয় করে এবং সেখানে এর উপকারও কম মিলছে। বাংলাদেশের এ খাতে প্রশাসনিক ব্যয় কম।
বজলুল হক খন্দকার বলেন, সরকারের সামাজিক সুরক্ষাবেষ্টনীর মূল স্লোগান হলো- 'কেউ পিছিয়ে থাকবে না'। স্লোগানটি চমৎকার, কিন্তু এর বাস্তবায়ন কঠিন। সামাজিক সুরক্ষা খাতের উদ্দেশ্য পূরণে বেশি দরকার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি।
- বিষয় :
- সানেম
- বজলুল হক খন্দকার
- শহরের গরিব